২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ সফরে অসি নেতৃত্বে তরুণ স্মিথ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সর্বশেষ পরিবর্তনটা হয়েছিল চার বছর আগে। ২০১১ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে গদিচ্যুত হয়েছিলেন রিকি পন্টিং। উপমহাদেশে যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের পরই বাংলাদেশ সফর। সে সফরে পন্টিং দলে থাকলেও অধিনায়ক হয়েছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। সেটি ছিল স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে তরুণ ক্লার্কের প্রথম মিশন। চার বছর কেটে গেছে, ছকও পাল্টে গেছে। যেভাবে এসেছিলেন ক্লার্ক এবার সেভাবেই চলে যেতে হচ্ছে তাকে। তিনি এমনকি দলেই থাকছেন না কিছুদিন বাদেই বাংলাদেশ সফরে। কারণ এবার এ্যাশেজে দলের ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে টেস্ট থেকেও অবসর নিয়ে ফেলেছেন। তাই বাংলাদেশ সফরে আবারও নতুন ও স্থায়ী কা-ারি হিসেবে একজনকে পেতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। শুক্রবার তরুণ স্টিভেন স্মিথকে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

বিশ্বকাপ আর এ্যাশেজ কোনটাই কম মর্যাদার ও কম বড় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা নয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। টেস্টের বিশ্বকাপ অসিদের কাছে এ্যাশেজটাই। কিন্তু এবার ক্লার্কের অধীনে ভরাডুবি হয়েছে অসিদের। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৩-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হেরে গেছে সফরকারীরা। আর অধিনায়ক হিসেবে দলকে যেমন ব্যর্থতা থেকে তুলতে পারছেন না তেমনি আবার ব্যাট হাতেও পুরোপুরি ব্যর্থ ক্লার্ক। এমনকি সিøপ ফিল্ডার হিসেবে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হলেও সম্প্রতি সেক্ষেত্রেও ব্যর্থ তিনি। সবমিলিয়ে দারুণ চাপে থাকা ক্লার্ক বুঝে গিয়েছিলেন সময়টা চলে এসেছে বিদায় নেয়ার। আরও আগেই বিদায়ঘণ্টা শুনতে পাচ্ছিলেন। সে কারণে এবার ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেই ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টেস্ট থেকে বিদায়টা হচ্ছে বিষাদের। মর্যাদাপূর্ণ এ্যাশেজে লজ্জাজনক পারফর্মেন্স দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সে দায়টা নিয়েই বিদায় নিতে হচ্ছে ক্লার্ককে। তার শূন্যস্থান পূর্ণ করা হচ্ছে তরুণ স্মিথকে দিয়ে।

বাংলাদেশ সফর দিয়েই যেন নতুন দিগন্তে পা রাখা শুরু হয় অসিদের। ২০১১ বিশ্বকাপের পর পন্টিং নেতৃত্ব হারান ব্যর্থতার কারণে। কারণ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল অসিরা। সে কারণে বিশ্বকাপ শেষেই বাংলাদেশ সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব পান ক্লার্ক। তবে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তখনও আসীন ছিলেন পন্টিং। এবার ক্লার্কের স্থানে একইভাবে আসছেন স্মিথ। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক আগেই হয়েছেন, এবার টেস্ট অধিনায়কও হচ্ছেন। ক্লার্ক থাকছেন না কোন ফরমেটেই। স্মিথ স্থায়ী টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করছেন বাংলাদেশ সফর থেকেই। তার সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে উদ্বোধনী মারকুটে ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নারকে।

আগেই অবশ্য স্মিথকে ভবিষ্যত পরিকল্পনার উদ্দেশ নিয়ে টেস্ট দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে পরখ করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর নবেম্বরে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে ক্লার্ক পিঠের অস্ত্রোপচার করানোর পর তিন টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাই নিজেরও পরীক্ষা হয়ে গেছে। দলকে নেতৃত্ব দেয়ার চাপ নিয়ে ব্যাটটাও দারুণ চালিয়েছেন এ তরুণ। তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাটসম্যান হিসেবে জায়গাটাকে ভালভাবেই পাকাপোক্ত করেছেন তিনি। স্মিথকে অধিনায়ক করার বিষয়ে সিএ জাতীয় প্রধান নির্বাচক রডনি মার্শ বলেন, ‘গত সপ্তাহে যখন মাইকেল অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন এটা আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে খুব সহজ ব্যাপার ছিল। তার উত্তরসূরি হিসেবে স্টিভেন সবচেয়ে উপযুক্ত। তার অবস্থানটা অনেক বড় এবং সহজে পূরণীয় নয়। কিন্তু সবাই স্টিভের কথাই বলছেন যে তিনি এ কাজের জন্য সবচেয়ে যোগ্য। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই চমৎকার মানুষের পাশাপাশি দারুণ মেধাবী, চমৎকার নেতৃত্ব গুণাবলী এবং দারুণ মনোভাবের অধিকারী স্মিথ।’

দুই ফরমেটের অধিনয়াক স্মিথ এবার আসন্ন টি২০ সিরিজেও দলকে নেতৃত্ব দেবেন। কারণ টি২০ অধিনায়ক এ্যারন ফিঞ্চ ইনজুরিতে। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে সিরিজেও স্মিথের ডেপুটি হিসেবে থাকছেন ওয়ার্নার। আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশ সফর দিয়েই স্মিথের স্থায়ী টেস্ট নেতৃত্বের অভিযানটা শুরু হবে। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম এবং সবমিলিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ আসবে অসিরা। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল বাংলাদেশ দল। দু’দলের মধ্যে টেস্ট সিরিজ হয়েছে এ দুটিই। এবারও সিরিজে দুই টেস্ট হবে।