১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিএসপি ফিরিয়ে দিতে প্রস্তাব তোলা হবে নাইরোবিতে

  • ডব্লিউটিওর সম্মেলনের জন্য তৈরি হচ্ছে সরকার

এম শাহজাহান ॥ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দশম মিনিস্ট্রিয়াল বৈঠকে বাংলাদেশকে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি ওয়ার্ক প্রোগ্রাম তৈরি করছে সরকার। আগামী ১৫-১৮ ডিসেম্বর কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দশম মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে এবার ১৬০টি দেশ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আলোচনা হবে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ও কৌশল নিয়ে। তবে মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উন্নত দেশগুলোতে এলডিসি দেশের শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও’র নবম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সম্মেলন শেষে গত দু’বছরে এর কোন অগ্রগতি হয়নি। বরং সর্বশেষ গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র যে ১২২টি দেশের জিএসপি বা অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পুনর্বহাল করেছে সেখানে বাংলাদেশকে রাখা হয়নি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বার বার অনুরোধ জানানো হয়। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এ্যাকশন প্লানের ১৬টি শর্তও পূরণ করে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি টিকফা ফোরামের বৈঠকেও জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ডব্লিউটিও’র দশম বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আবার জোরালো ভাবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।

এছাড়া বালি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন, বালিতে গৃহীত নন বাইন্ডিং সিদ্ধান্তগুলোকে বাইন্ডিং সিদ্ধান্ত হিসেবে রূপান্তর, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিদ্যমান বিশেষ ও অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো বহাল রাখা, স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত পণ্য রফতানির সুবিধা প্রদান প্রভৃতি নিয়েও এবারের বৈঠকের আলোচনা থাকছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও’র পরিচালক মোঃ নূরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, ডব্লিউটিও’র দশম মিনিস্ট্রিয়াল বৈঠকে বালি প্যাকেজের বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশকে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি ওয়ার্ক প্রোগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য এলডিসি দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু এই সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ১২২ দেশের জন্য জিএসপি সুবিধা চালু করছে কিন্তু সেই তালিকায় বাংলাদেশকে রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, এলডিসি দেশ হিসেবে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত দেশের রফতানি বাজার আরও সম্প্রসারণ হবে। বাড়বে রফতানি। ভিশন-২১ এ বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারা ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানির যে স্বপ্ন দেখছেন তা বাস্তবায়নে রফতানি বাড়াতেই হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানিতে কোটা ও শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই বলছে, উন্নত বিশ্বের শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার সঙ্গে সেবা খাতেরও বাজার সুবিধা দেয়ার কথা। এটি পাওয়া গেলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত সব দেশ লাভবান হতে পারত। সেবা খাতের বাজার ধরতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কিছু খাত চিহ্নিত করেছে। তার মধ্যে পর্যটন, আর্থিক, প্রকৌশল, শিক্ষা, ও তথ্যপ্রযুক্তি অন্যতম। সংগঠনটির মতে, ডব্লিউটিওর আগামী সম্মেলনকে ঘিরে সরকার যে প্রতিনিধিদল গঠন করবে, তার অন্যতম কাজ হবে অন্য ৪৮টি এলডিসিকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে বালি ঘোষণা বাস্তবায়নে বাধ্য হয়।

জানা গেছে, বালি প্যাকেজে তিনটি ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ইস্যু তিনটি হচ্ছে-ডেভেলপমেন্ট ইস্যু, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি ও কৃষি। এগুলোর মধ্যে ডেভেলপমেন্ট ইস্যুর আওতায় চারটি এলডিসি দেশের ইস্যু ও মনিটরিং মেকানিজম রয়েছে। এলডিসি দেশের চারটি ইস্যু হচ্ছে-শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, রুলস অব অরিজিন, সার্ভিসেস ওয়েভার বাস্তবায়ন ও কটন ইস্যু। এছাড়া দোহা রাউন্ডের এজেন্ডাভুক্ত অবশিষ্ট ইস্যুসমূহ নিষ্পত্তি করা।

এদিকে, দেশের মোট রফতানির ৭৬ শতাংশই তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাক রফতানির ৪০ শতাংশই আবার একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়ে থাকে। যার পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। এলডিসি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধায় পোশাক রফতানি হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডব্লিউটি’র শর্তানুযায়ী শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের রফতানিখাত আরও সমৃদ্ধশালী হবে।