১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

শরণার্থী সঙ্কটে ইউরোপ

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে শোচনীয় পরিস্থিতি

ইউরোপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সঙ্কটের মোকাবিলা করছে। ইইউর অভিবাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুক্রবার একথা বলেন। দিমিত্রিস আভরামোপলোস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রীস ঈজিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আকস্মিকভাবে বিপুল সংখ্যায় শরণার্থী আগমনের ‘জরুরী’ পরিস্থিতির মোকাবিলায় আরও জরুরী তহবিল পাবে। কেবল গত মাসেই প্রায় ৫০ হাজার লোক গ্রীসে আগমন করেছে। একবছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার। খবর টেলিগ্রাফ ও এএফপির।

গ্রীসের কোস দ্বীপের কর্তৃপক্ষ শরণার্থীদের সংখ্যায় এত ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে যে, সরকার সেখানে সাময়িক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার জন্য একটি ফেরি পাঠিয়েছে যেখান থেকে সিরীয় শরণার্থীদের জন্য ভ্রমণ কাগজপত্র দেয়া হবে। কোস দ্বীপে আটকা পড়া প্রায় ৩০ হাজার লোকের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী এই কাগজপত্র পাবে।

এ সপ্তাহের প্রথমদিকে কোসের চরম মানবিক বিপর্যয়ের কথা জানা যায়। সেখানে ট্রাবেল পেসার্স পাওয়ার জন্য প্রচ- রোদের মধ্যে সহস্রাধিক অভিবাসনকামীকে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রতীক্ষারত দেখা যায়।

ইউরোপের যেসব দেশে অভিবাসন সঙ্কট প্রকট, গ্রীস তাদের মধ্যে মাত্র একটি। শরণার্থীদের জন্য আবাসের ব্যবস্থা করা একটি বড় সমস্যা। মানবাধিকার কর্মীরা অস্ট্রিয়ার শরণার্থীদের আবাসন ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে। জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীরা নিশ্চিতভাবেই মিশ্র অভ্যর্থনা লাভ করছে।

ইইউর অভিবাসন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই যা করতে হবে এবং কমিশন যা করেছে তা হলো এই সমস্যাকে একটি শোভন, মার্জিত ও ইউরোপীয় রীতিতে মোকাবেলা করা।’ তাঁর মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইইউ এই সঙ্কটকে কমিউনিজমের পতনের পর এবং ১৯৯০-এর দশকে বলকান সঙ্কটের সময় সংঘটিত গণ দেশত্যাগের চেয়েও ভয়াবহ বলে গণ্য করছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সহিংস ঘটনার জেরে ৫ কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সবচেয়ে মানবিক দুর্দশার শিকার হয় সিরিয়া।

আভরামোপলোস শরণার্থী প্রশ্নে ‘সংহতি’ প্রকাশ করার জন্য ফ্রান্সের ক্যালে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেখানকার পরিস্থিতি ‘বৃহত্তর একাত্মতা প্রদর্শনের দাবি রাখে এমন একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত’।ইইউ একটি শরণার্থী বন্টন কোটায় এবং একটি বাধ্যতামূলক পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের জন্য ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এলেও গত মাসে জাতীয় নেতৃবৃন্দ তা বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, নেতৃবৃন্দকে ‘দায়িত্বশীলতা’ দেখাতে হবে এবং ‘জনপ্রিয়’ অভিবাসন বিরোধিতার কাছে নতি স্বীকার করা ঠিক হবে না। ‘সকল সরকারকে দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। আমরা এখানে জনপ্রিয় নয় এমন পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বসে আছি।’ আভরামোপলোস বলেন, ২০২০ পর্যন্ত অভিবাসনকামীদের স্রোত মোকাবিলার জন্য ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে মোট ২৪০ কোটি ইউরোর যে তহবিল দেয়া হবে তার মধ্যে গ্রীস শীঘ্রই ২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডের সমপরিমাণ ৩ কোটি ইউরোর প্রথম কিস্তি পাবে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্রীস আগামী ৬ বছর ধরে ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ইউরো পাবেÑ যা অভ্যর্থনা কেন্দ্র নির্মাণে এবং অভিবাসনকামীদের একত্র করতে সহায়ক হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সীমান্তে উন্নত নজরদারি এবং প্রবেশ করতে ব্যর্থ হওয়া অভিবাসনকামীদের প্রত্যাবাসন কর্মসূচীকে চাঙ্গা করতে সহায়তা করাও এই তহবিল জোগানোর লক্ষ্য।