২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রিয় পিতার সান্নিধ্যে আবেগঘন সময় বাংলাদেশ দেখা

প্রিয় পিতার সান্নিধ্যে আবেগঘন সময় বাংলাদেশ দেখা
  • সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় চিত্রগাথায় শোকগাথা

মোরসালিন মিজান

একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী এত চমৎকার হতে পারে! দেখে সত্যি চোখ বড় হয়ে যায়। তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। না, চারদেয়ালের গ্যালারিতে নয়। আয়োজনটি একদমই খোলা আকাশের নিচে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। নিরাপত্তার প্রশ্নে দীর্ঘকাল এ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি সর্বসাধারণ। কিছুটা তাই প্রাণহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। আর তারপর বৃহস্পতিবার যেন নতুন সূর্যের দেখা মিলল। সূর্যের নামÑ শেখ মুজিব। মহান নেতার দেখা অদেখা শতাধিক আলোকচিত্রের প্রদর্শনী চলছে এখানে। ‘চিত্রগাঁথায় শোকগাঁথা’ শিরোনামে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনী একই সঙ্গে বর্ণনা করছে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস।

বলা বাহুল্য, বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার মহানায়ক তিনি। তাঁকে নিয়ে রাজধানী ঢাকার বড় বড় গ্যালারিগুলোতে অসংখ্য আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তবে, গ্যালারি যেহেতু, সীমিত পরিসর। এই মাপের নেতাকে কতটা আর ধারণ করতে পারে? হয়ত তাই দিগন্ত বিস্তৃত আকাশের নিচে খুব মানানসই দেখায় বঙ্গবন্ধুকে। বলা চলে, এটি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালীকে শ্রেষ্ঠ উপস্থাপনা দেয়া দেয়ার অনন্য সুন্দর প্রয়াস। প্রদর্শনীতে ১৩১টি আলোকচিত্র। সংগ্রহ করা হয়েছে ন্যাশনাল আর্কাইভ ও সেন্টার ফর রিসার্চ এ্যান্ড ইনফরমেশন থেকে। আছে বিখ্যাত আলোকচিত্রী রশীদ তালুকদারের তোলা ছবি। অধিকাংশ ছবির বিলবোর্ড আকৃতির ফ্রেম। একদম নড়বড়ে নয়। লোহার গড়ন। প্রতিটি ফ্রেমের উপর আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চমৎকার।

প্রদর্শনীর কিছু ছবি অদেখা অল্পদেখা। বার বার দেখা ছবিও আছে। না, ধারাবাহিক উপস্থাপনা দেয়া হয়নি। কিছু মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবেই তুলে ধরা। তবে ছবিগুলো দেখতে দেখতে নিজের মতো করে মালাটি গেঁথে নেয়া যায়। একটি আলোকচিত্রে ৬৬’র ছয় দফা। পাকিস্তানের লাহোরে বাঙালী নেতা তাঁর ঐতিহাসিক দাবি তুলে ধরছেন। অল্প করে এসেছে ’৬৯ ’৭০ ও ’৭১ সাল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ছবি আছে। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের যে ছবি, একটু নতুন মনে হয়েছে। বিভিন্ন ছবিতে ঘুরে ফিরে এসেছেন নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত শেখ মুজিব। কখনও তিনি গ্রামের সরল মানুষদের সঙ্গে। কী যে সুন্দরভাবে মিলেমিশে গেছেন! এমনকি শিশুদের পাশে তিনি যেন বন্ধুজন। ছেলে-মেয়েদের জটলার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কোন একজনের মাথায় হাত দিয়ে আদর করে দিচ্ছেন। এভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব ও জনগণের নেতা শেখ মুজিবের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য করা মুশকিল হয়ে যায় ছবি দেখে। তবে বিশ্বনেতাদের পাশে মুজিব তার আভিজাত্যের পুরোটা নিয়েই দাঁড়ান।

আজকের দিনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনেক বড় আলোচনা। ইতিহাস বিকৃত করে সুযোগসন্ধানীরা বলতে চান, মুজিব নিজেই যুদ্ধাপরাধীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। আদতে কী? প্রদর্শনীর একাধিক আলোকচিত্র বলে ভিন্ন কথা। দৈনিক বাংলার প্রধান সংবাদ তুলে আনা হয় আলোকচিত্র আকারে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাÑ বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।

প্রদর্শনীতে নানা অঙ্গ ভঙ্গিতে ধরা পড়েছেন শেখ মুজিব। হাসি আছে। আছে কান্নাও। তবে গভীর কোন ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে দেখা যায় বার বার। কী ছিল সেই ভাবনা? কেন? আজকের বাংলাদেশ হয়ত এর উত্তর দিচ্ছে।

প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তি জীবনও। এ জীবনে আরও মুজিবের তুলনা তিনি নিজেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কী যে আন্তরিক পরিবেশে দৃশ্যান হন তিনি! তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। প্রতিটি ফ্রেমের সামনে কৌতূহলী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। নতুন চোখে তাঁরা দেখছেন প্রিয় পিতার মুখ। মহান নেতার বর্ণাঢ্য জীবন আর সংগ্রামের ইতিহাসটি পাঠ করছেন আরও একবার।

উল্লেখ করার মতো তথ্য হচ্ছে, প্রদর্শনীর কোন ছবিতে নিহত শেখ মুজিবকে রাখা হয়নি। কালোরাত্রীর দুঃসহ স্মৃতি থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে আয়োজনটিকে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পীকার শিরীন শারমীন চৌধুরী বলেন, শোক দিবস হলেও, প্রতিটি ছবিতেই জীবন্ত হয়ে উঠেছেন জাতির জনক। এভাবেই আমরা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।

তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী আজ শনিবার শেষ হবে।