১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেচ দিয়ে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আয় ১৫০ কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ পানির অপর নাম জীবন। সেই পানি এবার জীবন ও ফসল রক্ষার পাশাপাশি এনে দিয়েছে প্রায় দেড় শত কোটি টাকার ওপর রাজস্ব। গত অর্থবছরে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে বেঁধে দেয়া খুবই নিম্ন রেটের মাধ্যমে অর্জন করেছে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ। উল্লেখ্য, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছিল মেরুকরণসহ রুদ্র শুকনো বরেন্দ্র ভূমির চাষীদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে ফসলের উৎপাদন কয়েকগু বৃদ্ধি করা। সেই লক্ষ্যে ২৫ বছর আগে ১৪ হাজার ৩৩৬টি গভীর নলকূপ পরিচালনার মাধ্যমে ২৮৭ লাখ হেক্টর ইরি-বোরাসহ ৭.৫৮ লাখ হেক্টরের বেশি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। কৃষক এই সেচ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের জমিতে অতিরিক্ত ৬৮.০৮ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন করছে।

একই সঙ্গে এসব জমিতে বছরে ৩টি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। কোথাও কোথাও চারবারও ফসল হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এক কথায় বরেন্দ্র ভূমির মেরুকরণ ঠেকানোসহ কৃষি জমির ৫৭.৫৭ শতাংশ এলাকা সেচের আওতায় এনে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে তা কোন কিছু দিয়ে বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। এক সময়ের আকাশের বৃষ্টিনির্ভর বরেন্দ্র এখন পুরোটাতে সবুজের সমারোহ বছরজুড়ে থাকছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাল ও পুকুর খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্যাপক হারে গাছ লাগানোর (বনজ ও ফলদ) কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে বৃষ্টির পরিমাণ। যার কারণে গত বছরে কৃষক গভীর নলকূপের পানির দিকে না তাকিয়ে আকাশের বৃষ্টি দিয়ে সেচ চালিয়েছে। যার কারণে গভীর নলকূপের আয় কিছুটা কমলেও কৃষক উপকৃত হয়েছে। সেই কারণে রাজস্ব আয় কমেছে ২৮.২২ কোটি টাকা। গভীর নলকূপের পানি নিলে এই টাকা দিতে হতো কৃষককে। গভীর নলকূপের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেচ সুবিধার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কারণে বরেন্দ্র জনপদের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বা কৃষক এখন দ্বিমুখীভাবে উপকৃত হচ্ছে।