২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের ২২ লাখের মধ্যে সাত লাখই অবৈধ যানবাহন

  • সড়ক নিরাপত্তায় নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি ;###;সেমিনারে নিরাপদ সড়ক নির্মাণ চালক প্রশিক্ষণ ও পথচারী সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে বর্তমানে ২২ লাখ যানবাহন চলাচল করলেও এর মধ্যে মাত্র ১৫ লাখের বৈধ লাইসেন্স আছে। বাকি সাত লাখই অবৈধভাবে চলাচল করছে। গত এক বছরে সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কাগজেপত্রে কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি। তাই সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে সড়ক পরিবহন ও যান চলাচল বিষয়ে আইন করার ক্ষেত্রে সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর এছাড়া নিরাপদ সড়ক নির্মাণ, চালক প্রশিক্ষণ ও পথচারী সচেতনতা ও এ সব বিষয়ে গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা : অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ সব বক্তব্য তুলে ধরেন। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ বিভাগ আয়োজিত এ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সভাপতি ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের সাম্মানিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বিআরটিএ ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন এ্যান্ড এ্যামপাওয়ারমেন্ট বিষয়ক উর্ধতন পরিচালক আসিফ সালেহ্। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক এবং সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচীর ইনচার্জ আহমেদ নাজমুল হুসাইন।

সেমিনারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, রাজনীতিকরণের ফলে পরিবহর খাতটি অর্থনীতিতে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিশেষ করে বাসের মালিকানা প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা নিয়ন্ত্রণ করায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। তিনি বলেন, বাস মালিক-প্রতিনিধিদের অনেকে স্বীকার করেন এখানে শুধু চাঁদাবাজি হচ্ছে না বরং বাস চলাচলের অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অনিয়ম হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ- ডিরেক্টর এনফোর্সমেন্ট বিজয়ভূষণ পাল বলেন, চলমান পরিস্থিতি সমাধানে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের যে লোকবল থাকা দরকার তা নেই। সঙ্গত কারণেই পরিবহন সেক্টরে নানা সমস্যা থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সমাধান করা যাচ্ছে না। সোশ্যাল চেঞ্জের কর্মসূচী সমন্বয়ক সদরুল হাসান মজুমদার সড়ক পরিবহন ও যান চলাচল বিষয়ক খসড়া আইনের ওপর অংশীদারদের সঙ্গে আরও আলোচনার সুপারিশ করেন। এরপর সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে তথ্যভা-ার নিয়ে বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জের সিনিয়র ম্যানেজার প্রিসিলা রাজ।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ শীর্ষক সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল হক। আলোচকরা সড়ক নিরাপত্তা বিধান ও দুর্ঘটনা কমাতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা, চালকদের পর্যাপ্ত বেতনভাতা ও ছুটির ব্যবস্থা করা, চালকদের নিরাপদ গাড়িচালনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, পথচারী সচেতনতা, গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে লবি মিটিং করা, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো, ট্রমা সেন্টারগুলোকে কার্যকর করা, গণমাধ্যমের আরও বেশি সম্পৃক্ততা এবং আরও বেশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা, সড়ক-মহাসড়কের পাশে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সম্পৃক্ত করে পরিকল্পনা করা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা স্থাপন।

জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ॥ সড়ক দুর্ঘটনা মহামারী আকার ধারণ করেছে। এতে অকালে অনেক অমূল্য প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুল সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কিন্তু সরকার কিংবা একক কোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে এটা ঠেকানো সম্ভব নয়। সড়ক দুর্ঘটনারোধে সকল মহলকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে সরকারকেই।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংলগ্ন ‘সড়ক দুর্ঘটনা স্মৃতিফলকের পাদদেশে এক মানববন্ধনে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা এ সব কথা বলেন। মানববন্ধন শেষে ফুল দিয়ে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এটিএন নিউজের প্রধান সম্পাদক আশফাক মুনীরের (মিশুক মুনীর) চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) এ কর্মসূচীর আয়োজন করে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ‘জোকা’ নামক স্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও বরেণ্য সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেনÑ প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও কলাম লেখক প্রকৌশলী ম ইনামুল হক, বিএফইউজে মহাসচিব জলিল ভুঁইয়া, মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাসান তারিক চৌধুরী ও সাবেক সাংসদ এ্যাডভোকেট তাসনীম রানা।