২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হজ নিবন্ধন সারা বছর- প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন রিপোর্টার ॥ হজযাত্রীদের নিবন্ধন নিয়ে জটিলতা এড়াতে সারা বছর ‘রেজিস্ট্রেশন’ চালু করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “হজের রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটা সময় নির্দিষ্ট করা হয়। একটা তাড়াহুড়ো পড়ে যায়। কিন্তু সারা বছর ধরে যদি এই রেজিস্ট্রেশন চলে এবং সৌদি সরকার যদি ঠিক করে দেয়- কতজন আমরা পাঠাতে পারব, সেখান থেকেই লটারি করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবছর নিবন্ধন হলে আগ্রহীরা ধীরস্থিরভাবে অনলাইনে ‘রেজিস্ট্রেশন’ করে রাখতে পারবেন। এতে হজ ব্যবস্থাপনা আরও ‘সহজ ও গতিশীল’ হবে।

আশকোনা হজক্যাম্পে এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের হজ বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল http://www.hajj.gov.bd এর আধুনিকায়নের কথা তুলে ধরেন এবং আগামীতে মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে হজ সংক্রান্ত তথ্য সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলেন।

চলতিবছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজ করতে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুই হাজার ৭৫৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯৯ হাজার ৪ জন হজে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে হজযাত্রীদের টিকা দেওয়া শুরু করেছে।

হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও ক্লিনারসহ ২৭২ জনের একটি অগ্রবর্তী দল আগামী ১৬ অগাস্ট সৌদি আরবে পৌঁছাবে।

এছাড়া মক্কা, মদীনা ও জেদ্দায় হজ্জযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ৩৫ সদস্যের একটি প্রশাসনিক দল ১৬ অগাস্ট সৌদি আরবে পৌঁছাবে। ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধি দল হজের আগেই সৌদি আরবে যাবে এবং বাংলাদেশিদের হজ কার্যক্রম তদারক করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এবার বাংলাদেশ বিমানের তিনটি উড়োজাহাজে হজযাত্রীদের আনা নেওয়া করা হবে। ১৬ অগাস্ট বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। হজ শেষে বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে শুরু করবেন ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে।

এবারও ঢাকায় পৌঁছে বিমানবন্দরে জমজমের পানি পাবেন হাজীরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ যদি হাজীদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য জেদ্দা হজ টার্মিনালে ‘প্লাজা’ ভাড়া করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এতে হজ প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক দল এবং আইটি সেবার সদস্যদের সেবা দেওয়াও সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান জানান, মক্কায় হারাম শরীফ সংস্কারের জন্য সৌদি সরকার এবার সব দেশ থেকেই অন্যবারের তুলনায় ২০ শতাংশ কম লোককে হজের সুযোগ দিচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ‘দেশের সুনাম ধরে রাখার’ পরামর্শ দিয়ে হজযাত্রীদের বলেন, “আমরা আমাদের একটু ভুলের জন্য ওমরাহ হজ নিয়ে জটিলতায় পড়েছিলাম। এবার হজে আমরা জাতি হিসেবে সুশৃঙ্খলতার পরিচয় দেব, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান। অন্যদের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বি এইচ হারুন, সাংসদ সাহারা খাতুন এবং বাংলাদেশে সৌদি দূতাবাসের শার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স আল হাসান আলী আল হাজমী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।