২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিলয় হত্যাকাণ্ডে রাজধানীতে দুই জন গ্রেফতার

  • পরিবারের দাবি ॥ ডিবি পুলিশের অস্বীকার;###;গ্রেফতারকৃতদের একজন শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদ আল নাহিনকে এবং মিরপুর থেকে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে। বৃহস্পতিার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান। রবিবার রাতে ডিবি পুলিশ সাদ আল নাহিনকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন নাহিনের পিতা নজরুল হক নান্নু। নিলয় হত্যাকাণ্ডে ছেলে জড়িত থাকলে, আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন নাহিনের পিতা। নাহিন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল মতিনের ভাতিজা।

গত ৭ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন পূর্ব গোড়ানের ৮ নম্বর সড়কের ১৬৭ নম্বর পাঁচতলা বাড়ির পঞ্চম তলার পূর্ব দিকের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে নিলয়কে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে চার হত্যাকারী খুন করে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

নাহিনের পিতা নজরুল হক নান্নু। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। নাহিন তাদের একমাত্র ছেলে। সে সবার ছোট। ওর বড় দুই বোন। নাহিন পঞ্চম শ্রেণী ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এরপর নটর ডেম কলেজ থেকে পাস করে ভর্তি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইলের দাহিয়া ইউনিয়নের মুন্সীবাড়িতে। নাহিনের পিতা ইউনিয়নটির দুই বার চেয়ারম্যানও ছিলেন। রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় থাকত নাহিন। তার জন্ম ১৯৯১ সালের ১৩ ডিসেম্বর।

এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে নাহিনের পিতা জনকণ্ঠকে বলেন, তাদের পরিবারে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। নাহিন নিলয় হত্যায় জড়িত থাকলে, আইন মোতাবেক তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা হয়, সেটাই হবে। আমি তেমনই আশা করি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিনও তার চাচাত ভাই। তাতে কি? নাহিন যদি অপরাধ করে থাকে, অবশ্যই আইন মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্টরা।

তিনি আরও বলেন, গত ৬ আগস্ট রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তিনি স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন। ছেলে তাদের রেলস্টেশন থেকে বাসায় নিয়ে যায়। ছেলের বাসায় রাত্রিযাপন করেন। শুক্রবার রাত পৌনে ৮টায় ছেলে তাদের আবার ট্রেনে তুলে দেয়। তাদের অবস্থানকালে ছেলে তাদের কাছাকাছি ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। ইতোপূর্বে নাহিন গ্রেফতার হয়ে ৬ মাস জেলে ছিল। জামিনে ছাড়া পেয়ে নিজের মতো পড়াশোনা করছিল বলে দাবি করেন নাহিনের পিতা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় ব্লগার আফিস মহিউদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হয় নাহিন। আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে সাদ আল নাহিন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে জানায়। নাহিন কাফরুলের বাসায় থাকাকালীন মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর মসজিদে নামাজ পড়ার সময় পরিচয় থেকে সখ্য হয় কাওসার হোসেন, কামাল হোসেন, কামাল সর্দার, কাওসারের ভাই নবীর হোসেনের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার সূত্রধরে নবীর হোসেনের মাধ্যমে আবদুল করিম ওরফে জাবেরের সঙ্গে পরিচয় হয়। জাবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

২০১২ সালের জুলাইয়ের এক শুক্রবারে আবদুল করিম ওরফে জাবেরের সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বছিলা রোডের একটি মাদ্রাসায় যায়। সেখানে মুফতি জসিমুদ্দীন রাহমানীর (নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা) সঙ্গে দেখা করে। রাহমানীর বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয় নাহিন। রাহমানী ও আবদুল করিম ওরফে জাবেরের মাধ্যমে রেজওয়ানুল আজাদ রানার সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের প্রেরণায় নাহিন জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয়। এরপর থেকেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। নিলয় হত্যার ঘটনায় আবদুল করিম ওরফে জাবের ও তার সহযোগী হাসিব এবং ফাহিমকে আটকের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বে ব্লগার ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন, বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ব্লগার আরিফ রায়হান দ্বীপ, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লেখক অভিজিত রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশ, গত বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিউল ইসলাম লিলন, লেখক হুমায়ুন আজাদ, ঢাকার ওয়ারীতে ইমাম মাহদীর প্রধান সেনাপতি ও বিশ্বত্রাণ কর্তা দাবিদার লুৎফোর রহমান ফারুকীসহ ৬ জন ও তেজগাঁওয়ে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর শান্তির পথে ও কাফেলা নামক ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুুরুল ইসলাম ফারুকীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। আজও গোপীবাগের সিক্সমার্ডার ও ফারুকী হত্যার দায় স্বীকার করেনি কোন গোষ্ঠী। তবে ৬ ব্লগার হত্যার দায় স্বীকার করে বিভিন্ন গোষ্ঠী।