২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আপীল করবে না বাফুফে

  • ক্রুইফের শাস্তি কমাতে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের সাজার মেয়াদ কমানোর জন্য ফিফা বরাবর কোন আপীল করবে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কারণ ফিফার কোড অব কন্ডাক্টে শাস্তির মেয়াদ কমানোর বিধান না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে। ক্রুইফ আপাতত দলের সঙ্গে না থাকলেও ফিফা বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের (আগামী ৩ সেপ্টেম্বর, পার্থ) সব পরিকল্পনা এই ডাচ্ম্যানের হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী কোচ সাইফুল বারী টিটু।

কয়েক মাস আগে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে শিষ্যদের পারফর্মেন্সে অসন্তুষ্ট হয়ে মাঠে বোতল ছুঁড়ে মেরেছিলেন ক্রুইফ। শুধু তাই না, এমন অশোভন আচরণের কারণ জানতে চাইলে মেজাজ হারিয়ে সিঙ্গাপুরের রেফারি সুখবীর সিংয়ের সঙ্গেও বিবাদে জড়িয়ে পড়েন ক্রুইফ। বিষয়টি মোটেও ভালভাবে নেননি ম্যাচ রেফারি। তাই মাশুলটা ক্রুইফকে গুনতে হচ্ছে। দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাড়ে আট হাজার সুইস ফ্রা জরিমানা করেছে ফিফা। ফিফার পক্ষ থেকে এমন সাজা পাওয়ার পর বিষয়টি সুরাহায় বাফুফের শরণাপন্ন হন ক্রুইফ। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোড অব কন্ডাক্টে এই সাজার মেয়াদ কমানোর বিধান না থাকায় ক্রুইফকে কোন সুসংবাদ দিতে পারেনি বাফুফে। দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া গেলেও ম্যাচের ডাগ আউটে থাকতে পারবেন না ক্রুইফ। তার পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করবেন সাইফুল বারী টিটু। কিন্তু গেম প্ল্যান থেকে শুরু করে সবকিছুই ক্রুইফের পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে বলে জানান জাতীয় দলের এই সহকারী কোচ। তবে ৩ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে থাকতে না পারলেও আগামী ২৯ আগস্ট মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকতে কোন বাধা নেই ক্রুইফের।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, জরিমানার অর্থ ক্রুইফকেই নিজের পকেট থেকে দিতে হবে। শাস্তি পেলেও ক্রুইফের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া কিন্তু বাতিল হচ্ছে না। এ উপলক্ষে আগামী ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ আসছেন ক্রুইফ। অবশ্য এ ধরনের শাস্তি পাওয়ার অভিজ্ঞতা আগেও ছিল ক্রুইফের। এর আগে ২০১৩ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ‘মার্চিং অর্ডার’ পেয়েছিলেন তিনি।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির এ সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছেন ক্রুইফ। ফিফার শাস্তি প্রসঙ্গে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ। ফেসবুকে জানিয়েছেন, ‘আমি কি কাউকে হত্যা করেছি? ফিফার এ শাস্তির সিদ্ধান্ত হাস্যকর! রেফারির সঙ্গে কেন তর্ক করেছেনÑ এর ব্যাখ্যা চেয়ে ক্রুইফকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাবও দিয়েছিলেন ক্রুইফ। কিন্তু তার ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। তাই এমন শাস্তি পেতে হয় ক্রুইফকে।