২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কালিয়াকৈরে নির্মিত হচ্ছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হাইটেক পার্ক

  • ৩ নং ব্লক নির্মাণেটেকনো সিটি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি

ফিরোজ মান্না ॥ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আওতায় সারাদেশে হাইটেক পার্ক নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের ৩ নং ব্লক নির্মাণের জন্য বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। বাংলাদেশে এটাই হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হাইটেক পার্ক। এখানে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেয়াসহ সামগ্রিকভাবে আইসিটি ও টেকনোলজিভিত্তিক শিল্পের উন্নয়ন করা হবে। এ জন্য নকশাঁ প্রণয়ন, নির্মাণ, অর্থ, মালিকানা, পরিচালনা ও হস্তান্তর করার বিষয়ে কালিয়াকৈর টেকনোসিটি লিমিটেডকে পার্কের ৩নং ব্লক ৪০ বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

সূত্র জানিয়েছে, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক নির্মাণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত শিল্প হলো আইটি, আইটিইএস, সফটওয়ার, বিপিও, হার্ডওয়ার তৈরি, হাইটেক ইলেক্ট্রোনিক্স অটোমোবাইল, বায়োইনফোটেকনোলজি, রবোটিকস, এনার্জি ইফিসিয়েন্ট টেকনোলজি, এগ্রোটেকসহ আরও কয়েকটি শাখা থাকবে। বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড পার্ক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইউটিলিটির সুযোগ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, উচ্চ গতিসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ, ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। কোম্পানি আরও নির্মাণ করবে কয়েকটি মাল্টিটেনান্ট ভবন, কনভেনশন হল, অবকাশ কেন্দ্র, ডরমেটরি সুযোগ ও শিল্পক্ষেত্র উন্নয়ন। সরকার কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক অপারেটরগণকে পার্কটিকে পূর্ণভাবে চালু করতে ১০ বছর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড ৩ নং ব্লকের উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। হাইটেক পার্ক নির্মাণ করার জন্য বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেডকে দ্বিতীয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী বলেন, আমরা প্রাপ্ত ব্লকটিকে আগামী ২ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ উপযোগী করব। টেকনোসিটি মার্কেটিং টিম ইতোমধ্যে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কটিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে দৃষ্টি আকৃষ্ট করার জন্য ১০ থেকে ১২টি দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের জন্য নকশাঁ প্রণয়ন, নির্মাণ, অর্থসঞ্চালন, মালিকানা, পরিচালনা ও হস্তান্তর (ডিবিএফওওটি) পরিকল্পনায় প্রাইভেট সংস্থা নির্বাচনের জন্য আরএফকিউ ও আরএফপি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে পাঁচটি ব্লকের মধ্যে ৩ নং ব্লকের নির্মাণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। মালয়েশিয়ার এফএআইএম কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশের ফাইবার এট হোম লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করবে। এই দু’টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলফা ইনফোমেটিক্স আইটি সলিউশন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, মালয়েশিয়ার আইআরআইএস কর্পোরেশন, আইটি সলিউশন জায়ন্ট টেকনোলজি পার্ক মালয়েশিয়ার একটি বড় টেকনোলজি পার্ক ও অপারেটর। এমএসসি টেকনোলজি অন্য একটি মালয়েশীয় কোম্পানি এই কাজে সহযোগিতা করবে।

জানা গেছে, যৌথ মালিকানার পূর্ব শর্ত হিসাবে এ সংস্থার প্রয়োজনে বাংলাদেশে একটি রেজিস্ট্রিকৃত পৃথক আইনানুগ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করবে। এ পটভূমিতে এফএআইএম কনসোর্টিয়াম অংশীদারগণ সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে একটি পৃথক আইনানুগ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড। বাংলাদেশ সরকারের জন্য নির্ধারিত ব্লক-১ এর উন্নয়ন, ব্লক ২ ও ৫ নির্ধারিত সামিট ইনফাইনিটির যৌথ মালিকানাধীন সামিট গ্রুপ বাস্তবায়ন করবে। ৪ নং ব্লকের উন্নয়নের জন্য এখনও ডেভেলপার নির্ধারণ করা হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, গত ১১ আগস্ট রাজধানীর একটি হোটেলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ ইমরান আহমেদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী, বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড পরিচালক খন্দকার মহিউদ্দিন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রথম হাইটেক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর ২০০৪ সালে তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রসংলগ্ন ২৩১ দশমিক ৬৮৫ একর জমি হাইটেক পার্কের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এর সঙ্গে আরও এক শ’ একর জমি যোগ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একটি প্রশাসনিক ভবন, সৌর বিদ্যুত ও জেনারেটর বসানো হয়েছে। বর্তমানে আংশিকভাবে হাইটেক পার্কের কার্যক্রম চালু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে আইটি পার্ক বা হাইটেক পার্ককে বিবেচনা করা হবে। ১৯৯৯ সালে দেশের একমাত্র হাইটেক পার্ক তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়ে জমির অধিগ্রহণ করতে সময় লেগে যায় প্রায় ১০ বছর। এখন পার্কটি অনেকটা প্রাণ পেয়েছে।