২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর ও ইউপি নির্বাচন এবার জোটগতভাবে করবে বিএনপি

  • জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে ২০ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে জোটগতভাবে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। এ জন্য ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। জোটের স্থানীয় নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে যে এলাকায় যে দলের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি তাদের মনোনয়ন দিতে বলা হয়েছে। আর জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এ বছর ডিসেম্বর মাসে সারাদেশের প্রায় আড়াই শ’ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর আগামী বছর মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হবে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের এই ২ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাই বিএনপি জোট এবার পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ইউপি ও পৌর নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করছে। আগাম ভাল ভাল প্রার্থী ঠিক করে তাদের পক্ষে গণসংযোগের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করতে চায় তারা।

উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এবার জোটগতভাবে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই জেলা পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে সারা দেশের সকল স্তরের জোট নেতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জোটগতভাবে প্রার্থী ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। জোটের সিদ্ধান্তের আগে কাউকে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালানো থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে।

এর আগে গতবছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারাদেশের ৪৮৭টি উপজেলার নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি জোট। তবে সেবার অনেক উপজেলাতেই জোটগতভাবে প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি তারা। তবুও অনেক উপজেলায় বিজয়ী হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা। সে নির্বাচনের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ইউপি ও পৌর নির্বাচনে আগেভাগেই প্রার্থী ঠিক করে রাখতে চায় তারা। আর এ জন্যই ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।

জানা যায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের আগেই ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সারাদেশে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সফর করবেন। এ সফরকালে খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ পর্যায়ের জোট নেতারা তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ইউপি ও পৌর নির্বাচনে বিজয়ের ফসল ঘরে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল জানিয়ে দেবেন।

এদিকে পৌর ও ইউপি নির্বাচনের আগেই বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে সর্বস্তরে কমিটি পুনর্গঠন করে নিজ নিজ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে। জনপ্রিয় লোকরা যাতে কমিটিতে স্থান পায় সে জন্য কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নেতা নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। তবে কোন কারণে, কোন এলাকায় সরাসরি ভোটে কমিটি গঠন করতে না পারলে কেন্দ্র থেকে কমিটি করে দেয়া হবে।

২০ দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক নেতা নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গটি ওঠার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিগত উপজেলা নির্বাচনেও আমরা সারাদেশে জোটগত প্রার্থী দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনেকেই তখন জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হয়েছিলেন। অবশ্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছি। এবার যেন প্রার্থিতা নিয়ে এমন ঘটনা না ঘটে। জোটের স্থানীয় নেতারা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে যাকে যেখানে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। আর তা করা সম্ভব হলে স্থানীয় সরকারের এ দু’টি পর্যায়ে ২০ দলীয় জোট ভাল ফল করবে। এতে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকে। তাই ইউপি ও পৌর নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ২০ দলীয় জোট শক্তিশালী হবে।

প্রসঙ্গত: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে রাজনৈতিকভাবে চরম বেকায়দায় পড়ে বিএনপি জোট। এর পর এ বছরের শুরুতে সারাদেশে টানা ৯২ দিনব্যাপী অবরোধ ও দফায় দফায় হরতাল ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি বেকায়দায় পড়ে ২০ দলীয় জোট। আপাতত সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করার কোন সম্ভাবনা না থাকায় সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। আবার কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলে যোগদান করছে। আর যারা এখনও সক্রিয় আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনা সংশ্লিষ্ট মামলায় জড়িয়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হতাশা কাটিয়ে তাদের আবার দলীয় কর্মকা-ে সক্রিয় করে তুলতেই ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে জোটের শীর্ষ নেতারা।

২০১৩ সালে ৫ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও জোটগতভাবে নির্বাচন করে বিএনপি। এতে মেয়র পদ বিএনপির দখলে রাখা হলেও কাউন্সিলর পদগুলো ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলকেও দেয়া হয়। সম্মিলিতভাবে জোটের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ৫ সিটিতেই বিজয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় তারা।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন জোটগতভাবে করতে না পারায় বিএনপি অনেকটাই বেকায়দায় ছিল। এ কারণে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিশাল শোডাউন করলেও বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের সে অর্থে দেখা যায়নি। সকালের দিকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের দেখা গেলেও জামায়াতসহ জোটের অন্য শরিক দলের নেতাকর্মীরা না থাকায় উপস্থিতি কমের কারণে হতাশ হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরাও সটকে পড়ে। আর এ খবর বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছলে দুপুরেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়। তাই ৩ সিটি কর্পোরেশনেই বিএনপি প্রার্থীদের বিপরীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। তাই এ নির্বাচনে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপি এবারের ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার নির্বাচন জোটগতভাবে করতে চায়।