২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংস্কৃতির হাত ধরে

বাংলাদেশের বাঙালীর সংস্কৃতি নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এই জাতিটিকে তিনি স্বাধীন হিসেবে গড়ে তোলার আন্দোলনে বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও বাঙালী সংস্কৃতিকে সম্মুখে নিয়ে এসেছিলেন। আর সেই সময়ে বাঙালীর সংস্কৃতির রূপরেখাও নির্ধারণ করেছিলেন। সাংস্কৃতিক আন্দোলন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে প্রসারিত করে বাঙালী জাতির জীবনে নবজাগরণ তৈরি করেছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ পাকিস্তানী বিজাতীয় ভাবধারায় আবিষ্ট থেকে এক খিচুড়ি সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করেছিল। সে সব ধোপে টেকেনি। সংস্কৃতি মানুষের আত্মীয়তাবোধকে প্রসারিত করে। কিন্তু একালে সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত বাহু মেলছে না বলেই সমাজে নানা অসঙ্গতি বিস্তার লাভ করেছে। মানুষের আত্মজাগরণবোধ বিলুপ্ত হচ্ছে যেন। যেখানে আনন্দের অভাব; সেখানে সুস্থ সমৃদ্ধ জীবন গড়ে উঠতে পারে না। সংস্কৃতি জীবনের ভিটামিনসম যদিও।

কালের গতি অবিরাম। সে চলছে এগিয়ে। মানুষ পড়ছে পিছিয়ে। আশা করা গিয়েছিল, কালের অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের ক্রমোন্নতি হবে। সভ্য মানুষ সভ্যতর হবে। তা হয়নি। বরং উল্টোটাই হয়েছে। আগের তুলনায় আজকের মানুষ আচারে, ব্যবহারে, রুচিতে বেশ একটু নিম্নগামী বলে মনে হয়। স্বভাবটা হয়েছে স্থূল। চোখের সামনে নানা অবাঞ্ছিত অসহনীয় ব্যাপার ঘটতে দেখেও দিব্যি নির্বিকার থাকতে পারে। ১৯৭১-এর গণহত্যায় ও যুদ্ধে এতো লোকক্ষয়, এতো সম্পদ নাশ, মানুষের অশেষ দুঃখ-দুর্দশা দেখে-শুনে আর শরণার্থী জীবনের দুঃসহ বেদনাময় সময় ও নানা অমানুষিক কার্যকলাপও মানুষের গা-সহা এবং মন-সহা হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার পরও। তবে তা ছিল সাময়িক। তখন গুপ্ত হত্যায় সশস্ত্র চরমপন্থীরা শ্রেণীশত্রুর নামে মানুষ খতম করতো প্রকাশ্যে নির্যাতন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বাংলা ভাই’-এর হত্যার চেম্বার মানুষকে আতঙ্কিত করতো। গণপিটুনি ও নির্যাতন করে শিশু হত্যার হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার যে নারকীয় ও বীভৎস রূপ এখন প্রকাশিত হচ্ছে, তা থেকে ফেরানোর উপায় সর্ব পর্যায়ে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির বিকাশ ও বিস্তার। দেশের ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমগুলো এক্ষেত্রে যে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে, তা বলা যাবে না। বরং এই প্রচার মাধ্যমগুলো মানুষের নৈতিক শিক্ষার ভিতকে পোক্ত করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা পালন করছে, এমনটা বলা যাবে না। বিদেশী টিভি মাধ্যম অপরাধের মাত্রা বাড়াতে যথেষ্ট সহায়ক। তদুপরি গ্রাম পর্যায়ে যে ইন্টারনেট পৌঁছেছে, তার যথাযথ ব্যবহারের প্রতি আকৃষ্ট করা না গেলে অপরাধী হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। অনেক কিছুই আছে নেটে যা অপরাধ জগতের দিকে ঠেলে দিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। এমনিতেই মনের বিকার সব জিনিসকেই বিকৃত করে দেখে। এই বিকার থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার বা করার জন্য সুস্থ ধারার সংস্কৃতির প্রসার অত্যাবশক।

মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও পশ্চাদপদতা ফিরিয়ে আনার জন্য যারা তৎপর, তারা বাঙালীর স্বাভাবিক ও সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আসছে। এদের ধর্মীয় রাজনীতি অন্ধতাজাত নয়, মতলবীদের কুমতলবের সৃষ্টি। বাঙালী জাতি হিসেবে এদের হাতে ভুক্তভোগী আজও। এদের পরিকল্পিত অপপ্রচারের বিপরীতে দাঁড়ানোর জন্য সংস্কৃতির বিস্তার ঘটানো জরুরী। এমনিতে ধর্মের নামে অধর্ম, রাজনীতির নামে দুর্নীতি, শিক্ষার নামে অশিক্ষা-কুশিক্ষা, জঙ্গীবাদের সশস্ত্র তৎপরতা চলছে। তদুপরি গ্রেনেড ও পেট্রোল বোমা হামলা নামক জঙ্গীবাদী সংস্কৃতির মূলোৎপাটন জরুরী। রাজনীতি ও সংস্কৃতি একই জীবনের দু’রকম উৎসারণ, তাই সংস্কৃতিকে সঙ্গে নিয়ে এগুতে হবে জঙ্গী মোকাবেলায়। জনগণকে সচেতন করতে সাংস্কৃতিক কর্মসূচী গ্রাম পর্যায়েও নেয়া হোক।