২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে সোনার বাংলার স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত

  • গণজাগরণ মঞ্চের সভা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ জাতীয় শোক দিবসে গণজাগরণ মঞ্চের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা; আমরা কি ঠিক পথে?’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে শোক দিবস উপলক্ষে সকালে ধানম-ির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

সভাপতির বক্তব্যে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধু সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ভিত্তিক, বৈষম্যহীন এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। অথচ আজ সমাজে নানাভাবে বৈষম্য বেড়ে চলছে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এদেশের ছেলেমেয়েরা বিজ্ঞানমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাণিজ্য করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজ শোক দিবসে রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে ব্যানার আর ফেস্টুনে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছোট করে দিয়ে এলাকার মাস্তান, রংবাজরা হাসিমুখে বিশাল বড় ছবি লাগিয়েছে। আজ দিকে দিকে কাঙালভোজ হচ্ছে। অথচ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনে কাঙাল বলে কোন শব্দ ছিল না। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেই তার দল আওয়ামী লীগের ভেতরের এই চাটুকার, সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি অনুযায়ী দেশ গড়তে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সে কাজ শুরুও করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তরের ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসিত করার চেষ্টা করেছে।

আমরা জয় বাংলা সেøাগানকে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবু সাইদ খান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নির্ধারণ করার মধ্য দিয়ে দেশ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে অনেক দূর সরে এসেছে। সরকারীভাবে মৌলবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে দেশের অগ্রগতির পথকে দুর্গম করে ফেলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে হলে আগে পরমতসহিষ্ণু সব মত পথ ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, আজ যুদ্ধাপরাধের বিচারে সোচ্চার তরুণদের একের পর এক হত্যা করার মাধ্যমে দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। পঁচাত্তরের পর আবার এই বাংলাদেশবিরোধী শক্তি অপরাজনীতি করে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে নিরাপদ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, পঁচাত্তরের পনের আগস্টের পর থেকে বারবার মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতিকে মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। দুই স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়া ও এরশাদের সময়ে মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতাকে কৌশলে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।