১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রেসক্লাবে আজ স্থাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রতিক্রিয়া-শীলদের বাধা কাটিয়ে অবশেষে জাতীয় শোক দিবসে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপিত হতে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে আটটায় প্রেসক্লাবের সদস্যদের উপস্থিতিতে ক্লাব লবির দেয়ালে স্থাপিত প্রতিকৃতি উন্মোচন এবং পঁচাত্তরের কালরাতে শাহাদাতবরণকারী জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতি স্থাপনের তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা উত্তর বিগত ৪৪ বছরে এই প্রথম জাতির পিতার প্রতিকৃতি জাতীয় প্রেসক্লাবে স্থাপিত হতে যাচ্ছে। গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রস্তাবের আলোকে এবং নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্বভার গ্রহণোত্তর কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হচ্ছে। বিবৃতিতে প্রেসক্লাবের সদস্যদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা উত্তর সাংবাদিকদের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবের জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। অথচ সেখানে ছিল না জাতির পিতার প্রতিকৃতি। জাতীয় এ প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই ছিল বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব। অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, সেখানে জাতির জনকের হত্যার দিন পুরো জাতি শোক দিবস পালন করলেও এই প্রতিষ্ঠানের চিত্র ছিল উল্টো। ওড়ানো হতো না কালো পতাকা। দিবসটি পালনও করা হতো না। দেশের প্রগতিশীল বরেণ্য সাংবাদিকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হতে না পারলেও সদস্য হয়ে বীরদর্পে ছিলেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জেগে ওঠা আন্দোলন গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিরোধের মুখে বছর দুয়েক আগে দুই যুদ্ধাপরাধীর সদস্যপদ বাতিল করতে বাধ্য হয় তাদেরই সমর্থনপুষ্ট প্রেসক্লাবের তৎকালীন কমিটি। কয়েক বছর ধরেই প্রগতিশীল সাংবাদিকরা জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতির পিতার প্রতিকৃতি স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তা মানতে রাজি ছিল না তখনকার ব্যবস্থাপনা কমিটি। একপর্যায়ে বাধার মুখেই যে কোন মূল্যে প্রতিকৃতি স্থাপনের ঘোষণাও দেন প্রগতিশীলরা। এই সময়ে জাতীয় শোক দিবসে সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে প্রগতিশীল সাংবাদিকরা জাতীয় প্রেসক্লাবে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করে আসছে। একই সঙ্গে শোকের মাসের প্রথম দিন থেকেই প্রেসক্লাবের গেটে টাঙানো হয় ব্যানার। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজন করা হয়েছে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভা। তবে আশার কথা, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিকৃতি স্থাপনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া গত ৭ আগস্ট টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন বিএফইউজে, ডিইউজে, জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ জাতির জনকের সমাধিসৌধের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তারা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, বাসস’র সাবেক প্রধান সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ডিইউজে সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, সাবেক সম্পাদক শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্মসম্পাদক আশরাফ, সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।