২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমদানিকারক ও কাস্টমস মুখোমুখি অবস্থানে

  • বুড়িমারী স্থলবন্দরে ;###;১২ দিন ধরে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ;###;সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট ॥ জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাথরসহ সব ধরনের খোলাপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে বন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই নিয়মের বিরোধিতা করে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা কাষ্টম কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দর দিয়ে ১২ দিন ধরে পাথরসহ সকল ধরনের খোলা পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সেই সঙ্গে আমদানি পণ্য খালাসের সঙ্গে জড়িত বুড়িমারী বন্দরের কয়েক শত শ্রমজীবী দিনমজুর বেকার হয়ে পড়েছে।

বুড়িমারী বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ৪ আগস্ট হতে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা পাথর ও খোলা সব ধরনের পণ্য কাস্টম হাউজের মালখানার শেডে রাখতে হবে। বন্দরের কাস্টম ডিউটি পরিশোধের পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য নিয়ে যেতে ব্যবসায়ীদের ছাড়পত্র দেবে। এতে আমদানিকারকদের কাছে রাজস্ব বকেয়া থাকবে না। এই নিয়ম প্রতিটি বন্দরে চালু রয়েছে। বাকিতে পণ্য আমদানি করার সুযোগ দিয়ে রাজস্ব আয়ে অস্বচ্ছতা সৃষ্টি হয়। আমদানিকারকদের কাছ হতে রাজস্বের বকেয়া অর্থ উত্তোলনেও নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরের কয়েকজন আমদানিকারকের কাছে কয়েক কোটি টাকা বকেয়া রাজস্ব পড়ে আছে। এমন কী অনেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া রেখে লাইন্সেল পাল্টিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। রাজস্ব ফাঁকি হ্রাস করতে বন্দরে অন্যান্য বন্দরের ন্যায় সকল নিয়ম চালু করা হয়েছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কাওসার হোসেন জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপালে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু ভারত, নেপাল ও ভুটান হতে আমদানি করা পাথরসহ বিভিন্ন খোলা পণ্য আসা বন্ধ রয়েছে। কারণ বন্দরের কাস্টম কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ইয়ার্ডে রেখে কাস্টমসের সমুদয় ডিউটি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পরিবহনের ছাড়পত্র নেয়ার স্বচ্ছতা চালু করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা পেয়েই এই কার্যক্রম চালু করা হয়। কিন্তু বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এই নয়ম মানতে চাচ্ছে না। তাই তারা আন্দোলনের অংশ হিসাবে পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। আমদানিকারকরা অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চায়।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী স্থানীয় আমদানিকারক ব্যবসায়ী মেসার্স সওদাগর ওভারসীজের স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবীর সওদাগর জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পাথর আমদানি করতে এটা নিয়ম ছিল। এখন হঠাৎ একতরফাভাবে সেই নিয়ম বাতিল করে। অন্য একটি নিয়ম চালু করতে চায় কাষ্টম কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীরা পূর্বের নিয়ম চালু করতে বুড়িমারী বন্দর দিয়ে পাথরসহ পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। অন্য ব্যবসায়ীরা যদি নতুন নিয়ম মেনে ব্যবসা করে তারাও করবে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিদর্শক আব্দুল কাদের জিলানী জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দরে প্রায় শতভাগ ফ্যাসিলিটিস চালু রয়েছে। এখন ইয়ার্ডেই মালামাল ওঠানামা করানোর সক্ষমতা বেড়েছে। ইয়ার্ডে মালামাল সংরক্ষিত করতে প্রতি ধাপে (প্রথম ১০ দিন) প্রতিটনে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ইয়ার্ড ভাড়া বাবদ ৮ টাকা ৯৭ পয়সা মাসুল পরিশোধ করতে হয়। ১০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না করলে একই পণ্যে দ্বিতীয় ধাপ (অর্থাৎ ১১তম দিন হতে ২০তম দিন পর্যন্ত) প্রতিটনে ১৭ টাকা ৯৬ পয়সা মাসুল প্রদান করতে হবে। একই পণ্য তৃতীয় ধাপ (২১তম দিন হতে পরবর্তী ট্যারিফ সিডিউলের মধ্যে) একই পণ্যের ২৬ টাকা ৯৫ পয়সা পরিশোধ করতে হবে। পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের মধ্যে গতিশীলতা আনতে এই কার্যক্রম সারা পৃথিবীতে চালু রয়েছে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসে বিলম্বিত করলে বন্দরে জটলা সৃষ্টি হবে। বন্দর অকার্যকর হয়ে পড়বে। এই মাসুল পদ্ধতিতে পণ্য আমদানি করতে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ইয়ার্ড ব্যবহার না করে সরাসরি পণ্য সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দরের খোলা মাঠে রেখে ছাড়পত্র নিতে চায়। এতে তারা ইয়ার্ড ভাড়া দিতে চায় না।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এসি) বিল্লাল হোসেন আমদানি কার্যক্রম বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশী পণ্য রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশমতে নতুন নিয়ম করায় কতিপয় আমদানিকারক ব্যবসায়ী অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।