১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদকে ফেরত দিতে পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • বার্নিকাটের সঙ্গে শাহরিয়ার আলমের বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনী রাশেদ চৌধুরী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দ-প্রাপ্ত আসামি আশরাফুজ্জামান খানকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাটের এক বৈঠকে এসব আলোচনা হয়।

বৈঠকে জিএসপি ফিরে পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) কোন রাজনৈতিক কারণে যায়নি। এছাড়া এটি হারায়নি বাংলাদেশ। বরং স্থগিত রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বৈঠকে জানান, পোশাক কারখানাগুলোর মান উন্নয়নে জোর দিতে বলা হয়েছিল বাংলাদেশকে। ইতোমধ্যে অগ্রগতি অনেক হয়েছে। তবে কিছু কিছু কারখানা পরিবেশগত উন্নতি সাধনে ধীরগতিতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন আরও উন্নতি। এছাড়া কোন কারণ ছাড়াই চাকরি চলে যায় শ্রমিকদের। এটি রোধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নতির ধারাতে দেশের পোশাকখাত ও শ্রমিকরা থাকলেও এটি ততটা দৃশ্যমান নয়, যা আরও দৃশ্যমান হতে হবে। নিরাপত্তা ও মান উন্নয়ন হলে এটি অধিক দৃশ্যমান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট জিএসপি বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি বলেন এবারের জিএসপি পুনর্বিবেচনা তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া কোন রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রদত্ত জিএসপি সুবিধা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা হতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন, এসব কারখানাসমূহে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। তিনি তার কর্তৃপক্ষের নিকট এসব যথাযথভাবে উপস্থাপন করবেন।

বৈঠকে শাহরিয়ার আলম যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনী রাশেদ চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দ-প্রাপ্ত আসামি আশরাফুজ্জামান খানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের মাধ্যমে সেদেশের সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। প্রেক্ষিতে, রাষ্ট্রদূত তার পক্ষ হতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া মিয়ানমারের অনিবন্ধিত নাগরিকদের বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের উদ্যোগকে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধুর বেশ কয়েকজন খুনীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এসব খুনী যুক্তরাষ্ট্র, লিবিয়া ও কানাডায় অবস্থান করছে। পলাতক থাকা খুনীদের ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দুটি ল’ ফার্মের সঙ্গেও ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও লিবিয়ার কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এদিকে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, খুনী রাশেদ চৌধুরী রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের লস এ্যাঞ্জেলসে। তিনি কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার চেষ্টায় রয়েছেন।

এছাড়া নূর চৌধুরী রয়েছেন কানাডায়। খন্দকার আব্দুর রশিদ রয়েছেন লিবিয়ার বেনগাজি শহরে। শরিফুল হক ডালিম কেনিয়ায় ব্যবসা করলেও তার যাতায়াত রয়েছে লিবিয়া ও পাকিস্তানে। আব্দুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিন পাকিস্তান কিংবা লিবিয়ায় থাকতে পারেন। তবে প্রায়ই তারা দেশ বদল করছেন বলে জানা গেছে। এসব দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে তাদের ওপর নজর রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে।