২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টেলিফোন অপচয়

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ পাঁচ উপজেলাসহ জেলা শহরে সরকারী আধা সরকারী, স্বায়ত্তশাষিত প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক টেলিফোন এখন ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন মালিকরা। এদের মধ্যে রয়েছে অফিসের বড় কর্তাসহ ৪র্থ শ্রেণীর এমএলএসএস বা পিয়ন পর্যন্ত। কোন কোন অফিসের ঝাড়ুদার ক্লিনার পর্যন্ত একই ভাবে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহার না করে মোবাইল নাম্বর টেলিফোনে ঢুকিয়ে কথা বলছে। ফলে প্রতিমাসে সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব গুনতে হচ্ছে এই টেলিফোন খাতে। অথচও দিনের মধ্যে একবারও সরকারী কাজে ব্যবহার হচ্ছে না কোন কোন অফিসের টেলিফোন। তাই বলে বিলের পরিমাণ কম হচ্ছে না। অধিকাংশ সরকারী অফিসের এসব কর্মকর্তা কর্মচারী মোবাইল নাম্বার টেলিফোনে ঢুকিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত কাজে নিকট আত্মীয় কিংবা ছেলেমেয়ে আপনজনের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলছে। তিনি ছাড়ামাত্র সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারীরাও হামলে পড়ছে টেলিফোনের ওপর। ব্যবহার করছে মোবাইল নাম্বার। শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয় বিদেশেও একইভাবে সরকারী টেলিফোনে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলছে। সব সরকারী অফিসেই এই একই ধারায় এখন ব্যবহার হচ্ছে টেলিফোন। সরাসরি টেলিফোন-টু-টেলিফোন কথা বলা উঠেই গেছে।

সবাই প্রতিদিন অফিস টাইম পর্যন্ত সরকারী টেলিফোনটি ব্যবহার করছে মোবাইল ফোনের নাম্বার ঢুকিয়ে। বিশেষ করে দায়িত্বপূর্ণ সরকারী অফিস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্পর্র্শকাতর অফিসগুলোতে একই চিত্র নজরে এসেছে। আর কোন জরুরী দায়িত্বপূর্ণ কাজে বা ডাটা নিতে বাসার টেলিফোন থেকে অফিসের টেলিফোনের ঢোকার চেষ্টা করলে ব্যর্থ হতে হবে। অপর পার থেকে উত্তর আসবে টেলিফোনটি এনগেজ রয়েছে। সারাদিন চেষ্টা করেও কোন অফিসের টেলিফোন খালি পাওয়া যাবে না কথা বলার জন্য। অধিকাংশ অফিসের কর্মকর্তা, গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সারাক্ষণ অফিসে না থেকে বাইরে কাজে বা মাঠে গেলে সেই টেলিফোন চলে যায় অফিসের তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নাগালে। তারা ওই টেলিফোনে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে একের পর এক কথা বলা শুরু করে। এমনকি বাড়ির কোন কাজে স্ত্রী বা ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন পড়লে তারা সরকারী টেলিফোনে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে কথা বলে চলেন। আবার অনেক সরকারী কর্মকর্তার অফিস ও বাড়িতেও সরকারী টেলিফোন রয়েছে। সেইসব সরকারী কর্মকর্তার বাড়ির সরকারী টেলিফোন সারাদিন ব্যবহার করছে মোবাইল নাম্বার দিয়ে স্ত্রী ছেলেমেয়ে বা আত্মীয়স্বজন। যে সব সরকারী কর্মকর্তার বাড়িতে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়ে রয়েছে তারা সারাদিন আপনজন বা প্রেমিক প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলছে টেলিফোনে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে। আর এসব সরকারী টেলিফোনের বিল পরিশোধ করছে গৌরিসেন অর্থাৎ সরকার। আর তাই দেখা যাচ্ছে মাস শেষে বেসরকারী টেলিফোনে (ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে) বিল আসছে যে পরিমাণ তার কয়েক শতগুণ বেশি বিল আসছে সরকারী অফিসের টেলিফোনে। অনেক অফিসে দেখা গেছে ঝাড়ুদার ও সুইপার পর্যন্ত অফিসের সরকারী টেলিফোন মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে কথা বলছে।

সরকারী টেলিফোনের এই চিত্র শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন সমগ্র দেশের সরকারী টেলিফোনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী টেলিফোনে কোন কারণ ছাড়াই মোবাইল নাম্বার ব্যবহারের এই অপচয় স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে সরকারীভাবে চিন্তাভাবনা না করলে প্রতিমাসে সরকারকে গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। যা এক ধরনের অপচয় যা আইনের আওতায় এনে বিচার করা যাবে না বা যাচ্ছে না। বিধায় সরকারী টেলিফোনে যে কেউ মোবাইল নাম্বার ঢুকিয়ে দেশে বিদেশে কথা বলার প্রবণতা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া