১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ময়লা আবর্জনার ভাগাড় ময়মনসিংহ শহর

  • রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ

বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ উৎকট দুর্গন্ধের ময়লা আবর্জনা আর ক্লিনিক্যাল বর্জ্যরে ভাগাড় ময়মনসিংহ শহর! হাসপাতালের সামনে, শহরের মোড়ে মোড়ে, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাজুড়ে এই ময়লা আবর্জনার ছড়াছড়ি। প্রয়োজনীয় ডাস্টবিন না থাকায় শহরজুড়ে রাস্তার ওপর যেখানে সেখানে, এমনকি ড্রেনের ওপর ফেলা হচ্ছে বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এসব আবর্জনা ও বর্জ্য পচে-গলে মারাত্মক রোগজীবাণুসহ উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শহরে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তফা কামাল জনকণ্ঠকে জানান, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য থেকে হেপাটাইটিস বি, জন্ডিস, যক্ষ্মা, ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডসহ মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। অথচ প্রাচীন জেলা শহর ময়মনসিংহের এই সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেই পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের। এ নিয়ে নির্বিকার ময়মনসিংহের নাগরিক নেতৃবৃন্দও।

ময়মনসিংহ পৌর কর্তৃপক্ষীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তন ও পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত প্রথম শ্রেণীর ময়মনসিংহ পৌর এলাকার ২১টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ১২০ মে. টন ময়লা আবর্জনা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে নিয়মিত অনিয়মিতসহ ৪০০ কর্মচারী ও ১২টি যানবাহনের সহায়তায় প্রতিদিন ৮০ মে. টন ময়লা আবর্জনা অপসারণ করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এই হিসেবে প্রতিদিন ৪০ মে. টন ময়লা আবর্জনা উদ্বৃত্ত পড়ে থাকছে। এর সঙ্গে শহরের দুই শতাধিক ক্লিনিক ও প্যাথলজি ল্যাবের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য তো আছেই। স্থানীয়দের দাবি অপসারণের অভাবে পৌর এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৫০ মে.টন ময়লা আবর্জনা ও ক্লিনিক্যাল বর্জ্য শহরের রাস্তাঘাট, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় পড়ে থাকছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে থেকে মেডিক্যাল কলেজ গেট পর্যন্ত রাস্তার একপাশের অর্ধেক জায়গাজুড়ে পড়ে থাকছে ডিজপজেবল সিরিঞ্জসহ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা। শহরের ধোপাখলা মোড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের সামনে, রামকৃষ্ণ মিশন রোডের জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সামনে, ব্রাহ্মপল্লী বকুলতলা মসজিদের সামনে, কৃষ্টপুর দৌলতমুন্সি রোডের মেডিক্যাল ছাত্রাবাসের দেয়াল ঘেঁষে, কলোনির সামনে, চরপাড়া মোড়ের কাঁচাবাজারের সামনে, কলেজ রোড মুসলিম গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের সামনে এ রকম ময়লা আবর্জনার স্তূপ ভয়াবহ। ডাস্টবিন না থাকায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে, ফুলবাড়িয়া পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার জিলা স্কুল ছাত্রাবাসের দেয়াল ঘেঁষে, আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টার কৃষি অফিসের সামনে, কাচিঝুলি ইটাখলা রোড, আমলাপাড়া, ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা রামবাবু রোড, গাঙিনাপাড় ও স্টেশন রোডের ওপর পড়ে থাকছে পচাগলা ময়লা আবর্জনার স্তূপ। দিনে দুপুরে ট্রাকে করে সরানো হচ্ছে অনেক সময় এই ময়লা আবর্জনা। শহরের গাঙিনাপাড় ও স্টেশন রোড থেকে এভাবে ট্রাকে করে দিনের বেলায় ময়লা সরানো নিয়ে ক্ষুব্ধ শহরবাসী। কেবল তাই নয় শহরের ময়লা ট্রাকে করে শহরতলির চায়নামোড় সংলগ্ন সওজের রাস্তার পাশে ও রাস্তার ওপরের খোলা জায়গায় ফেলা নিয়েও ফুঁসে উঠছেন শহরতলির মানুষজন। প্রকাশ্য খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে প্রতিনিয়ত উৎকট ও বিষাক্ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও স্থানীয়দের। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা ভাবছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে প্রকাশ্য স্থানে এভাবে ময়লা ফেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এদিকে ময়মনসিংহ পৌর এলাকায় গড়ে ওঠা দুই শতাধিক ক্লিনিক ও প্যাথলজি ল্যাবের কারও ক্লিনিক্যাল বর্জ্য পোড়ানোর নিজস্ব কোন ইনসিনেরেশন মেশিন না থাকায় এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শহরের অলিগলি ও রাস্তাসহ ড্রেনের ওপরে। পাদ্রি মিশন রোডের নিরাময় ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ড্রেনের ওপর। যেসব এলাকায় হাতেগোনা ডাস্টবিন রয়েছে সেগুলো পরিষ্কার না করায় শহরবাসী ময়লা আবর্জনা নিয়ে তার ধারেকাছেও যেতে পারছে না। ফলে ময়লা আবর্জনা রাস্তার ওপর অথবা ড্রেনে ফেলে দেয়া হচ্ছে প্রকাশ্য। অথচ ময়লা আবর্জনা অপসারণে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিরলদের বিপরীতে ১২ থেকে ২৪ জন করে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে একশ্রেণীর কাউন্সিলর ও লেবার সুপারভাইজর কম লোকবল খাটিয়ে বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র জানায়, শহরের চরপাড়া, নয়াপাড়া, ব্রাহ্মপল্লী, বাঘমারা, পাদ্রি মিশন রোড, চামড়াগুদাম, ধোপাখলা মোড় এলাকার ক্লিনিক ও প্যাথলজি ল্যাবপাড়ার মানুষজন ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। শহরের সিংহভাগ এলাকায় ময়লা আবর্জনা ও ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভার নির্ধারিত কোন ডাস্টবিন না থাকায় মূলত গোটা শহরের রাস্তাঘাট ও অলিগলিসহ ড্রেনকে ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করছে শহরবাসী। শহরের চরপাড়া নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ময়মনসিংহ মেডিক্যালের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. শাহ মনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডাস্টবিন না থাকলে শহরবাসী ময়লা আবর্জনা কোথায় ফেলবে? ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু সমস্যা সমাধানের প্রশ্ন এড়িয়ে এর দোষ চাপান শহরবাসীর ওপর। তিনি জানান শহরবাসী একটু সচেতন হলে এসব সমস্যা হতো না।