২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেক কেটে খালেদার জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ কয়টি- জনমনে এমন প্রশ্ন অনেক দিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু এ প্রশ্নের অবসান ঘটাতে খালেদা জিয়া বা বিএনপির পক্ষ থেকে কিছুই বলা হচ্ছে না। একাধিক জন্মতারিখ থাকার পরও প্রায় দুই দশক ধরে তিনি জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট নিজের জন্মদিন পালন করছেন। এবার ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করতে বিভিন্ন মহল থেকে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়। তারপরও বিএনপির অঙ্গসংগঠন মহিলা দল ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ৭০ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালের মে মাসে মেয়াদ শেষ হওয়া খালেদা জিয়ার পাসপোর্টে জন্মতারিখ লেখা আছে ৫ আগস্ট, ১৯৪৬। এর পর নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্টেও খালেদা জিয়ার জন্মদিন লেখা আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৬। পাসপোর্টের জন্মতারিখ যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে দুই দশক ধরে ১৫ আগস্ট শোকের দিনে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভুয়া জন্মদিন পালন করে আসছেন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় খালেদা জিয়ার জন্মতারিখের যে বিবরণ পাওয়া গেছে তাতে লেখা আছে ৫ আগস্ট, ১৯৪৪; ৫ আগস্ট, ১৯৪৬; ১৯ আগস্ট, ১৯৪৭; ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ এবং ১৫ আগস্ট, ১৯৪৫।

প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নব্বইর দশকের মধ্যভাগ থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিবস অর্থাৎ জাতীয় শোকের দিন ১৫ আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন উদযাপন শুরু করেন। তখন থেকেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু কোন কিছু তোয়াক্কা না করেই খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে আসছেন। তবে এ বিষয়ে বিএনপি সবসময়ই বলে আসছে, ১৫ আগস্টই খালেদা জিয়ার জন্ম হয়েছে। তারা এমনও বলছে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদিবসে কি কেউ জন্মগ্রহণ করতে পারে না? তবে তারা কখনই খালেদা জিয়া কোন বছরের ১৫ আগস্টে জন্মগ্রহণ করেছেন সেটা বলেননি।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, খালেদা জিয়ার মেট্রিক পরীক্ষা পাসের সনদে জন্মতারিখ লেখা রয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬। আর বিয়ের সনদে তার জন্মতারিখ লেখা রয়েছে ৫ আগস্ট, ১৯৪৪। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথবাণীতে জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯ আগস্ট, ১৯৪৭। একজন মানুষের কি করে এতগুলো জন্মতারিখ হতে পারে এ নিয়ে রয়েছে নানান বিতর্ক।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস নির্ধারণ করে রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবসের মর্যাদা থেকে বাতিল করে রাষ্ট্রীয় ছুটিও বাতিল করেন। তবে ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেন।

এবার আগেভাগেই বিভিন্ন মহল থেকে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়াকে জন্মদিন পালন না করার কথা বলা হয়। এ পরিস্থিতিতে বিএনপিপন্থী ক’জন বুদ্ধিজীবীও ১৫ আগস্টের পরিবর্তে অন্য কোন দিন জন্মদিন পালন করলে ভাল হয় বলে অভিমত প্রকাশ করেন। এ পরিস্থিতিতে ১৫ আগস্টের আগেই চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। খালেদা জিয়া সেখানে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান নিয়ে মেডিক্যাল চেকআপ করানোর জন্য তিনি ১০ দিন থাকবেন বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। লন্ডন সফরে যাবেন বলে ১৩ আগস্ট রাতে তিনি ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু লন্ডনের ভিসা পাওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লন্ডন সফর আপাতত স্থগিত করেন। এদিকে ছাত্রদল ও মহিলা দল শোকের দিনে কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া বা বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদল বা মহিলা দলকে এ কর্মসূচী পালন করতে বাধা দেয়া হচ্ছে না।

ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য মতে, খালেদা জিয়া ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরে (জলপাইগুড়ি) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে তিনি পাস করেছেন কি না তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। জিয়া-খালেদা দম্পতির দুই সন্তান তারেক রহমান পিনু আর আরাফাত রহমান কোকো। গতবছর ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় মারা যান কোকো। তাকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন।

জিয়ার মৃত্যুর পর নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। পরের বছর মার্চে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে খালেদা জিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। ৯০‘র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো দেশের মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। পরে আরও দুইবার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর ১৫ আগস্ট রাত বারোটা এক মিনিটে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে গুলশান কার্যালয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। এবারও মহিলা দলের পক্ষ থেকে ৭০ পাউন্ড ওজনের কেক কাটা হবে। মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা ম্যাডামের ৭০তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য কেক অর্ডার দিয়েছি। ছাত্রদল দলের পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ৭০ পাউন্ড ওজনের কেকের অর্ডার দেয়া হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৮টায় নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করবেন বলে ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।