২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশী প্রতিবেদন

  • দ্রুতগতির কম্পিউটার তৈরি করতে যাচ্ছে আমেরিকা

বিশ্বের সব থেকে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার তৈরির একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছে ওবামা প্রশাসন। ‘ন্যাশনাল স্টাটেজিক কম্পিউটিং ইনিসিয়েটিভ’ নামক এই প্রকল্পটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন আমেরিকা শক্তি, প্রতিরক্ষা দফতর, এবং ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানীরা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য একটি ‘এক্সাস্কেল কম্পিউটিং সিস্টেম’ বা সহজ ভাষায় এমন একটি সুপার কম্পিউটার তৈরি করা যা কিনা বিলিয়ন বিলিয়ন (প্রায় দশ হাজার কোটি) ক্যাল্কুলেশন করতে পারবে প্রতি সেকেন্ডে।

গুগল, আইবিএম এবং মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টদের জন্মদাতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির পুণ্যভূমি হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকাকে পেছনে ফেলে সুপার কম্পিউটার তৈরিতে এগিয়ে আছে চীন।

চীনের ‘তিয়ানহি-২’ এই মুহূর্তে বিশ্বের সব থেকে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার। প্রায় ৩৩ দশমিক ৮৬ পেটাফ্লপ কম্পিউটিং ক্ষমতাসম্পন্ন এই সুপার কম্পিউটারটি তৈরি করেছেন চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বলে রাখা ভাল উচ্চগতিসম্পন্ন কম্পিউটারের কর্মক্ষমতা হিসাব করা হয় ফ্লপ (ঋখঙচ) এককে এবং ১ পেটাফ্লপ = ১০১৫ ফ্লপ।

চীনকে পেছনে ফেলে ২০১৮ সালের ভেতর যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করতে যাচ্ছে প্রায় ১৮০ পেটাফ্লপ ক্ষমতাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটারটি। যার যন্ত্রাংশ সরবরাহ করবে ইন্টেল এবং সুপার কম্পিউটিং কোম্পানি ক্রেয়। এর ক্ষমতাকে ব্যখ্যা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইনফরমেটিক্স এবং কম্পিউটিংয়ের প্রধান গবেষক থমাস স্টারলিং একে তুলনা করেন একত্রে কাজ করতে থাকা প্রায় ১০০ কোটি সর্বাধুনিক ল্যাপ্টপের কর্মক্ষমতার সঙ্গে। তিনি মনে করেন এই বিপুল পরিমাণ কম্পিউটেশান ক্ষমতা দিয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন, মহাকাশ গবেষণা, মস্তিষ্কের নিউরন কর্ম প্রক্রিয়া কিংবা বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে বৈপ্লবিক অধ্যায় সূচনা করা সম্ভব।

তবে এই দানবাকৃতি কম্পিউটার তৈরিতে বেশ বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে এর গবেষক দলকে। যেমন বর্তমান প্রযুক্তিতে একটি এক্সাস্কেল কম্পিউটারকে সচল রাখতে যে পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন তার যোগান দিতে প্রয়োজন হয় একটি মাঝারি আকৃতির পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের। সুতরাং এই বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু এর থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছেÑ এই বিশাল আকৃতির কম্পিউটারটিকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা যেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে আসা গবেষকরা খুব সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় কাজটি করতে পারে এর মাধ্যমে। আর সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এর গবেষক দল।