২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টিভি-অনলাইন মিডিয়ায় নারী

  • অঞ্জন আচার্য

সাংবাদিকই হতে চেয়েছি...

শাশ্বতী মাথিন

নিউজরুম এডিটর, এনটিভি অনলাইন

সাংবাদিকতা একটা নেশার মতো। একটা চমৎকার পেশা এটি। অনেকেই মনে করেন মিডিয়ার চাকরি মেয়েদের জন্য ভাল নয়। কিন্তু এখানেও বেশ চমৎকার মানুষ রয়েছেন। পেশাটি একটু ঝুঁকিপ্রবণ। এছাড়া চাকরির অনিশ্চয়তাও রয়েছে। অন্যদিকে কেবল অদক্ষতার জন্য নয়, কখনও কখনও অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দলবাজির কারণেও ভাল কর্মীরা চাকরিক্ষেত্রে অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকেন। অন্য পেশা থেকে সাংবাদিকতা একটু ভিন্ন রকম এই জন্য যে, এখানে পরিশ্রম অনেক বেশি এবং অনেক সময় দিতে হয়। আবার জনকল্যাণ ও সৃজনশীলতার চর্চা করা যায়। মেয়েদের জন্য পেশাটি একদমই খারাপ নয়। বরং নিজেকে সাহসী ও দৃঢ় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অনেক সুন্দর পেশা। যারা এই পেশায় আসছেন তাদের ভালমন্দ দুটো বিষয়ই মাথায় রেখে আসা উচিত। কেননা পেশাটি একই সঙ্গে আনন্দজনক এবং চ্যালেঞ্জিং। সব কাজেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই সাংবাদিক হতে চেয়েছি। আগামী দিনগুলোতেও সাংবাদিক হিসেবেই কাজ করতে চাই।

এখনও শিক্ষানবিশ আমি...

মৌমিতা জান্নাত

রিপোর্টার, মাছরাঙা টেলিভিশন

আমার পড়াশোনা সাংবাদিকতা বিষয়ে ছিল না। বিবিএ, এমবিএ করে যোগ দিয়েছিলাম একটা ফাইন্যান্স কোম্পানিতে। কিন্তু চাকরি করতে গিয়ে দেখলাম, কর্পোরেট জব আমার জন্য নয়। বিজনেসের ছাত্র-ছাত্রীদের কর্পোরেট কনফ্লিক্ট বলে একটা টার্ম পড়তে হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই বিষয়টা কখনও কখনও যে কতটা নোংরা, সেটা এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতায় বুঝেছিলাম। তবে চূড়ান্ত রকমের ধৈর্য হারিয়েছিলাম সেইদিন যেদিন একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনে কাজ করি জেনে এক সহকর্মী আমাকে বললÑ ‘আপনাদের সংগঠন এত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-বিচার করে কেন? আমাদের এত এত সমস্যা রয়েছে। তা বাদ দিয়ে অতীত নিয়ে পড়ে থাকার কি আছে? ভাববেন না আমি মুক্তিযোদ্ধাদের আবেগ বুঝি না। আমার মামা ফ্রিডম ফাইটার ছিলেন। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি এসব আজেবাজে বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট না করে প্রত্যেকের নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবা উচিত।’ আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা একজন তরুণের এই কথার জবাবে আমি কি বলতে পারি! তাই চাকরি ছাড়ার পর থেকেই চিন্তা ছিল এমন কোথাও জব চাই যেখানকার কাজের পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তখন অনেকেই পরামর্শ দিল সাংবাদিকতা করার। এটিএন নিউজের সাংবাদিক এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনে লোক নেবে জেনে একদিন সিভি দিয়ে এলাম। তারা ডাকলেনও। ইন্টারভিউতে সাংবাদিকতা বিষয়ে নিজের অজ্ঞতা অকপটে স্বীকার করলাম। ভেবেছিলাম, চাকরিটা হবে না। একে তো পড়াশোনা অন্য লাইনে, তার ওপর কোন ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে একদিন ডাকও পেলাম। আবেদন করেছিলাম নিউজরুম এডিটরের জন্য। কিন্তু তখনকার হেড অফ নিউজ আলমগীর ভাই বললেন, আগে চেষ্টা করে দেখ রিপোর্টিংটা পার কিনা। না পারলে তোমাকে ডেস্কে আনার ব্যবস্থা করা হবে। আর বলাই বাহুল্য, একবার রিপোর্টিংয়ের মজা যে পায়, সে আর ডেস্কে ফিরতে চায় না। ব্যাস এই ভাবেই শুরু হলো আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। সেই থেকে মাছরাঙাতেই আছি। প্রায় চার বছর হতে চলল।

এবার আসি আমাদের কাজ সম্পর্কে। অনেকের ধারণা সাংবাদিকতা খুব পরিশ্রমের কাজ। বিশেষ করে কোন মেয়ে যখন সাংবাদিকতা করে তখন আসলে তার পারদর্শিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। আসলেই কি তাই? কিছুটা পরিশ্রমের ব্যাপার হয়ত আছে। সে তো অনেক কাজেই আছে।

আমরা জানি, গণমাধ্যমগুলোতে কাজ করে অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল এবং মুক্তমনের মানুষেরা। যাদের সাম্যবাদ চেতনা অন্যদের থেকে প্রবল। তাই অনেকেই ভাবেন এখানে কাজ করতে এসে মেয়েরা হয়ত কোন ধরনের বৈষম্যের স্বীকার হবেন না। কিন্তু আসলেই কি তাই? আমি যেখানে কাজ করি নিশ্চিত অর্থে অন্য যে কোন হাউসের থেকে অনেক উন্নত পরিবেশ সেখানে। তারপরও আমি বলব, এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশে একটা মেয়েকে সাংবাদিকতা করতে গেলে প্রতি মুহূর্তে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। অন্যদিকে ছেলেদের তৈরি করে নেয়া হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির ঝামেলা থাকে বলে অনেক হাউসই মেয়েদের চাকরি দিতে অনীহা দেখায়। এর প্রমাণ পাওয়া যাবে প্রত্যেকটা অফিসেই। যে কারণে ছেলেদের তুলনায় মেয়েকর্মী অনেক কম।

টিকে থাকার লড়াই করতে হবে...

তানিয়া তুষ্টি

সাব-এডিটর, বাংলামেইল টুয়েন্টিফোর ডটকম

শুরুটা যত উৎসাহের ছিল, দিন পাঁচেকের ব্যবধানে ঠিক ততটাই উবে গেল। উৎসাহ আর উদ্দীপনা গিয়ে ঠেকল একদম শেষ কাতারেÑ চাকরির শুরুর গল্পটা আমার এমনই ছিল। সাংবাদিকতা সম্পর্কে আমার কোন জানাশোনা ছিল না। হাত টানাটানির অবস্থাকে সচল অবস্থায় আনতেই শ্রদ্ধেয় এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় জুটে গেল একটা চাকরি। পারিবারিক শিক্ষা আর রুচিবোধের কাছে কোনো মানুষকেই প্রথম দিকে ছোট করে দেখা বা খারাপ ভাবার অভ্যাস গড়ে ওঠেনি। সরল বিশ্বাস আর আমার প্রদর্শিত সম্মানের বিবেচনায় তাঁকে ফোন করলাম। কিন্তু উনার কথাগুলো যেন বৃষ্টিহীন বর্ষাকাল শেষে আসা আশ্বিন মাসের বজ্রপাতের মতো মনে হলো। ফোনটা রেখে দিলাম। চাকরির অভাবের চেয়ে নিজের অপমানের ধাক্কাটা বেশি তীব্রতর মনে হতে লাগল। বার বার শুধু মনে হতে লাগল, যখন ছোট ছিলাম, ভুল করার বয়স ছিল, লেখাপড়া শেষ করিনি, নামের শেষে সম্মান বা সম্মনোত্তর ডিগ্রীর আদল আসেনিÑ তখনও তো কেউ এমন অসম্মান করতে পারেনি।

নিজেকে সামলে নিয়ে আরও কয়েক পরিচিতর কাছে ফোন। হলো আরও কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা। জীবনে কি কোন একটা সময়ে সবাইকেই এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়? একটাই তো জীবন, এত ভারি মনে হতে লাগল যে বয়ে নিতে পারছি না। কিছু একটা জিদ আরও চেপে বসল। অনেক কষ্টের মাঝেও বেশ কাঠখড়ি পুড়িয়ে মোটামুটি একটা নিশ্চয়তাপূর্ণ পত্রিকায় কাজ জুটিয়ে নিলাম। এত টানাপোড়েনের মাঝে চিন্তা আর দুশ্চিন্তা কাজ শিখতে দেয়নি, কিন্তু পরিচয় ঘটিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই পত্রিকায় পেয়ে গেলাম পুরো একটা বিভাগের দায়িত্ব। শুরু হলো নতুন যাত্রা। আগের মতো এখনও নিজ হাতেই তড়িঘড়ির রান্না শেষে অফিসে ছুটে চলা, অফিসের ঠাট বজায় রাখতে গোছালো পোশাক পরা আর ভাবনার রাজ্যে কাজ নিয়ে ডুবে থাকা। জানি, অফিসে রিক্সায় গেলে রাস্তার বখাটেদের বাজে কথা শুনতে হবে না, তবু টাকাটা বাঁচাতে...। সাংবাদিকতার কলমে বহু ইভটিজিংয়ের ঘটনা, সচেতনতা, করণীয় উঠে আসলেও নিজের প্রতিদিন টিজ হওয়ার ঘটনা সন্তর্পণে চাপা দিয়ে যায়। ভিড় ঠেলে বয়ে চলা একাকী জীবনে এছাড়া আর কী-ই বা করার আছে?