২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবারও সময় পেল নিজ ক্যাম্পাসে যেতে ব্যর্থ বেসরকারী ভার্সিটিগুলো

  • ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবস্থান জানানোর নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ব্যর্থ হওয়া বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবারও সময় পেল। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবতা বিবেচনা করে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার। আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ঘোষণা দিয়েছে, ‘কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন অবস্থায় রয়েছে’ তা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানাতে হবে। বৃহস্পতিবার ইউজিসিতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন পর্যায়ে আছে তা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানাবেন। বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেব।

এর আগে গত বছর এক বৈঠকে যেসব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সাত বছর পার হওয়ার পরও নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়নি, তাদের এ বছরের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ক্যাম্পাসে না গেলে সাময়িক সনদ বাতিল এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেয়া হয়েছিল। মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে মোট ৮৩টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। সাত বছর ধরে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে এমন ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৭টি সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে। ২৭টি আংশিক স্থানান্তর করেছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপাচার্যরা ক্যাম্পাস স্থানান্তরের জন্য আরও সময় দেয়ার দাবি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে বাজেটে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারকিতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে বছরে এক লাখ করে টাকা নেয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করতে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন শিক্ষামন্ত্রী। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম। উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক সর ড. দিল আফরোজা বেগম, সচিব ড. মোঃ খালেদ, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মোঃ সামছুল আলম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক আব্দুর রেজ্জাক, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোঃ মীজানুর রহমান প্রমুখ। বৈঠকে ৭৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক আবদুল মান্নান জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৩ শতাংশ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে জানিয়ে বলেন, যেহেতু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রীধারী শিক্ষার্থীরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে সেহেতু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এই মুহূর্তে ১৭টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে স্থায়ী শিক্ষা ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ট্রাস্ট/ফাউন্ডেশনের জমিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৭টি, নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নির্মিত ভবনে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৯টি, নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। অবশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জমি ক্রয় করে ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও উপাচার্যরা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট এবং মনিটরিং ফি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ সরকারের কাছে প্রতিটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক একর করে জমি দেয়ার দাবি জানান। ইউজিসির আর্থিক এবং আইনী ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ইউজিসি যেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর আরও তদারকি করতে পারে।

ঢাকার উপকণ্ঠে একটি খেলার মাঠ করে তা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়ারও দাবি জানান তিনি। যেসব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত সিন্ডিকেট ও এ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে না, তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গবর্নর বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লাভ করার সুযোগ নেই। শিক্ষাকে পণ্য করার কোন উপায় নেই।