২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় শোক দিবসে দেশব্যাপী কোটি মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা ॥ উন্নত দেশ গড়ার শপথ

জাতীয় শোক দিবসে  দেশব্যাপী কোটি মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা ॥ উন্নত দেশ গড়ার শপথ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ শোকাবহ ১৫ আগস্টে শোকাচ্ছন্ন নীরবতায় থমকে গিয়েছিল গোটা দেশ। যেন শোকস্তব্ধ দেশের সব প্রান্তর। ৪০ বছর হয়ে গেল, এখনও মৃত্যুঞ্জয়ী মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে এতটুকু ভোলেনি কৃতজ্ঞ বাঙালী। বরং নতুন শপথে বলীয়ান বাঙালী জাতি শনিবার ৪০ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। এবার শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের স্রোত অতীতের সকল রেকর্ড ম্লান করে দেয়। শোক দিবসে সর্বত্রই উচ্চারিত হয়েছে প্রধানত তিনটি দাবি। তা হলো-শোককে শক্তিতে পরিণত করে

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন, পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে পৃথক কমিশন গঠন।

এই দৃঢ় প্রত্যয় আর অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে পুরো জাতি শনিবার স্মৃতিভারাতুর হয়ে এবং বিনম্র চিত্তে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। নানা আনুষ্ঠানিকতায় দেশব্যাপী পালিত হয় জাতির পিতার ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। প্রাণের অর্ঘ্যে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মানুষ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের জঙ্গীবাদ-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার আরও উন্নত দেশ গড়ার দৃঢ় শপথও নিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু ব্যক্তি নামে সীমাবদ্ধ নন, তিনি একটি আদর্শ। তাঁর আদর্শের আলো ছড়িয়ে পড়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী। তাই ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শকে যে হত্যা করা সম্ভব হয় না তা আবারও চোখে আঙ্গুল দিয়ে পঁচাত্তরের ঘাতক চক্র ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের জানিয়ে দিল জাতি। আদর্শিক বঙ্গবন্ধু যে চিরঞ্জীব তা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়াÑ দেশের পথে-প্রান্তরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের অস্বাভাবিক ঢল আবারও তা প্রমাণ করেছে। ৪০ বছর হয়ে গেল গেল এখনও কৃতজ্ঞ বাঙালী এতটুকুও ভোলেনি সেই বর্জকণ্ঠের মহামানবকে। যিনি শুনিয়েছিলেন সেই অমর বাণী- “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

ধানম-ির ৩২ নম্বর ছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণী-পেশাসহ সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল। শহর জুড়ে দেয়ালে দেয়ালে শোকের পোস্টার। সর্বত্র শোকের তোরণ, কালো পতাকা, বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের সেই ভাষণ ও স্মৃতি জাগানিয়া গানে শনিবার রাজধানীসহ পুরো দেশের পরিবেশটাই পাল্টে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণের পাশাপাশি দেশের সর্বত্র শোকার্ত লাখো মানুষের কণ্ঠে ছিল একই সেøাগান- ‘কে বলেছে মুজিব নাই, মুজিব আছে সারা বাংলায়, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীদের ফাঁসি চাই, মুজিবের বাংলায় জামায়াত-শিবির-রাজাকারের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি।

স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতাÑ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ধানম-ির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনের লেকের পার। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা হাজারো মানুষের ভিড়। ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে ব্যস্ত সবাই। সেই ভিড়ের এক কোনায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দেয়াল ঘেঁষে স্থাপন করা পূর্বের জাতির জনকের কাঁচে ঘেরা প্রতিকৃতির সামনে অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে এক অশীতিপর বৃদ্ধ অপলকে তাকিয়ে অছেন স্বাধীনতার এ স্থপতির দিকে। তাঁর দু’চোখেই বাঁধভাঙ্গা অশ্রু।

এভাবেই চলল অনেকক্ষণ। কাঁদছেন কেন, জানতে চাওয়ামাত্রই অশ্রুভেজা দু’চোখ মুছেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। নাম না বলে শুধু এতটুকু বললেন- “আমি এদেশের একজন সাধারণ নাগরিক। শুধু আমি নই, লজ্জা থেকে গোটা জাতিরই কাঁদা উচিত। এ মানুষটি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের স্বাধীন দেশ দিলেন, ভাষা দিলেন, স্বাধীন পতাকা ও মানচিত্র দিলেন। সারাজীবন শুধু কষ্টই করে গেলেন এ জাতির জন্য। অথচ আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি- এমন মহাপুরুষকে হত্যা করলাম। বাঁচতে দিলাম না তাঁর স্ত্রী-পুত্রসহ কাউকে। এ সীমাহীন লজ্জা ও কলঙ্ক বাঙালীর ললাট থেকে কোনদিনই মুছবে না।”

এ রকম সাধারণ গৃহিণী, ছিন্নমূল মানুষ থেকে সব শ্রেণীর, সব বয়সের লাখ লাখ মানুষ ব্যথাতুর হৃদয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতাকে। বিশেষ করে বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সব হারানোর বেদনার্ত অশ্রু সবাইকে আবেগতাড়িত করে। দু’বোন বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে ঘাতকের বুলেটে যেস্থানে বঙ্গবন্ধুর মতো মহাপুরুষের নিথর প্রাণ পড়ে ছিল সেখানে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ও নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ভয়াল ওই রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করেন। আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালীর।

জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়েছে। সকালে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে ধানম-ির ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শোকের কর্মসূচীর সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশই যেন শোকের লাখ লাখ কালো ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ঢেকে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন এবং টুঙ্গিপাড়ার মাজারস্থল হয়ে উঠেছিল শোকার্ত লাখো মানুষের মিলন-মোহনা। দিনভর কৃতজ্ঞ বাঙালীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসার পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে উঠেছিল ধানম-ির ৩২ নম্বর জাতির জনকের প্রতিকৃতি, টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর মাজার এবং বনানীর ১৫ আগস্টের শহীদদের সমাধিস্থল।

সকাল ছয়টার পর বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে পৌঁছলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এরপর দু’জনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ফুল দেয়ার পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁরা, এ সময়ে বিউগলে বাজে করুণ সুর। এরপর তাঁরা মোনাজাতে অংশ নেন। সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। এরপর স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা জানানোর পর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ফুল দেয়া হয় মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে ১৪ দল এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিজড়িত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে ওই ভবনের যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে ছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। পরে তিনি ওই ভবনের একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বঙ্গবন্ধুর জাদুঘর থেকে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বনানী কবরস্থানে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মা-ভাইসহ স্বজনদের সমাধিপাশে গিয়ে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা। সেখানে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বনানীর কবরস্থানের সারিবাঁধা আঠারোটি কবর। এসব কবর আর কারও নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নরপিশাচ ঘাতকচক্রের নির্মম বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে শহীদ বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শিশুপুত্র রাসেলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। ৪০ বছর আগে স্বজনদের চোখের জলে শেষ বিদায়টুকু দিতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর জীবিত এই দুই কন্যা।

তাই শনিবার সকালে মা-ভাইদের কবরে গিয়ে চোখের জল থামিয়ে রাখতে পারেননি একসঙ্গে সব স্বজনহারা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তাঁরা অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় স্বজনদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোনাজাত ও ফাতেহা পাঠ করেন। জাতির পিতার দুই কন্যা নিজ হাতে মুঠো মুঠো ভালবাসার ফুল ছড়িয়ে দেন প্রিয় স্বজনদের কবরে। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও ১৮ কবরেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত বঙ্গবন্ধুর প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ঘাতকের গুলিতে নিহত বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলের কবরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁর সামরিক সচিব লে. জেনারেল মিয়া মোঃ জয়নুল আবেদীন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ও এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে জাতির জনকের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানানোর পর বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে দোয়া ও মোনাজাতেও অংশ নেন। এসময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বিউগলের করুণ সুরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নীরবে কিছুক্ষণ সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর বিশেষ মোনাজাত হয়। তখন ছোট বোন শেখ রেহানাকে পাশে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে শেখ রেহেনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলের সভানেত্রী হিসেবে আবার বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর একে একে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম প্রমুখ।

এছাড়াও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, শেখ হেলাল এমপি, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস এমপিসহ অন্যান্য নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

এছাড়া তিন বাহিনী প্রধান, সশন্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমও বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত মিলাদে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ সকলে।

বেলা সাড়ে দশটায় মাজার কমপ্লেক্স মসজিদে মন্ত্রিপরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান সরকারী ডিগ্রী কলেজ ময়দানে প্রায় ২৮ হাজার মুসলিম ও বালাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অন্য ধর্মবম্বীদের ৮ হাজার মানুষের জন্য আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান।

জাতীয় শোক দিবসে শুধু রাজনৈতিক দল বা সংগঠনই নয়, সারাদেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ, সংগঠন এবার বিস্তারিত কর্মসূচীর মাধ্যমে স্মরণ করেছে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে। শনিবার গোটা দেশই যেন ভেসেছে শোকের সাগরে। দিনব্যাপী সর্বত্র মাইকে প্রচারিত হচ্ছিল কোরান তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের বজ্রনির্ঘোষ ভাষণ এবং ফাঁকে ফাঁকে অবিরাম দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া গান। রাষ্ট্রাচার শেষে উন্মুক্ত হওয়ার পর দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ অজস্র সংগঠন ৩২ নম্বর ধানম-ির বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

এছাড়া এবার জাতীয় শোক দিবসে দলীয় আয়োজনকে বহুগুণে ছাপিয়ে গিয়েছিল গণমানুষের অংশগ্রহণ। সারাদেশের প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায়, সড়কের পাশ দিয়ে যেতে চোখে পড়েছে খানিক পরপরই কালো ব্যানার, কালো পতাকা উড়িয়ে মিলাদ মাহফিল, দোয়াখায়ের ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণপর্ব। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনাসভা, জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ঢাকাসহ সব জেলা সদরে ও চারটি পার্বত্য উপজেলায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রমাণ্যচিত্র দেখানো হয়। বাদ জুমা সারাদেশে সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মহিলা আওয়ামী লীগ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নেন। ছাত্রলীগ সব সরকারী মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করে। সরকারীভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব মেডিক্যাল কলেজে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেছেন বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা। জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাজের আয়োজনে সর্বধর্ম এই প্রার্থনা সভা হয়। সকাল সাড়ে এগারোটায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তিকামনা করে প্রার্থনাসভা হয়। তেজগাঁও হলি রোজারিও চার্চে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ খ্রীস্টান এ্যাসোসিয়েশন ও খ্রীস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ নিজ কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধর্মাশ্রয়ী জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও নাশকতা রুখে দাঁড়ান’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনাসভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভা শেষে ‘আরাধ্য বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নিজস্ব কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল ও বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনটির সভাপতি মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেতা সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আবুল কাশেম আহমেদ, দেওয়ান সুলতান আহমেদ প্রমুখ। পরে দুপুরে ব্যবসায়ী নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরও যাঁরা শ্রদ্ধা জানান ॥ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থানটি উš§ুক্ত করে দেয়া হয়। এ সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ১৪ দল, এম এ আজিজ ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগ, ওমর ফারুক চৌধুরীর ও হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে যুবলীগ, মোল্লা মো. আবু কাওছার ও পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আশরুফুন্নেসা মোশারফ ও পিনু খানের নেতৃত্বে মহিলা আওয়ামী লীগ, নাজমা আক্তার ও অপু উকিলের নেতৃত্বে যুব মহিলা লীগ, শুক্কুর মাহমুদ ও সিরাজুল ইসলাম নেতৃত্বে¡ জাতীয় শ্রমিক লীগ, মোতাহার হোসেন ও শামসুল হক রেজার নেতৃত্বে কৃষক লীগ, সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ, বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (জেপি) বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। আরও শ্রদ্ধা জানায় সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, মহিলা শ্রমিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, মোটরচালক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফিল্ম আর্কাইভ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমি, খেলাঘর, বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিনিয়োগ বোর্ড, শিল্প গবেষণা পরিষদ, পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, জাতীয় মহিলা সংস্থা, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, জাতীয় গীতিকবি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ মূল্যায়ন ও গবেষণা সংসদ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজš§, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী প্রজš§ লীগ, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকসহ এসব ব্যাংকের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, আবদুস সামাদ আজাদ ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু শিল্পীগোষ্ঠী, সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু ফেডারেশন, টিএ্যান্ডটি শ্রমিক ফেডারেল ইউনিয়ন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্মৃতি পরিষদ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, সাধনা সংসদ, আওয়ামী শিশু-কিশোর যুবজোট, নির্মাণ শ্রমিক লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমি, সোনার বাংলা যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদ, শান্তি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমি, খ্রীস্টান এ্যাসোসিয়েশন, বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ, শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ, ডিপ্লোমা নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন, সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশন, সনাতন আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ, চিলড্রেন্স ভয়েসসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।