২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে ৭ মাসে ২৫৫ সড়ক দুর্ঘটনা ॥ নিহত ২৩৭

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে চট্টগ্রামে সংঘটিত ২৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৩৭ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা ৭৬৬। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে। বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে তৈরি করা যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ২৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত এবং ৭৬৬ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ১৫৫ জন আহত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ৬২ জন আহত হয়। মার্চে ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়। এপ্রিলে ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হয়। মে মাসে ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়। জুনে ৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১৯ জন আহত হয়। জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৪৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২১৭ জন আহত হয়। এই সময়ে ৫৬টি বাস, ৬৮টি ট্রাক, ৪০টি কার্ভাডভ্যান, ৪১টি হিউম্যান হলার, ৫৮টি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৫৩টি নসিমন-করিমন, ৬৫টি মটর সাইকেল ও ৪৭টি অন্যান্য যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরের প্রথম ৭ মাসে দুর্ঘটনাস্থলে সর্বমোট ২১৭ জন, হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জন, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ৩ জন মারা যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকু- ও মিরসরাই অংশে চার লেনের কাজ অসমাপ্ত থাকায় এবং একই লেনে বিপরীতমুখী যানবাহন চলাচল ও সিএনজি, নসিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, টুকটুকি, অযান্ত্রিক যান চলাচলের কারণে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ পটিয়া অংশে প্রাইভেট মাইক্রোবাস ভাড়ায় যাত্রী বহনের কারণে সর্বোচ্চ সংখ্যক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিক্সা দুর্ঘটনার প্রধান অনুঘটক হিসাবে দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক মহাসড়কে জেব্রাক্রসিং, প্রয়োজনীয় ফুটপাথ ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা এবং বিদ্যমান ফুটপাথ হকারমুক্ত করে যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নেয়া এবং মহাসড়কের হাটবাজার উচ্ছেদ করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সড়ক-মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন এবং ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন চালু করা, মহাসড়কে নছিমন করিমন, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল বন্ধের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন কাজ দ্রুত শেষ করা, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা একেবারে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা আনা সম্ভব হবে বলে অভিমত সংগঠনটির। সম্প্রতি অবৈধ যানবাহন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত মানসম্মত নিরাপদ গণপরিবহন নামানোর দাবি জানানো হয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে।