২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অরক্ষিত নাফ নদী দিয়ে আসছে ইয়াবা

  • ঘটছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ॥ অধরা রাঘব-বোয়াল

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত খাল নাফ নদীর ২৫ কিলোমিটারজুড়ে জিরো পয়েন্ট অরক্ষিত হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে চোরাচালানিরা। প্রতিদিন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে চলছে টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। উভয় দেশের চোরাচালানিরা ইয়াবার চালান দেশে প্রবেশ করানোসহ সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী কতিপয় দালাল টাকার লোভে মিয়ানমার নাগরিকদের দেশে অনুপ্রবেশে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব বেআইনী কাজে সহায়ক ভূমিকা রাখছে কয়েকটি মোবাইল কোম্পানির মুঠোফোন। সীমান্তের বাংলাদেশ অভ্যন্তরে স্থাপিত একাধিক মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারের ফ্রিকোয়েন্সি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কি. মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ জন্য চোরাচালানিরা নাফ নদীর একাধিক জিরো পয়েন্টকে টার্গেট করে মুঠোফোনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে প্রতিনিয়ত। মিয়ানমার থেকে নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ে দেশে আগন্তুকদের জানান দিচ্ছে টহলরত সীমান্ত রক্ষী বিজিবির গতিবিধি। মুঠোফোনের সাহায্যে চোরাচালানিরা চালিয়ে আসছে তাদের রমরমা বাণিজ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন কোন না কোন সীমান্ত পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করছে ইয়াবার চালান। প্রত্যেহ বিজিবি জওয়ানরা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ধরে ফেরত পাঠাচ্ছে মিয়ানমারে। তারপরও পেশাদার চোরাচালানিদের কারণে ইয়াবা এবং অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানো যাচ্ছে না মোটেও। র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা নিরলস টহল জোরদার এবং তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও ওইসব চিহ্নিত চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মুঠোফোনের গ্রীন সিগন্যালের জন্য বড় বড় চালান আটক করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সীমান্ত এলাকা ঘুরে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্র জানায়, টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের বদর মোকাম হতে হ্নীলা ওয়াব্রাং পর্যন্ত ২৫ কি.মিটার নাফ নদীর জিরো পয়েন্ট অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই দেশের পেশাদার চোরাচালানিরা জেলের ছদ্মবেশে নাফ নদীতে অবস্থান নেয় নির্দিষ্ট সময়ে। তাদের নৌকায় মাছ ধরার উপকরণ মজুদ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদস্যরা তাদের কিছুই বলতেও পারছে না। বাংলাদেশের জেলে বেশে চোরাচালানিরা নাফ নদীর মধ্যখানে পৌঁছলে মিয়ানমারের অসাধু ব্যক্তিরা শুধু হাতবদল করে থাকে ইয়াবার চালান। ওসময় বুঝে নেয়া হয় মূল্য বাবদ একটি ছোট টোকেন। ওই টোকেনটি নিয়ে ফিরে যায় ওদেশের নাগরিকরা। ওপারে পৌঁছে তারা মুঠোফোনে টোকেনের চিহ্ন-নম্বরটি বললে চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে হুন্ডির মাধ্যমে মিয়ানমারে টাকা পৌঁছে যাচ্ছে সহজে। এদিকে দেশের পেশাদার চোরাচালানিরা নাফ নদীর কিনারায় এসে মোবাইল ফোনে জেনে নিয়ে থাকে বিজিবি-কোস্টগার্ডের অবস্থান সম্পর্কে। পরে জেলে ছদ্মবেশধারীরা সুবিধামতো সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কৌশলে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসে ইয়াবার চালান। বাংলাদেশী জেলে ও চোরাচালানিরা যাতে মিয়ানমারের জিরো পয়েন্টে নিরাপদে অপেক্ষা করতে পারেÑ এ জন্য সে দেশের কতিপয় সীমান্ত রক্ষীর সঙ্গে সাপ্তাহিক চুক্তিও রয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করছে।

সূত্র আরও জানায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান অভিনব কৌশলে উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি ও টেকনাফের ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। পয়েন্টগুলো হলোÑ শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, সাবরাং নয়াপাড়া ঘাট, নাজিরপাড়া আড়াই নম্বর সøুইসগেট, নাইট্যংপাড়া, জাদিমুড়া, হ্নীলার একটি প্রসিদ্ধ মৎস্য প্রজেক্ট এবং ওয়াব্রাং এলাকা। বালুখালী, রহমতেরবিল, দরগাবিল, টাইপালং, ঘুমধুম ও তুমব্রু। এছাড়াও টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়ে আসা পণ্যের আড়ালে ইয়াবার বড় বড় চালান কৌশলে খালাস এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে স্থলবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিজিবি প্রায় ৫ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার ও দু’দেশের ২ চোরাচালানিকে আটক করেছিল। বিজিবির নিকট দেয়া আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি মতে, ইয়াবার গডফাদারের নাম উল্লেখ করে ওইসময় মামলা দায়ের করেছিল বিজিবি। কিন্তু ক্ষমতার দাপট ও নগদ টাকার জোরে পুলিশী তদন্তে গডফাদাররা পার পেয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থল ও জলপথে দায়িত্বে নিয়োজিত বিজিবি-কোস্টগার্ড সদস্যরা ইয়াবার চালান জব্দ এবং মামলা দায়ের করেও কতিপয় অসৎ পুলিশের কারণে রাঘববোয়ালরা ধরা পড়ছে না।