২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাব্য সঙ্কটে বন্ধ হতে চলেছে ফেরি চলাচল

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ নাব্য সঙ্কটে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যে কোন সময় এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পানির অভাবে সপ্তাহ খানেক ধরে বন্ধ রয়েছে রো রো ফেরি। অন্য ফেরিগুলোও চলছে ঝুঁকি নিয়ে। সীমিত আকারে ফেরি চলাচলে ঘাটে দেখা দিয়েছে বিশাল যানজট। এতে যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে চরম আকারে।

শিমুলিয়া ঘাটস্থ বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এসএম আশিকুজ্জামান জানান, লৌহজংয়ের পদ্মায় শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে লৌহজং টানিং পয়েন্টের কাছে বিশাল এলাকাজুড়ে ডুবো চরের সৃষ্টি হয়েছে। টার্নিং পয়েন্টের ওই চ্যানেলের মুখে পানি রয়েছে মাত্র ৫ সাড়ে ৫ থেকে ফিট। যা দিয়ে রো রো ফেরি চলাচল অসম্ভব। রো রো ফেরি চলতে হলে সর্বনিম্ন সাড়ে সাত ফুট পানির প্রয়োজন। চ্যানেলে পানি স্বল্পতার কারণে গত শনিবার থেকে ৪টি রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যম আকৃতির ৫টি কে টাইপ ফেরিও চলছে ঝুঁকি নিয়ে। ফেরিগুলো নৌপথ পারি দেবার সময় পদ্মার ওই টার্নিং পয়েন্টে নদীর তলদেশে ঠেকে ঠেকে চলছে। কখনও কখনও আটকে যাচ্ছে পদ্মার বুকে। এতে করে ফেরির প্রপেলারসহ ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নাব্য সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে বিআইডব্লিউটিসি বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।

তবে চলতি বর্ষায়ই ফেরি চলাচল বন্ধের আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প পথে চলাচলের জন্য এখনও কোন জরিপ কাজ শুরু হয়নি। তাই যখন পানি কমতে শুরু করবে তখন এ পথে সব ফেরিই চলাচল বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ দিকে ফেরি চলাচল সচল রাখতে নৌ পথে ড্রেজিং চালু থাকলেও প্রচ- স্রোতের সঙ্গে উজান থেকে পলি এসে তা আবারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক এসএম আজগর আলী জানান, নৌপথ সচল রাখতে বৃহস্পতিবার থেকে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের ওই এলাকায় তিনটি ড্রেজার কাজ করে চলেছে। আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যে এখানে পানির গভীরতা আট ফুটে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর চ্যানেলের একপাশ দিয়ে ফেরি চলবে আর অপর পাশে চলবে ড্রেজিং। এভাবে চ্যানেলটি সচল রাখা হবে। তবে এ চ্যানেলের বিকল্প অন্য কোন চ্যানেল চালু করার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছে না কর্তৃপক্ষ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যেই সকল ধরনের ফেরি চলাচল করতে কোন প্রকার অসুবিধা হবে না।