১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের। এ জন্য রাস্তা উন্নয়ন ও ড্রেন কাম ফুটপাথ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ কোটি এবং আরসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির সভায় গত মঙ্গলবার অনুমোদন করা হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্ত খান জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৭টি নতুন ইউনিয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং জলাবদ্ধতা হ্রাস করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলোতে পূর্বের সকল সুযোগ-সুবিধা স্থগিত হওয়ায় এ প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা প্রদান করা যাবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে ৬৩ দশমিক ৯১ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবেল পেভমেন্ট এ্যাসফল্ট নতুন, ৩টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ, ২টি ডাবল কেবিন পিকআপ ক্রয় ও ৫টি মোটরসাইকেল ক্রয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে রংপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। রংপুর পৌরসভা বাংলাদেশের প্রাচীনতম পৌরসভাগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং যা ১৮৬৭ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র ছিল রংপুর। ১৯৮৬ সালে রংপুর পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। ২০১০ সালে বিভাগ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রংপুরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় রংপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পাশ দিয়ে প্রাচীনতম ঘাঘট নদী প্রবাহিত। শ্যামসুন্দরী ও কেডি ক্যানেল নামে দু’টি খাল রংপুর শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অনেক ছোট শিল্প ও কলকারখানা রংপুর শহরে গড়ে উঠেছে। বর্তমান রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ২০৩.১৯ বর্গকিলোমিটার ও জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। নতুন ঘোষিত সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ৭টি ইউনিয়ন (উত্তম, পরশুরাম, তামপাট, তপোধন, রাজেন্দ্রপুর, সাতগাড়া এবং দর্শনা) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই ৭টি ইউনিয়ন অপেক্ষাকৃত কম উন্নত। সিটি কর্পোরেশনভুক্ত হওয়ায় এ সকল ইউনিয়নের সকল সুবিধা স্থগিত হয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশন থেকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন। নতুন অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাটই কাঁচা। অধিকাংশ রাস্তা সরু ও অপ্রশস্ত। যানজট এই এলাকার নিত্যদিনের দৃশ্য এবং যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারে না। নতুন সম্প্রসারিত এলাকায় কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা রংপুর মহানগরীর আর একটা বড় সমস্যা।

এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ড্রেনেজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং প্রকৌশলীগণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনপূর্বক প্রকল্পের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের এলাকা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিক সেভাবে জনগণের সেবা বৃদ্ধি পায়নি। নতুন সিটি কর্পোরেশন ১০ লাখেরও বেশি লোকের বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদান করছে। পাশাপাশি নগরবাসীর সাধারণ সেবাও প্রদান করে আসছে। আর্থিক সঙ্কটের কারণে সিটি কর্পোরেশন নগর এলাকার জনগণের বিভিন্ন সেবাদি যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না। তারপরও রংপুর সিটি কর্পোরেশন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এই প্রকল্পটি সরকারী ৯০ শতাংশ সিটি কর্পোরেশনের ১০ শতাংশ অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।