২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক অবিনশ্বর কীর্তির আলেখ্য

  • বাহালুল মজনুন চুন্নু

অগ্নিগর্ভ অনেক পুনরুত্থানের গল্প লেখা হয়েছে অপরিসীম সৌকর্যে/

আপ্রাচ্যপ্রতীচ্য অকুতোভয়ে উত্তাল ঢেউয়ের মাথায় মণিরূপে জ্বলেছে বিশাল/আলেখ্য তুলনাহীন- লেখা হয়েছে প্রচুর, কালো অক্ষরে/ বইয়ের আদলে তবু শব্দেরও সীমা আছে, আছে বাক্যের বিদগ্ধ নিষ্ক্রমণ/

তবুও পদ্মা, যমুনা, মধুমতি এখনও বয়ে নিয়ে যায়/বয়ে নিয়ে আসে শতাব্দীর স্র্রোত, স্কন্ধের বেদীতে, মাথার মিনারে অপরিমেয় হিমালয়ের সমুন্নত শিখরের মতো।

আর সব দিনের মতো সেদিনও সূর্যের ঘুম ভেঙ্গেছিল আমার পরে। কিন্তু আকাশের সূর্যকে ম্লান করে দিয়ে এক পার্থিব সূর্যের আসবার কথা ছিল মানুষ নির্মাণের সূতিকাগার আমাদের বিদ্যায়তনে। কিন্তু কিছু বুলেট এসে লিখে গেল অন্য ইতিহাস; যারা ছুড়েছিল, তারা জানে না, বুলেট দিয়ে প্রাণপ্রবাহ রুদ্ধ করা গেলেও রুখে দেয়া যায় না অমল পুরাণের সারবত্তা। মহামহিমের সেই আগমন বাস্তবে রূপ পায়নি সেদিন; তাকে ফুলমাল্যে বরণ করে নিতে না পারার অতৃপ্তি আজও প্রেতাত্মার মতো হানা দিয়ে ফেরে!

কী ছিল তার হিমালয়সদৃশ চরিত্রের বর্ণালিতে? ফুল ও ভারিক্কি বিশেষণে তাকে সাজানো হয়েছে অনেক। হাজার বছরের কাক্সিক্ষত পুরুষ, বাঙালীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান, অবিনশ্বর স্বপ্নদ্রষ্টা আমাদের মহান শিক্ষক বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। যৌবন উদ্দাম সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে বাংলার মানুষের কথা ভেবে কাটিয়েছেন পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসকের করাল কারাগারে। সারা জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছেন। সেই সফল অবিসংবাদিত নেতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে আমরা চেয়েছিলাম তার ললাটে বিজয়-তিলক পরিয়ে দিতে।

স্মৃতিচারণ : বেদনার সমুদ্রে বিক্ষত ঢেউ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সেবক হওয়ার সুবাদে জাতির পিতার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল আমার। বিশাল সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে খুব কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করেছি, এখনও শেখার চেষ্টা করছি, আমরণ করে যাব। অমলিন স্মৃতিচারণ দিয়ে শুরু হোক। তখন আমি ছিলাম সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএসএস শেষ বর্ষের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল থেকে শুরু করে সায়েন্স এ্যানেক্স হয়ে কলাভবন থেকে সমাজকল্যাণ পর্যন্ত সকল ভবন সাজানো হয়েছিল বরের সাজে। অনেক সুসজ্জিত গেট করা হয়েছিল বাঙালীর প্রাণপুরুষ আসবেন বলে। কলাভবনের তখন এই রূপ ছিল না; এখানে ছিল চার তলা দালান। কলাভবনের চারতলার দু’পাশে দুটি সেøাগান লাগানো হয়েছিল। একটিতে লেখা ছিলÑ ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার কারিগর তৈরির কর্মশালা।’ অন্যটিতে লেখা ছিল ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাল কর্মী হতে হলে ভাল ছাত্র হতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু আশ্বস্ত করেছিলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। তাই সমাজবিজ্ঞান বিভাগেও বিশেষভাবে একটি তোরণ বানানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু আসবেন বলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সারা রাত জেগে আমরা সাজগোজ-আয়োজনের কাজ করেছিলাম, শেখ কামাল আমাদের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনের নানা বিষয়, খুঁটিনাটি দেখভাল করছিলেন। হঠাৎ রাত ১১.৩০ মিনিটের দিকে একজন সরকারী নিরাপত্তা কর্মী এসে কামাল ভাইকে বাসায় যাওয়ার জন্য তাগিদ দিলেন। কামাল ভাই তখন বকশীবাজার বদরুন্নেছা সরকারী মহিলা কলেজের পাশের বাড়িতে যাওয়ার মনস্থ করলেন। কারণ সেখানে থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী দবিরুদ্দীন আহমেদ; সে বাড়ি থেকে কামাল ভাই তার স্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী সুলতানা কামালকে নিয়ে ধানম-ি ৩২ নম্বরের বাসার দিকে রওনা হন সকালে আসবেন বলে।

আমরা কয়েক বন্ধু মিলে ক্লান্তিহীন উদ্যমে সমস্ত প্রস্তুতি-কাজকর্ম সেরে মহসিন হলের অতিথি কক্ষে বসে খানিকটা বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে করতে নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছিলাম সেই রাত। সুবেহ সাদেকের পর সেখান থেকে উঠে চোখমুখ ধুয়ে নিলাম। তার কিছু পরে, আনুমানিক সকাল ৪.৪৫ মিনিটে হঠাৎ করে গুলির শব্দ পেলাম। তখন ঢাকা শহরে এত বড় বড় দালানকোঠা ছিল না; গুলির শব্দ শোনার পর এক দৌড়ে মহসিন হলের ছাদে উঠে যাই এবং বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিক থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পাই; আঁতকে উঠি। কোন কিছুই বিশ্বাস হচ্ছিল না। বেরিয়ে পড়ি। প্রথমে শাহবাগ এসে দেখি কালো পোশাক পরিহিত ট্যাঙ্ক বাহিনী শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে। আমরা মিন্টো রোডের দিকে যেতে চাইলে ওরা বাধা দেয়। আমরা নানা উপায়ে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের কাছে তখন যে সাংহাই চাইনিজ রেস্তরাঁ ছিল, সে পর্যন্ত যেতে পেরেছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম কিছু মানুষ মাথায় টুপি দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে এবং ফিস ফিস করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের কথা বলছে। ঘটনার সম্ভাব্যতা বুঝতে আর বাকি রইল না। আমরা সেখান থেকে তাড়াতাড়ি করে হলে ফিরে আসি; কী করব, কোথায় যাব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বেতারকে রেডিও বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করে খুনী ডালিম বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা প্রকাশ করতে শুরু করছে।

তখনই বার বার আমার মনে হচ্ছিল চিলির রাজধানী সান্টিয়াগোতে প্রেসিডেন্ট সালভেদর আলেন্দকে কীভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালরা হত্যা করেছিল। কীভাবে ইন্দোনেশিয়ার লৌহমানব ড. সুকর্নকে হত্যা করা হয়েছিল; আধুনিক তুরস্কের জনক কামাল আতাতুর্ককে হত্যা করা হয়েছিল। কীভাবে গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে সে দেশের কালোদের নেতা প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস লুমুম্বাকে হত্যা করা হয়েছিল।

আমরা অপেক্ষায় ছিলাম এক স্মরণীয় সূর্যোদয়ের। কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় আর এক। আমরা বঙ্গবন্ধুকে আমাদের মাঝে পেলাম না, পেলাম এক ঐতিহাসিক কালো দুঃসংবাদ, তাঁর ও তাঁর স্বজনদের মৃত্যুর খবর।

বিভীষিকাময় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও বঙ্গবন্ধু

আজও যারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলেন, তারা প্রকৃতপক্ষে বাঙালীর জাতিসত্তাকে অস্বীকার করেন, বাঙালী জাতীয়তাবাদকে অস্বীকার করেন। তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের অমর চেতনা ও অন্য গুণাবলীগুলোকে আবার পদদলিত করতে চায়। বিদেশের মাটিতে বসে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে কটূক্তি করে। খালেদা জিয়া নিজের নকল জন্মদিন পালন করে জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরাতে চায়। প্রগতির জয়যাত্রাকে নিয়ে যেতে চায় পেছনের দিকে।

যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন, একে একে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে শিল্প, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত-সুখী-সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশ গড়ার কাজে কর্মব্যস্ত, সারা পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন, তখন অকারণে সম্পূর্ণ অজ্ঞানতাপ্রসূত একটি রাজনৈতিক দল বোমা মেরে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে সরকারের সকল কার্যক্রম ভ-ুল করে দিয়ে দেশকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। দেশে জঙ্গীবাদ সৃষ্টির সকল প্রেরণা দিচ্ছে।

আমরা কী হারিয়েছি

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে আমরা কী হারিয়েছি সে এক বিশেষ গবেষণার ব্যাপার। আমরা হারিয়েছি অসীমের পানে অগ্রযাত্রায় আমাদের ধ্রুবতারাকে; তাঁর আদর্শ, চেতনা, অসামান্য নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা, মা-মাটি-মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসা তাঁকে করে তুলেছে এক কথায় অনন্যসাধারণ। তাঁর অকালমৃত্যু আমাদের করেছে পিতৃহীন-নেতাহীন-সেনাপতিহীন। বঙ্গবন্ধু আমাদের সেই দিশা দিতে পারতেন যা আমাদের হাজার বছরের আরাধনা ও আকাক্সক্ষার ফসল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বিনির্মাণ করতে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার কোন বিকল্প ছিল না। কিন্তু বাংলার ইতিহাস মীরজাফর, মীর কাশিমদেরও; এরা যুগে যুগে আমাদের মাঝে ছিল, আছে এবং থাকবে। এরাই নস্যাত করে দিতে চেয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্নকে যা জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের আত্মপরিচয় নির্মাণে ভীষণ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সমস্ত শক্তিকে একত্রিত করে তাঁর কন্যা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন কর্মকা-ে নিঃস্বার্থভাবে আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা করার শপথ নিতে হবে।

এ সমাজ ভেঙ্গে নতুনভাবে নতুন সমাজ বিনির্মাণের জন্য বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ ও বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এগিয়েছেন। কিন্তু আমরা দেখেছি বিশ্বে যুগে যুগে মানবতাবাদী নেতাদের জীবন দিতে হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী ধর্মীয় মৌলবাদীদের দেশীয় এজেন্টদের হাতে।

বিশ্ব নেতৃত্বের বঙ্গবন্ধু বন্দনা

তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে যখন সারাবিশ্বের সুদক্ষ নেতারা পঞ্চমুখ, তখন তিনি সমালোচনার শিকার হন নিজ দেশে। এবং এই ঘৃণ্য বাতুলতায় সর্বশেষ যাকে অংশ নিতে দেখা গেছে তিনি হলেন তারেক রহমান; বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটূক্তি করে তিনি অবৈধ সামরিক শাসক পিতাকে বাংলাদেশে পুনপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে অজ্ঞ সামরিক নিপীড়ক কলুষ ও ধর্মান্ধতার বিষাক্ত বাষ্প এনেছিল তার নাম জিয়াউর রহমান। এখনও দেখি, ১৫ আগস্ট নিজের জন্মদিন পালনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া নিজেকে কেবল চরম হাস্যাস্পদই করে তোলেন শুধু তাই নয়, তিনি হয়ে ওঠেন অশুভ শক্তির অধিষ্ঠাত্রী। পৃথিবীতে বিশ্ব নেতৃত্বের সামনে বঙ্গবন্ধু এক অসামান্য রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ হতে পারে ভৌগোলিকভাবে ছোট একটি দেশ, কিন্তু বঙ্গবন্ধু অতিক্রম করে গেছেন সমস্ত দেশ কাল পাত্রের সীমানা। তিনি এমন এক বিশ্বনেতা যাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন অনেকেই, ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এই মৃত্যুহীন নেতার। বিশ্ববরেণ্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি। হাজার বছরের অন্যতম এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে উদ্দেশ করে বলা কিছু বিশ্বনেতার উক্তি তুলে ধরছি।

সম্ভবত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সম্পর্কে সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশস্তি করেছেন আরেক নেতা, মহান সংগ্রামী ফিদেল ক্যাস্ট্রো; তিনি বলেছেন

ÔI have not seen the Himalayas. But I have seen Sheikh Mujib. In personality and in courage, this man is the Himalayas. I have thus had the experience of witnessing the Himalayas.Õ [at the Algiers Non- Aligned Summit in 1973]

ব্রিটিশ মানবতাবাদী আন্দোলনের পুরোধা লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে (Lord Fenner Brockway) বলেছেন- ÔIn a sense, Sheikh Mujib (Father of the Bengali nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman) is a great leader than George Washington, Mahatma Gandhi and De Valera.

ভারতের মণিপুর রাজ্যের প্রাক্তন গবর্নর বেদ মারওয়া (Ved Marwah) শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বলেছেন- ÔI have met many charismatic personalities during my service career, including Jawaharlal Nehru, Indira Gandhi, Rajiv Gandhi and many world leaders, but I must say that among them he (Sheikh Mujib) was the most charismatic personality I had ever met.’

নিউজউইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে শেখ মুজিবকে আখ্যায়িত করে রাজনীতির কবি (চড়বঃ ড়ভ চড়ষরঃরপং) হিসেবে।

টাইম ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করে যা পৃথিবীর খুব রাষ্ট্রনায়কের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল।

ÔA man of vitality and vehemence, Mujib became the political Gandhi of the Bengalis, symbolizing their hopes and voicing their grievances. Not even Pakistans founder, Mohammed Ali Jinnah, drew the million-strong throngs that Mujib has attracted in Dacca. Nor, for that matter, has any subcontinent politician since Gandhi’s day spent so much time behind bars for his political beliefs.

সাংবাদিক সিরিল ডান (ঈুৎরষ উঁহহ) বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মন্তব্য করেনÑ

ÔIn the thousand year history of Bengal, Sheikh Mujib is her only leader who has, in terms of blood, race, language, culture and birth, been a full blooded Bengali. His physical stature was immense. His voice was redolent of thunder. His charisma worked magic on people. The courage and charm that flowed from him made him a unique superman in these times.Õ

প্রখ্যাত মিসরীয় সাংবাদিক হাসনেইন হেইকেল Heikal, former Editor of The Al Ahram and a close associate of late President Nasser) e‡jb :

ÔNasser is not simply of Egypt and the Arab world. His Arab nationalism is the message of freedom for the Arab people. In similar fashion, Sheikh Mujibur Rahman does not belong to Bangladesh alone. He is the harbinger of freedom for all Bangalis. His Bengali nationalism is the new emergence of the Bengali civilization and culture. Mujib is the hero of the Bengalis, in the past and in the times that are.

৭ মার্চের মহাকাব্যিক ভাষণ থেকে শুরু করে ১৫ আগস্ট বাঙালীর আত্মপরিচয়ের এক জ্বলন্ত আখ্যান রচিত হয়েছিল। পার্থিব প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী ১৫ আগস্ট মুছে দিয়েছিল এক পরম পুরুষের শারীরিক পরিক্রমার ভরবেগ। কিন্তু যে অবিনশ্বর এক চৈতন্যের বীজ রোপিত হয়েছে সারা বাংলার জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে ক্ষয়হীন মহিমায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাই এক অনশ্বর প্রতিভাসের নাম, যা যুগে যুগে বাংলার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে অনুরণিত হবে। সবশেষে অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতার লাইন দিয়ে ইতি টানব :

যতদিন রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান/ ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।

লেখক : সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ও সাবেক ছাত্রনেতা