২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্ধ হয়ে যেতে পারে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ নাব্যতা সংকটে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি পারাপারে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। যে কোন সময় এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানির অভাবে সপ্তাহ খানেক ধরে বন্ধ রয়েছে রো রো ফেরি চলাচলা। অন্যান্য ফেরিগুলোও চলছে ঝুকি নিয়ে। সীমিত আকারে ফেরি চালাচলে ঘাটে দেখা দিয়েছে বিশাল যানজট। এতে যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

শিমুলিয়া ঘাটস্থ বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এসএম আশিকুজ্জামান জানান, নৌরুটের মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মায় শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে লৌহজং টানিং পয়েন্টের কাছে বিশাল এলাকা জুড়ে ডুবো চরের সৃষ্টি হয়েছে। টানিং পয়েন্টের ওই চ্যানেলের মুখে পানি রয়েছে মাত্র ৫ সাড়ে ৫ ফিট। যা দিয়ে রো রো ফেরি চলাচল সম্ভব নয়। একটি রো রো ফেরি চলতে হলে সর্ব নিন্ম সাড়ে সাত ফিট পানির প্রয়োজন। চ্যানেলে পানি স্বল্পতার কারণে গত শনিবার হতে ৪টি রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যম আকৃতির ৫টি কে টাইপ ফেরিও চলছে ঝুকি নিয়ে। ফেরিগুলো নৌপথ পাড়ি দেবার সময় পদ্মার ওই টানিং পয়েন্টে নদীর তলদেশে কখনও কখনও আটকে যাচ্ছে পদ্মার বুকে। এতে করে ফেরির প্রপেলারসহ ই্িজনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নাব্যতা সংকট কাটিয়ে উঠতে বিআইডব্লিউটিসি বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে করে ফেরি পারাপার চালু রাখা যায়।

তবে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ভরা এ বর্ষায় নৌ চ্যানেলে পানি স্বল্পতার কারণে যে কোন সময় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিকল্প পথে ফেরি চলাচলের জন্য এখনও কোন সার্ভে কাজ শুরু হয়নি। তাই আর কিছু দিন পরে যখন পানি কমতে শুরু করবে তখন সব ফেরিই এ পথে চলাচল বন্ধ হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ দিকে ফেরি চলাচল সচল রাখতে নৌ পথে ড্রেজিং চালু থাকলেও প্রচন্ড ¯্রােতের সাথে উজান থেকে পলি এসে ড্রেজিংকৃত নৌপথ আবারো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপ পরিচালক এসএম আজগর আলী জানান, নৌপথ সচর রাখতে বৃহস্পতিবার হতে লৌহজং টানিং পয়েন্টের ওই এলাকায় তিনটি ড্রেজার কাজ করে চলেছে। আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যে এখানে পানির গভীরতা আট ফিটে ফিরিয়ে আনা হবে। এর পরে চ্যানেলের একপাশ দিয়ে ফেরি চলবে আর অপর পাশে চলবে ড্রেজিং কাজ। এভাবে চ্যানেলটি সচল রাখা হবে। তবে এ চ্যানেলের বিকল্প অন্য কোন চ্যানেল চালু করার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছেনা কর্তৃপক্ষ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যেই সকল ধরণের ফেরি চলাচল করতে কোন প্রকার অসুবিধা হবেনা।