২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্মম জেরার প্রয়োজন আছে

  • আইওয়াতে রিপাবলিকান অনুষ্ঠানে জেব বুশ

রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী জেব বুশ। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্যাতন করার রীতি পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা বাতিল করে দিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কোন কোন পরিস্থিতিতে নির্দয় জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয় হতে পারে। খবর গার্ডিয়ানের।

ফ্লোরিডার সাবেক গবর্নর বৃহস্পতিবার বলেন, সাধারণভাবে তিনি মনে করেন নির্যাতন করা অনুচিত এবং তাঁর ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ দায়িত্ব ত্যাগ করার আগে বহুলাংশে সিআইএ’র এই পদ্বতির ব্যবহার বন্ধ করে গেছেন। সিআইএ আল কায়েদার বন্দীদের ভয় দেখাতে পানিতে চুবানো (ওয়াটার বোর্ডিং), নগ্ন করা, ঘুম হরণ, লাঞ্ছনা করা ও অন্যান্য পদ্ধতি প্রয়োগ করতÑ যুদ্ধবন্দীদের প্রতি সামরিক বাহিনীর যেসব পদ্ধতির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইওয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান শ্রোতৃম-লীর উদ্দেশে ভাষণদানকালে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তথাকথিত বর্ধিত জিজ্ঞাসাবাদ কৌশল নিষিদ্ধ করার নির্বাহী আদেশ রেখে দেবেন না বাতিল করবেন। জবাবে জেব বুশ বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট, ঢালাও বিবৃতি দিতে চাই না।’ ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি সিনেট রিপোর্টে সিআইএ’র রেকর্ড উদ্ধৃত করে বলা হয়, তথ্য আদায় করার কৌশলগুলো ইতোপূর্বে প্রকাশ হওয়ার চেয়েও বেশি নির্মম। সিআইএ সেগুলোর বিষয়ে মিথ্যা বলেছিল এবং তারা অনন্য এবং প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে এমন তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। সিআইএ ও তার সমর্থকরা রিপোর্টে উল্লিখিত প্রশ্নটি অস্বীকার করেছে। জেব বুশ বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, তথ্য আদায়ের জন্য কৌশলগুলো কার্যকর তবে ‘আমরা এখন ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করছি।’ তিনি আভাস দেন যে, এমন উপলক্ষ হতে পারে যেখানে দেশকে নিরাপদ রাখার জন্য নির্মম জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। বুশ বলেন, ‘সে কারণে আমি বলছি না, সব পরিস্থিতিতে সব ঘটনায় এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।’ বৃহস্পতিবার পরে আইওয়াতে বুশ বলেন, বর্ধিত জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য আছে, তবে তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বলতে অস্বীকার করেন। ‘আমি জানি না। আমি শুধু বলতে চাই, আমি যদি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারি তবে আপনারা এই হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন না।’ জেব বুশ একটি সাবধানী পথে হাঁটছেন। তিনি তাঁর ভাইয়ের প্রশংসা করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর (জর্জ বুশ) সময়ের কিছু জনপ্রিয় নয় এমন দিক থেকে নিজেকে বিযুক্ত করার চেষ্টা করছেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ ইরাক যুদ্ধ প্রসঙ্গে জেব বুশ, যিনি আগে স্বীকার করেছিলেন যে, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য সে দেশে আক্রমণের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, দখলদারির সময় করা কিছু ভুল থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরাকী সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, তাঁর ভাইও এখন মনে করেন, সেটি ছিল ভুল। জেব আইএস জঙ্গীগোষ্ঠীর উত্থানের জন্য ২০১১ সালে সেখান (ইরাক) থেকে মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহার প্রশ্নে কোন চুক্তিতে পৌঁছতে ওবামার ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

তিনি আইএসের প্রতি আরও আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান পুনরুল্লেখ করেন। তবে ওবামা প্রশাসনের মতো তিনি নিয়মিত স্থলবাহিনী পাঠানোর বিরোধিতা করেন। তিনি অবশ্য রণাঙ্গনে বিশেষ অপারেশন্স বাহিনী মোতায়েন করার পক্ষপাতি। জেব বুশ আমেরিকান্স ফর পিস, এস্পারিটি এ্যান্ড সিকিউরিটি গ্রুপের উদ্যোগ আয়োজিত পররাষ্ট্রনীতি ফোরামে বক্তব্য রাখেন। মিশিগানের রিপাবলিকান দলীয় সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স ওই গ্রুপের সভাপতি। তিনি হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটিরও সভাপতি।