১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সর্বোচ্চ গোলদাতা ॥ এমেকা-বাঙ্গুরা-ওয়ালসনের ত্রিমুখী লড়াই

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ খেলা হবে ২২ রাউন্ডে মোট ১১০টি। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে ১০৪ ম্যাচ। আরও বাকি আছে ৬ ম্যাচ। সেই হিসেবে ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবলের পর্দা নামার সময় ঘনিয়ে আসতে আর বেশি বাকি নেই। লীগ শেষ হবার আগেই এই লীগের শিরোপা জিতে নিয়েছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড। এখন রানার্সআপ হওয়ার লড়াই চলছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের মধ্যে। তবে লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা কে হচ্ছেন, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। সেখানে চলছে হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াই। এরা হলেন এমেকা ডার্লিংটন, ইসমাইল বাঙ্গুরা এবং অগাস্টিন ওয়ালসন।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লীগে ১০৪ ম্যাচে মোট গোল হয়েছে ৩১৬টি। দলগত সবচেয়ে বেশি গোল করেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল ধানম-ি, ৫৮টি। আর সবচেয়ে কম গোল করেছে ১১ দলের মধ্যে দশম স্থানে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড, ১২টি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, লীগে ব্যক্তিগতভাবে যারা কমপক্ষে দুই অঙ্কের গোল করেছেন, তাদের সাত জনের মধ্যে ছয় জনই হচ্ছেন বিদেশী, চার জনই আফ্রিকান এবং তিন জনই শেখ জামালের!

সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আপাতত এক নম্বরে আছেন এমেকা ডার্লিংটন। শেখ জামালের নির্ভরযোগ্য এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড করেছেন ১৮ গোল। যার মধ্যে আছে একটি হ্যাটট্রিকও। গত ৬ জুলাই, ফেনী সকারের বিপক্ষে জামাল ৬-২ গোলে জয়ী হয়। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন এমেকা। যদিও সার্বিকভাবে চলমান লীগে এমেকার গোল হতে পারতো ২০টি! দুটি ভিন্ন খেলায় রেফারি বিস্ময়করভাবে তার করা দুটি গোল দিয়ে দিয়েছেন অন্যদের! তাছাড়া লালকার্ড পাওয়ায় এমেকা খেলতে পারেননি একটি ম্যাচে।

এমেকার আগে শীর্ষ গোলদাতার আসনে ছিলেন তারই ক্লাব সতীর্থ, হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন এ্যানসেলমে। তার গোলসংখ্যা ১৭। জামালের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলে সেই সুযোগে তাকে টপকে যান এমেকা। ওয়েডসনেরও এই লীগে একটি হ্যাটট্রিক আছে। গত ২৮ জুন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফরাশগঞ্জকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শেখ জামাল। ওয়েডসন হ্যাটট্রিকসহ করেন চার গোল। উল্লেখ্য, গত ২০১৩-১৪ মৌসুমের লীগে ২৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ওয়েডসন। মাত্র ১ গোলের জন্য স্পর্শ করতে পারেননি ১৯৮২ লীগে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের প্রখ্যাত ফরোয়ার্ড আব্দুস সালাম মুর্শেদীর ২৭ গোলের রেকর্ডটি। জামালের বাকি আছে আর এক ম্যাচে। ওই ম্যাচের আগে ওয়েডসন ফিরে এলে এবং খেললে হয়তো পরিসংখ্যান পাল্টাতে পারে। কিন্তু ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, সেই সম্ভাবনা খুবই কম। সেক্ষেত্রে ধরে নেয়া যেতে পারে ওয়েডসনের শীর্ষ গোলদাতা হওয়ার সম্ভাবনা এখানেই শেষ।

তবে ভাল সম্ভাবনা আছে আরেকজনের। গোলসংখ্যা ১৭। গিনির ফরোয়ার্ড। খেলেন মোহামেডানের হয়ে। নাম ইসমাইল বাঙ্গুরা। অনেকেই মজা করে বলেন, ‘বাঙ্গুরার প্রিয় ফল জাম্বুরা!’ কদিন আগে বাঙ্গুরা আলোচনায় আসেন তিন বিদেশী ফুটবলারের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পাওয়ার খবরে। পরে অবশ্য বাফুফে ওই প্রক্রিয়া স্থগিত করে। এই লীগে বাঙ্গুরারও আছে একটি হ্যাটট্রিক (১৬ মে, বিপক্ষ: রহমতগঞ্জ, ফল: মোহামেডান ৫-০ গোলে জয়ী)।

এবারের লীগে ওয়েডসন ও এমেকার আগে অনেকটা সময় ধরে এক সম্বর গোলস্কোরার ছিলেন ব্রাদার্সের অগাস্টিন ওয়ালসন। এমেকার মতো লালকার্ড পাওয়ায় এক ম্যাচ খেলতে পারেননি এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড। ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা, পরের মৌসুমে জামাল-রাসেল, মোহামেডান-আবাহনীর মতো আরও বড় দলে খেলতে দেখা যাবে তাকে। লীগে অগাস্টিনও করেছেন একটি হ্যাটট্রিক (২৪ এপ্রিল, বিপক্ষ: মুক্তিযোদ্ধা, ফল: ব্রাদার্স ৫-২ গোলে জয়ী। এ ম্যাচে অগাস্টিন একাই করেন চার গোল)।

এছাড়া ১৩ গোল করে তালিকার যুগ্মভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন এনামুল হক। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের এই অধিনায়ক-ফরোয়ার্ডের এই ১৩ গোল হচ্ছে চলমান লীগে দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এনামুলের কৃতিত্ব আরেকটি আছে। তা হলো, এই লীগে অধিনায়ক হিসেবে তিনিই সবেচেয়ে বেশি গোল করেছেন।

এনামুলের সমান ১৩ গোল করেছেন আরেকজন। তিনি শেখ জামালের গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার। তালিকায় তিনিই একমাত্র মিডফিল্ডার। এছাড়া দুই অঙ্কের গোল করেছেন আরও একজনÑ মোহামেডানের নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা (১০)। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৬ ম্যাচে কে কয়টি গোল করে জিতে নিতে পারেন লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাবটি।