২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকার দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র বানাতে ষড়যন্ত্র করছে ॥ ২০ দল

  • সত্যিকার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে ॥ নজরুল ইসলাম খান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকার দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছে ২০ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাবি করে তিনি বলেন, দেশে সত্যিকার গণতন্ত্রের জন্য একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০ দল সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সংগ্রামে সফলতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার অস্ত্র দিয়ে বিরোধী জোটের আন্দোলন দমন করতে চাইছে। কিন্তু অপেক্ষা করুন, জনগণ অস্ত্র ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। অস্ত্র ও সন্ত্রাস পরাজিত হবে, জনগণই বিজয়ী হবে। তার আগে দেশবাসীকে সরকারের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। দেশের জনগণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু সরকার সীমাহীন দমন-পীড়ন চালিয়ে জনগণের আকাক্সক্ষাকে ব্যর্থ করে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। অতীতেও আইয়ুব ও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বাধা দেয়া হয়েছে। আমরা হত্যা সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা বার বার জনগণের কাছে আসতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই জনগণের দাবি আদায় করতে চাই। তবে জনগণও দেখছে তাদের দাবি আদায়ে আমরা রাস্তায় নামতে পারছি না।

২০ দলীয় জোটে ভাঙ্গন ধরছে কি? প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, টানা তিন মাস বিএনপি চেয়ারপার্সনকে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেজন্য দীর্ঘদিন ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়নি। তবে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। তাই সরকার শত চেষ্টা করেও জোট ভাঙতে পারেনি, পারবেও না। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সরকার ২০ দলীয় জোটের কোন একটি দলকেও নিতে পারেনি। এমনকি ২০ দলের কোন শীর্ষ নেতাকেও নিতে পারেনি। সুতরাং ২০ দলীয় জোট অটুট রয়েছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে বিশ্বের সহানুভূতি আকৃষ্টের লক্ষ্যে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকতেও এ দেশকে জঙ্গীরাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ ও প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে ছিল। এখনও সেই জুজুর ভয় দেখিয়ে তারা মুক্ত বিশ্বের সহানুভূতি আকৃষ্টের লক্ষ্যে কাজ করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যখনই কোন সভা, সমাবেশ বা মানববন্ধন করতে চাই তখনই আমাদের অস্ত্রধারী সরকারী বাহিনীকে মোকাবেলা করতে হয়। আমরা সেটা চালিয়ে যেতে চাইলে তাদের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষে নামতে হবে। কিন্তু আমরা বরাবরই বলেছি আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই। তাই আমাদের জনগণের কাছে ফিরে আসতে হয়।

দুর্নীতি দেশকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিয়েছে অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সম্প্রতি শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর সরকারী বেসিক ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা পত্রিকায় পড়ে জনগণ বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তিনি কার প্রশ্রয়ে এই লুটপাট করেছেন তা জানতে চায় ২০ দল। এর আগে শেয়ার বাজার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যারা লুট করেছে তাদেরও বিচার হয়নি। এর একটি মাত্র কারণ তারা সরকার দলীয় লোক। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদেই এসব লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ২০ দল সব লুটপাটের বিচার চায় ও দোষীদের শাস্তি চায়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, শিশু হত্যা ও নারী নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে কোন সরকার আছে বলে মনে হয় না। একের পর এক ব্লগার হত্যার ঘটনা ঘটছে। কোন নাগরিকই আজ নিরাপদ নয়। এমন কি মায়ের পেটে শিশুও নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, দেশের বিরাট একটি অংশ আজ বন্যাদুর্গত। কিন্তু তারা ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না। এই দুর্গতদের জন্য সরকারী সহায়তা একেবারেই অপ্রতুল। আমরা বন্যাদুর্গতদের পর্যাপ্ত সাহায্য এবং তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আমিনুল ইসলাম, এলডিপির যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, বিজেপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আবদুল মতিন সাঈদ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, এনপিপির মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, লেবার পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব বাবু রহমান, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।