২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রীলঙ্কায় তামিল বন্দীদের ওপর নির্যাতন চলছেই

  • ব্রিটিশভিত্তিক দাতব্য সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশ

শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনী তামিল বন্দীদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। এমনকি জানুয়ারি মাসে নির্বাচিত সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা এই দমন নিপীড়ন বন্ধের অঙ্গীকার করলেও তা চলছেই। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম ফ্রম টর্চারের (এফএফটি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর গার্ডিয়ানের ১৭ আগস্ট শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনের চারদিন আগে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হলো।

তামিলদের ওপর সরকারের এই নির্যাতন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সিরিসেনা এই নির্বাচনে তার পূর্বসূরি মাহিন্দ রাজাপাকসের প্রত্যাবর্তন প্রতিরোধে সচেষ্ট। ২০০৯ সালে তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করার পর রাজাপাকসে সরকারের বিরুদ্ধে বন্দী তামিলদের ওপর পরিকল্পিত নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়। দাতব্য সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাজ্য থেকে শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসা তামিলদের এক- তৃতীয়াংশই নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কারণ রাজনৈতিক আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তাদের কেউ কেউ ফিরে আসতে বাধ্য হয়। ‘টেইনটেড পিস : টর্চার ইন শ্রীলঙ্কা সিন্স মে টু থাইজেন্ড নাইন’ শীর্ষক এফএফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্যাতনের ১৪৮টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ নির্যাতনের ঘটনা রাজাপাকসের আমলে ঘটেছিল।

তবে দাতব্য সংস্থাটি বলেছে, তারা ২০১৫ সালেও শ্রীলঙ্কার তামিলদের কাছ থেকে নির্যাতনের নিয়মিত তথ্য পাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার নতুন নেতৃত্বকে সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার কায়েমী স্বার্থের মোকাবেলা করতে হবে। কারণ গৃহযুদ্ধ চলাকালে এবং এটি শেষ হওয়ার পর থেকে ছয় বছর পর্যন্ত যে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সঠিক পর্যালোচনায় তারা বাধা দিয়ে আসছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তামিলদের পেটানো, পুড়িয়ে দেয়া, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন নির্যাতন, দম বন্ধ করে রাখা, বৈদ্যুতিক শক, মৃত্যুদ- কার্যকরের ভয় দেখানো ও ছুরিকাঘাত, এমন সব নির্যাতন চালানো হতো। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ বন্দীকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বন্দীদের ভোঁতা যন্ত্র, সিমেন্ট ভর্তি পাইপ ও পিস্তলের বাঁট দিয়ে পেটানো হয়। প্রায়ই তাদের দুই হাত-পা বেঁধেও পেটানো হয়। এফএফটি বলেছে, তারা এই রিপোর্টটি লন্ডনে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার দূতাবাসে মঙ্গলবার জমা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে দূতাবাস থেকে কোন মন্তব্য করেনি।