১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমুদ্র ও পাহাড়ের কাছাকাছি

  • জাহাঙ্গীর কবীর পোকন

এক অপার সৌন্দর্য ধারণ করে আছে বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং পার্বত্য অঞ্চল। এই সৌন্দর্য উপভোগ করার ফুরসতটাই বাঙালীর মিলে না। কর্মব্যস্ততার নানা ঝামেলা, ছল-ছ্ুঁতোসহ হাজারো ঝক্কির ভেতর আনন্দ উৎসবের জায়গাটা এতকম যে তা সকল বাঙালী মাত্রই অবগত। কিন্তু তারপরও এবার সেই ভ্রমণের সুযোগটাই মিলে গেল চমৎকারভাবে এবং এই সুযোগে সপরিবারে আনন্দঘন কয়েকদিনের ট্যুরে হয়ে গেল অন্যরকম এক অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার পাতাটা একটু ভরেই উঠল যেন। যাওয়া থেকে ফিরে আসা। মাঝখানে বাংলাদেশের এক অপরূপ সৌন্দর্য, সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়, সমুদ্র, ঝর্ণা, রিসোর্ট, চড়াই, উতরাই দেখা এবং অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে যেন নতুন করে আমরা সবাই নিজেদের আবিষ্কার করলাম। পাঁচ দিনের এই ট্যুর প্রোগ্রামের মেন্যু ধরেই আমাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বাইরে পা বাড়ানো। প্রথমেই কক্সবাজার। পৃথিবীর দীর্ঘতম সি-বিচ অধ্যুষিত বঙ্গপোসাগরের গর্জনশীল তরঙ্গমালা গড়িয়ে এসে সমুদ্র তীরের স্বর্ণালি বালিয়াড়িতে আঁছড়ে পড়ার উত্তাল দৃশ্যের কাছে যেন সব কিছুই ম্লান, সমুদ্রের নোনা পানি ঘেঁষে ঝাউবন, ঝিরিঝিরি হাওয়ার হিমোষ্ণ আবেশ সবাইকে মুগ্ধ নয় বিমুগ্ধ করে দেয়। দিনের এবং রাতের সমুদ্রের মাঝে কি যে এক অনাবিল ব্যবধান, তাও দেখে মনভরে যায়। তবে সব কিছু ছাপিয়ে যায় সমুদ্রের অস্তাচলে অরুনিমা রঙের গোধূলি বেলা। যেন রাঙা এক কনে বউয়ের নাক চাবির রিংয়ের মতো গোলী সূর্যাস্ত ধীরে ধীরে মহাসমুদ্রের জলের গভীর অতলে হারিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষণ। অসীম ভাললাগায় মন ভরে যায় সমুদ্রে সূর্যাস্তের মায়াবি মুহূর্তে। সৌন্দর্যের কত কি যে সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। হিমছড়ি, ইনানী বিচ দেখে মন যেন অফুরন্ত আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। কক্সবাজারের পর বাস ছুটে চলে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। প্রকৃতির এক সবুজ স্বর্গ যেন এই পার্বত্য জেলা। কত কি দেখার। দেখতে দেখতে দ্রুত সময় ফুরিয়ে আসে কিন্তু দেখার কোন শেষ নেই। বান্দরবানেই রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির যা স্বর্ণমন্দির নামে খ্যাত। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ তাজিনডং, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং এবং সর্বোচ্চ খাল রাইখিয়াংও রয়েছে এই বান্দরবানেই। নীলগিরির মন ভোলানো সৌন্দর্যলীলা যেন এক বিস্ময়কর সুন্দরের সৃষ্টি ।

পর্যটকদের অত্যন্ত প্রিয় এই পার্বত্য জেলা সবসময়ই পর্যটকের যাওয়া-আসায় থাকে মুখর। এক্ষেত্রে আমরাও সেই দলেরই অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, বগালেকও এই জেলাতেই অবস্থিত। সুন্দরের এত কাছে গিয়ে সুন্দরকে ছুঁয়ে দেখার এই আনন্দ কোন দিন ভুলে যাওয়ার নয়। এর আগেও সমুদ্র, বনভূমি পাহার, ঝর্ণার কাছাকাছি এসেছি। কিন্তু এতটা আনন্দ এর আগে কখনও পাইনি। কারণ এবার স্ত্রী পারভীন আক্তার কনা, মেয়ে ফাতিমা কবীর পিংকি এবং ছেলে ইয়ামিন কবীর রাফি ছিল আমার ভ্রমণসঙ্গী। যে ক’দিন আমরা সপরিবারে সৃষ্টির এই সৌন্দর্য সম্মিলিতভাবে উপভোগ করেছিÑ তা যেন লিখে, বলে বোঝানো যাবে না। প্রকৃতির এই অসীম সুন্দর দেখতে দেখতে কত যে বিমুগ্ধ হয়েছি তা শুধু মনের ফ্রেমেই আঁকা হয়ে আছে। ভ্রমণের পাট চুকিয়ে যখন ফেরার পালা তখনও মন পড়েছিল ওই অফুরন্ত নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রাণ জুড়ানো দৃশ্যাবলীর কাছে।