২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে যুবকদের রোজগার বাড়ানোর নীতি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক॥ রোজগারে উৎসাহের নতুন মন্ত্রের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে নিচু পদে ইন্টারভিউ প্রথা শেষ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারও এ বারে এগিয়ে এলে অনলাইনে যোগ্যতার নিরিখেই সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে।

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রকগুলিতে জুনিয়র পদে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ প্রথা তুলে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতির একটি ক্ষেত্র হল চাকরি। গরিবরাও চান, তাঁদের ছেলেরা চাকরি পান। কিন্তু যখন ইন্টারভিউ-এর ডাক আসে, তখন তাঁদের ছুটতে হয় সুপারিশ পাওয়ার জন্য। কারণ, যোগ্যতার থেকেও সুপারিশের মাধ্যমে অনেক খেলা হয়। আমি আজ পর্যন্ত এমন কোনও মনোবৈজ্ঞানিক দেখিনি, যিনি দু’মিনিটে ইন্টারভিউ নিয়ে মানুষকে যাচাই করে নেন। অথচ সেই ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমেই কাউকে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে শারীরিক ক্ষমতা যাচাই করতে হয় কিংবা উঁচু পদে যেখানে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব রয়েছে, সেটি ছাড়া ছোট ছোট চাকরিতে অনলাইন মার্কশিটের ভিত্তিতেই চাকরিতে নেওয়া যায়। রাজ্য সরকারকেও আমি আবেদন করছি, ছোট ছোট চাকরিতে ইন্টারভিউ প্রথা বন্ধ করতে।

লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের পর কেন্দ্রীয় সরকারের এক মন্ত্রী বলেন, ‘আমার মন্ত্রকে অচিরেই জুনিয়র পদে নিয়োগ অনলাইন করার ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আগেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মধ্যপ্রদেশে ব্যপম কাণ্ডে এ ভাবেই সুপারিশের ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পরে প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবটি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন। শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, অন্যান্য রাজ্যেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের হালও তাই। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনার ব্যাপারে নানা ভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। যুবকদের রোজগারের ব্যবস্থাও বাড়াতে চান। আজকের ঘোষণা তারই অঙ্গ।’

যুবকদের আরও রোজগার বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আজ ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ নামের একটি নীতি ঘোষণার কথাও বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা, একবিংশ শতাব্দীতে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে গোটা দেশে স্টার্ট আপ-এর জাল বিছানো দরকার। নতুন ব্যবসা চালু করার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে আর্থিক সাহায্যও করা হবে। আজ ব্যাঙ্কগুলিকেও আবেদন করা হয়েছে, তাদের প্রতিটি শাখা যেন আদিবাসী, দলিত, মহিলাদের এই ব্যবসা করার জন্য আর্থিক সাহায্য করে। দেশের কোনও জেলা যেন বাদ না যায়। এতে যেমন উৎপাদন শিল্প আরও উৎসাহিত হবে, তেমনই যত বেশি সম্ভব রফতানি করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। এ সব ব্যবসা সফল হলে যুবকরাও আরও লোককে রোজগার দেবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বছরে তাঁর ঘোষিত স্কিল ইন্ডিয়া ও ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাল ফল আনতে শুরু করেছে। এ বারে স্টার্ট আপ ইন্ডিয়ার নীতিও খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।