২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একই দিনে প্রাইমারীতে শিক্ষক নিয়োগ ও স্কুল কলেজে নিবন্ধন পরীক্ষা

  • কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থী চরম বিপাকে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একই দিনে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও বেসরকারী স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের নিবন্ধন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থী। আগামী ২৮ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৭ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এবং জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু একই দিনে বড় এ দুটি নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ অধিকাংশ প্রার্থীই দুটি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। যে কোন একটি পরীক্ষা পেছানোর দাবি উঠেছে। প্রার্থীরা ভোগান্তির জন্য সরকারের দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন।জানা গেছে, আগামী ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিকের পরীক্ষায় অংশ নেবে এক লাখ ৫০ হাজার ৭৬৫ জন চাকরি প্রার্থী। দ্বিতীয় ধাপে ১৭ জেলায় বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, শেরপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, পঞ্চগড় ও বাগেরহাট জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণ করে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় গত ২৭ জুন নড়াইল, মেহেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও ফেনী জেলায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আস্তে আস্তে বৃহত্তর পরিসরে ডিজিটালাইজ হচ্ছে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি। এর অংশ হিসাবেই প্রথম ধাপের সফলতার পর এবার ১৭ জেলায় দ্বিতীয় ধাপে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নেয়া হচ্ছে এ পরীক্ষা। এত দিন বিজি প্রেসে প্রশ্ন ছাপিয়ে পরীক্ষার কয়েক দিন আগেই তা বিতরণ করা হতো। গত ২৭ জুন পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প পরিসরে ৫ জেলায় পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ছাপিয়ে পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণ করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। প্রথম পরীক্ষা অত্যন্ত সফলতার পর এবার দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষার্থী ও জেলার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ওয়েবসাইট থেকে প্রার্থীরা (যঃঃঢ়://ফঢ়ব.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ) প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রার্থীরা বই, উত্তরপত্র, নোট বা অন্য কোন কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন ও ভ্যানেটি ব্যাগ, পার্স, ইলেকট্রনিক্স ঘড়ি বা যে কোন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না। নির্দেশ না মানলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হবে। আগের নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন মডারেশনের দায়িত্ব ছিল ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) ওপর। আর ছাপানোর দায়িত্বে ছিল বিজি প্রেস। এবারের ডিজিটালাইজ পরীক্ষা পদ্ধতিতে উল্লেখিত দুই প্রতিষ্ঠানের কোনই সম্পৃক্ততা থাকছে না। এবার প্রশ্ন প্রণয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আলাদা দল গঠন করা হয়। এই দল পরীক্ষার দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে মন্ত্রণালয়ে বসে প্রশ্ন তৈরি করে দেবে। সেই প্রশ্ন অনলাইনের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হবে জেলা প্রশাসকদের কাছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ নিজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে একসঙ্গে প্রশ্ন ডাউনলোড করবেন। দ্রুতগতির একাধিক ফটোকপি মেশিনে প্রশ্নপত্র কপি করে প্যাকেটে পুরে নিয়ে যায়া হবে পরীক্ষাকেন্দ্রে। দুপুর ১২টার মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। জেলা পর্যায়ে প্রশ্ন ছাপানোর চার ঘণ্টার পুরো প্রক্রিয়া সিসি টিভিতে ধারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য প্রতিটি জেলায় পাঠানো হবে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তাকে।

এদিকে পরীক্ষার পদ্ধতি প্রশংসা কুড়ালেও জটিলতা বেঁধেছে একই দিনে বেসরকারী স্কুল কলেজের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করায়। এনটিআরসিএর অধীনে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ও ২৯ আগস্ট। এ পরীক্ষাতে ৪১ হাজার ২০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এনটিআরসিএ’র পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক ও শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদনকারী প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই যে কোন একটি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। একাধিক প্রার্থী শনিবারও জনকণ্ঠ অফিসে ফোন করে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, একটি পরীক্ষা না পেছালে চরম বিপাকে পড়বেন তারা। গত ৪ আগস্ট প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের তারিখ নির্ধারণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল নিবন্ধন পরীক্ষার সময়সূচি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। দুই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন পরীক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে এখনও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অধিদফতর কোন বক্তব্য দেয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আলমগীরের সঙ্গে শনিবার তার সেলফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এনটিআরসিএ’র সদস্য ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ভুলে সঙ্কটে শিক্ষার্থীরা ॥ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভুলে উচ্চ মাধ্যমিকের অর্ধশত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার বিষয় ও কোডের সঙ্গে গরমিল থাকায় একাধিক বিষয়ে ফেল করার অভিযোগ উঠেছে। এমন ভুল ধরা পড়েছে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাজেরা মুসলিম টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের চলতি এইচএসসি সমমান পরীক্ষার ফলে। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। হাজেরা মুসলিম টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর বাবলু বলেছেন, বিষয়টি ধরার পড়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে কলেজ থেকে শিক্ষাবোর্ডে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এ ধরনের ভুল আর কোন বছর ধরা পড়েনি। তিনি আরও বলেন, ভুলটি শিক্ষা বোর্ডের লোকজন করেছেন। ২৬ শিক্ষার্থীর নম্বরপত্রে বিষয়ের সঙ্গে কোড নম্বরের গরমিল ধরা পড়েছে। শিক্ষাবোর্ডের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে অনলাইনে চ্যালেঞ্জ করেছি। চ্যালেঞ্জের সকল কাগজপত্র নিয়ে আমরা শিক্ষাবোর্ডে সরাসরি যাব। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব এ ভুলের একটা সমাধান হোক।

জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চলতি এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাজেরা মুসলিম টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয় ১৭ জন। অকৃতকার্য হয় ৩৬ জন। পরে ২৬ জন শিক্ষার্থীর নম্বরপত্রে পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে কোড নম্বরের গরমিলের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ২৬ জনের মধ্যে অধিকাংশেরই ইংরেজি, বিজনেস অর্গানাইজেশন এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ও প্রিন্সিপাল এ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মার্কেটিং বিষয়ের সঙ্গে কোন নম্বর অমিল থাকায় অকৃতকার্য বলে গণ্য করা হয়েছে। ইংরেজীর বিষয় কোড ১৮১২ এর পরিবর্তে নম্বরপত্রে লেখা হয়েছে ১৮৩২, একইভাবে বিজনেস অর্গানাইজেশন এ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের বিষয় কোড ১৮১৭ এর পরিবর্তে নম্বরপত্রে লেখা হয়েছে ১৮৩৭। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে এমন ঘটনা আরো অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।