১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহী শহরময় আবর্জনার স্তূপ

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরীতে প্রবেশের তিনটি পথ অতিক্রম করলে বাইরে থেকে সাজানো-গোছানো পরিচ্ছন্ন শহর মনে হতে পারে যে কারোরও। প্রধান সড়কের দুইপারে পরিচ্ছন্ন ফুটপাথ সবার নজর কাড়বে। তবে শহরের অভ্যন্তরীণ পথে পা বাড়ালেই আসবে বিপত্তি। চারিদিকে আবর্জনার স্তূপের পচা দুর্গন্ধ নাকে আসবে সবার আগে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই বসবাস করছেন রাজশাহী নগরীর বাসিন্দারা।

সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণে অভ্যন্তরীণ পথে পথে এখন এমন অবস্থা রাজশাহী নগরীর। যেন আর্বজনার স্তূপে পরিণত হয়েছে সর্বত্র। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কারের নামে নগরীজুড়ে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছে ছোট ছোট পথ ও মহল্লার অলিগলি। কোন কোন এলাকায় নাকে রুমাল ছাড়া চলাফেরা সম্ভব নয়।

২০১৩ সালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগের পরিপাটি নগরীর এখন অনেকটাই নাজেহাল। নতুন মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সিটি কর্পোরেশনের চেন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে। মামলা মোকদ্দমার মুখে মেয়রের গা ঢাকা, বহিষ্কার, পাল্টা ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে দায়িত্ব, আবার কখনও কখনও মেয়রশূূন্য অবস্থার প্রেক্ষিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বর্তমানে মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিংবা কমিশনারশূন্য রাজশাহী নগরভবন।

এদিকে নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থায় জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব, রাস্তাঘাট, বাজার, বিদ্যুত, জ্বালানি, যানজট, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যত্রতত্র আর্বজনাসহ নগরীর সব সেক্টরেই রয়েছে সমস্যা। এগুলোর প্রায় সবগুলোকে প্র্রধান সমস্যা হিসেবে মনে করছেন নগরবাসী।

মহানগরী এলাকায় সড়ক, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও শিক্ষার উন্নয়ন যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেভাবে মোটেও হয়নি। নগরীর বিভিন্ন মহল্লার ভেতর দিয়ে যাতায়াতের জন্য যে রাস্তা বিভিন্ন সময় নির্মাণ করা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থাও খারাপ । নগরবাসী বর্ধিত হারে কর দিলেও বঞ্চিত রয়েছেন পর্যাপ্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে।

রাজশাহী বারের আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, ড্রেনেজ প্রকল্পের নামে নগরীতে বছর বছর কোটি কোটি টাকা কর্পোরেশন খরচ করলেও ড্রেনেজ সিস্টেম যে তিমিরে ছিল, সে তিমিরেই রয়ে গেছে। বরং মশার উৎপাতে নগরবাসী অতিষ্ঠ আরও বেশি। তিনি বলেন, এখন নাগরিক সেবা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহী নগরীর বাসিন্দারা জলাবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। যানজটেও আক্রান্ত ছোট এ শহর।

মহিলা আইনজীবী সমিতির নেত্রী এ্যাডভোকেট দিল সিতারা চুনি আক্ষেপ করে বলেন, নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কে এখন পা ফেলা যায় না। এক সময়ের পরিচ্ছন্ন নগরীর সর্বত্র এখন চোখে পড়ে আবর্জনার স্তূপ। ফলে নগরীর পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। ‘জনউদ্যোগ’ রাজশাহীর ফেলো জুলফিকার আহমেদ গোলাপ অবিলম্বে নগর সেবা বৃদ্ধির দাবি জানান।

রাজশাহী সিটি কর্পোশেনের একটি সূত্র জানায়, মেয়রশূন্য সিটি কর্পোরেশন এখন নিজেই আক্রান্ত। নগরবাসীর সেবা দেয়ার কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নগরভবনে মেয়র কাউন্সিলর শূন্য। কর্মকর্তারা ইচ্ছেমতো অফিস করেন, ঘুরে বেড়ান। কেউ কারও কথা শোনেন না। এসব কারণে নগর সেবার সব উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

রাসিকের উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, কেউ নির্দেশ না মানায় রাস্তার ওপর সপ্তাহ ধরে পড়ে থাকছে এসব ময়লা-আবর্জনা। নির্মাণ সামগ্রী সড়কে রেখে চলছে ভবন নির্মাণ। রাতের বেলা নগরের আবর্জনা অপসারণের কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। এতে আবর্জনার দুর্গন্ধে বিষময় হয়ে উঠেছে নগরীর পরিবেশ। তিনি অবশ্য এসব বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে দুষে বলেন, এসব দায়িত্ব তার। এ ব্যাপারে নগর ভবনে গিয়েও রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। টেলিফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।