২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসের নারী নির্যাতন

  • অনন্য জহির

আইএস একটি সিরিয়াভিত্তিক সংগঠন। আইএসের পূর্ণ রূপ হলো ইসলামিক স্টেট। এই সংগঠনটির প্রধান চাওয়া হলো ইসলাম এবং শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। হাজার হাজার পুরুষ এই সংগঠনটির সাথে সংযুক্ত, যারা নিজেদের ‘জিহাদী’ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। কিন্তু সংগঠনটি দিন দিন তাদের সাংঘর্ষিক কার্যক্রম বাড়িয়েই যাচ্ছে। তার সঙ্গে চলছে নারী নির্যাতন। এর মধ্যেই ইরাকের সংখ্যালঘু কয়েক হাজার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে আইএস জঙ্গীরা। আইএস ‘জিহাদী’ কর্তাদের যৌনদাস করে রাখা হয়েছে তাদের। শুধু তাই না, এই সংগঠনটির ব্যাপ্তি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, পুরুষদের পাশাপাশি তারা বহির্বিশ্বের নারীদেরও অনুপ্রাণিত করে যোগদান করাতে সক্ষম হচ্ছে। নতুন করে একটি প্রকৃত ইসলামিক স্টেটের রূপকল্প দিতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীদের। এক তথ্যে জানা গেছে, ব্রিটেন থেকে ইতোমধ্যে ৫০-৬০ জন নারী তুরস্ক হয়ে সিরিয়া গেছেন আইএসে যোগ দিতে। তাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এমনকি সুইডেন থেকে আসা নারীও আছেন। তারা নিজেদের ‘নারী জিহাদী’ হিসেবে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। এদের ভিতর কেউ কেউ ভিনদেশ থেকে এসে যোগদান করা পুরুষ জিহাদীকে বিয়ে করেন। আবার কেউ কেউ যোগদান করছেন বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রধান কাজ হল ‘জিহাদী’ কর্তাদের জৈবিক চাহিদা পূরণ করা। এর মাধ্যমে আইএস মূলত একটা প্রকৃত ইসলামিক স্টেট গড়ার জন্য ব্যাপকহারে ‘মানুষ উৎপাদন’ করতে চাইছে। অপহরণ অথবা প্রলুব্ধ করে আনা প্রতিটি নারীর বয়স ১০-২৫ এর ভিতর। আইএস যোগদানে অনুপ্রাণিত করার জন্য এই অল্প বয়সী এবং মানসিক দিক থেকে অপরিপক্ব মেয়েদেও বোঝানো হয় যে, তারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে। এর মাঝে একটি উত্তেজনা এবং অর্থপূর্ণ জীবন আছে। এমন কি নারীরা যাতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়, তার জন্য কখনও কখনও তাদের পরিবারকে দেয়া হয় বিভিন্ন রকম উপঢৌকন। এসব উপঢৌকনের মধ্যে আছে বাড়িভাড়া বাবদ অর্থ প্রদান, মাসিক খাদ্য বাবদ অর্থায়ন, ভ্রমণ বাবদ অর্থায়ন, প্রতিটি বাচ্চা বাবদ আলাদা করে অর্থায়নের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

সম্প্রতি আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত দক্ষিণ লন্ডনের ২২ বছর বয়সী এক নারী টুইটে লেখেনÑ তিনি আইএসের কাছে জিম্মি থাকা একজন পশ্চিমাকে হত্যা করে প্রথম জিহাদী মহিলা হতে চান। পরবর্তীতে এসব অল্পবয়সী এবং অপরিপক্ব মেয়েদের ব্যবহার করা হয় এক বা একাধিক ‘জিহাদী’ কর্তাদের পুরস্কার হিসেবে। এরপর চলে নির্মম নির্যাতন এবং গণধর্ষণ। কখনও কখনও এমনও হয় যে, একজন নারীকে ধর্ষণ করে ১০-১২ জন ‘জিহাদী’, যা চলে পালাক্রমে এবং সারা দিন রাতব্যাপী। তাদের বাধ্য করা হয় অবিলম্বে শিশু উৎপাদনের জন্য। যারা এই অত্যাচার সহ্য করতে পারছেন না, তাদের হত্যা করে ফেলা হচ্ছে। যারা এতকিছুর পরেও টিকে থাকছেন, পদের মান অনুযায়ী উন্নতি দেয়া হয় এবং অন্য গ্রুপের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয় ভোগের সামগ্রী বানিয়ে। সম্প্রতি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, ১০ থেক ১২ বছরের মেয়েদের নিজেদের ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে আইএস জঙ্গীরা। চলছে মারধর, গণধর্ষণ। এরপর যৌনদান করে আটকে রাখা হচ্ছে তাদের। বহুজনকে এখান থেকে বিক্রিও করে দেয়া হচ্ছে। বয়স হিসেবে এদের দাম নির্ধারণ করা হয়। পৈশাচিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে বহু কিশোরী। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রবাসী নারীদের জঙ্গী সংগঠন আইএসে যোগ দেয়ার খবর এর আগে পাওয়া গেলেও, এবার বাংলাদেশ থেকে নারীদের আইএসে যোগদানের খবর জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম? বাংলাদেশে যেসব নারী-পুরুুষ আইএসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তাদের প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। আর যারা ছাত্র, তারা নামীদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তাদের পরিবারও বিত্তশালী। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে মনের ভিতর প্রশ্ন জাগে, কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে নারী সমাজ? যেখানে ইসলাম নারী সমাজকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, সেখানে ইসলাম নামধারী সংগঠনগুলো কী করছে? পাশবিক কাজ দ্বারা তারা কি বোঝাতে চাচ্ছে? মানবিকতা বিবর্জিত মানসিকতা দ্বারা কেনই প্রলুব্ধ করছে এই অপরিপক্ব মেয়েগুলোকে? বিশ্বের দরবারে প্রশ্ন রইল, ইসলাম ধর্ম কোথায় সমর্থন করেছে এই নির্মম পৈশাচিক পাশবিকতাকে?