২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত মোহাম্মদ রফিকের কবিতা

ব্যাঘ্রবিষয়ক

আগস্টের পনেরো তারিখ উনিশ শ’ পঁচাত্তর;

অতর্কিত শিকারির পদশব্দে অরণ্য শঙ্কিত

বাদুড়ের ডানার ঝাপ্টায় গজারীর মৃত পাতা

খসে পড়ে, বনের গোপন সঙ্কেতে সচকিত

হরিণ-হরিণী, কাক কা-কা, ইতস্তত রাইফেলের

প্রক্ষিপ্ত-উন্মত্ত গুলি, বিঘিœত বেজির সহবাস;

বাঘের দু’চোখ বিদ্ধ সার্চলাইটে, হটে না এগোয়

আহত প্রচণ্ড ক্ষোভ আলোর চাতুর্যে মানবিক

ছলনায়, শাসায় মৃত্যুকে, জানে এই বেঁচে থাকা

শিকারির আক্রমণে অরণ্য শঙ্কিত অযথাই;

দীর্ঘদেহী সুন্দরী গরান শাল অতন্দ্র সেগুন

পাহারায়, নিজস্ব শাবকগুলো দুঃখে আঁচড়ায়

নখ, ফোঁসে; প্রমত্ত গর্জনে সাড়া তুলবে অকস্মাৎ;

বাঙালির শুদ্ধ নাম শেখ মুজিবুর রহমান।

তবে

নিজে স্বপ্ন দেখেছিল,

কাউকে কাউকে স্বপ্নও দেখিয়েছিল;

আজ শুকনো গোবরের নিচে

স্থলপদ্ম, মারা পড়ে আছে;

একটি সারস্বত জীবনের

জনপদাবলী;

ভালোবাসার মাস

সে তো পড়ে রইল ধলেশ্বরী পদ্মা বংশী বিষখালী

পেরিয়ে যতদূর বিস্তৃত মেঘনা যমুনা গজারিয়া তিস্তা;

কোথাও-বা তিরতির জলে হাই তুলছে বালি, বেগানা

হাওয়ায় ঘোমটা খুলছে তৃণ!

থমকে-যাওয়া মেঘে-মেঘে ক্ষয়ে-আসা চতুর্দিকে প্রক্ষিপ্ত সূর্যের

ছায়াভস্ম, এতটাই নিরুদ্বিগ্ন; যেন সময়ের অশ্বক্ষুরধ্বনি

থেমে আছে পলাশীর প্রান্তরসীমা ছুঁয়ে আম্রকাননে!

শুধুমাত্র একপাল অভিবাসী পাখির দঙ্গল উড়ে চলে

মাঠ-ঘাট-নদী, কচুরিপানার ঝাঁক, হোগলার ঝোট

ছেড়ে; পায়ে কাদা, মুখে ধানশিষ!

নিঃসাড় হয়ে এলো দেহ! এইমাত্র বেরিয়ে গেল শ্বাস!

জল ভাবে, চুড়ি-শাঁখা-নোয়া ভেঙে শুরু হলো

বেপথু হওয়ার কাল! পালটে নেয়

জ্যোৎস্না-ধোয়া ধবধবে সাদা থান!

রাত্তির কিন্তু গাঢ়স্বরে বলে, না!

ওই দেখো, অন্ধকার বাঁশঝাড়ে, শটিবনে, দেহখানা নড়েচড়ে,

হায় হায় জলগন্ধে ভুরভুর নিঃসীম পাথার!