২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুরে দুই স্কুল ছাত্রীর রহস্যজনক হত্যাকান্ড

মাদারীপুরে দুই স্কুল ছাত্রীর রহস্যজনক হত্যাকান্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ সুমাইয়া ও হ্যাপী নিহত হওয়ার ঘটনার রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ওই দুই স্কুল ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত জেলাবাসী। হত্যাকান্ডের রহস্য এখনো অন্ধকারে। বিগত দিনে মাদারীপুরে একাধিক নৃশংস ঘটনা ঘটলেও এ ধরণের নৃশংসতার নজির নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি দুই স্কুল ছাত্রীর নিহতের কারণ। তবে পুলিশ প্রশাসন প্রাথমিক ভাবে শুধু ধারণা করছে, প্রেমের কারণে নিহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও উভয় পরিবারের পক্ষ হতে দাবী করা হচ্ছে, ধর্ষণের পরেই জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয় সুমাইয়া ও হ্যাপীকে। তবে মূল কারণ দুইদিনেও উদ্ধার করতে পারেনি কেউ। হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ধারে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও সিআইডি। শুক্রবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সালমা বেগম ও রহিমা বেগম নামে ২ মহিলাকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ৪ জনকে আটক করা হলো।

নিহত সুমাইয়ার মা আসমা বেগম বলেন, “আমার এক সুমাইয়া মারা গেছে। যদি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার হয় তাহলে হাজারো সুমাইয়া বেঁচে যাবে। আমি ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার সুমাইয়ার মতো আর কোন মেয়েকে যেন অকালে প্রাণ হারাতে না হয়”। নিহত হ্যাপীর চাচী কেয়া বেগম ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

শুক্রবার সকালে মস্তফাপুর গ্রামের সন্দেহভাজন রাণার মা সালমা বেগম এবং ফজলুল কবিরের ছেলে মেহেদির মা রহিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে সদর থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই মেহেদি ও রাণাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য পলাতক রয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার ফায়েকুজ্জামান জানান, ধারণা করা হচ্ছে একই গ্রামের রাণা নামে এক ছেলের সাথে নিহত ওই দুই স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া ও হ্যাপীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরো জানান, মস্তফাপুর গ্রামের সৈকত খলিফার ছেলে রাণার সাথে দুই বান্ধবীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে আমাদের কাছে ত্রিভূজ প্রেমের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, দুই স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া ও হ্যাপীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা দু‘যুবকই হচ্ছে মেহেদি ও রাণা। বৃহস্পতিবার আটককৃত শিপন ও রাকিব জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, মেহেদি ও রাণা নিহত দুই স্কুল ছাত্রীকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে দেখে তারা হাসপাতালে আসে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৪) ও তার সহপাঠি প্রতিবেশি মস্তফাপুর গ্রামের হাবিব খার মেয়ে এবং ঐ স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী হ্যাপি আক্তার (১৪) নিখোঁজ হয়। বিকালে অচেতন অবস্থায় ৪ যুবক ওই দুই ছাত্রীকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে রেখে দুইজন পালিয়ে যায়। ওই দুই মেয়ের পরিবার লোকমুখে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে সুমাইয়া ও তার বান্ধবী হ্যাপীর লাশ দেখতে পায়। পুলিশ সন্ধায় হাসপাতাল এলাকা থেকে শিপন ও রফিক নামে দুই যুবককে আটক করে।

শুক্রবার দুপুরে নিহত সুমাইয়ার পিতা বিল্লাল সিকদার বাদী হয়ে রাণা ও মেহেদীকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নামে মাদারীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।