২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঙালীর হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর নাম রবে চির অম্লান

  • শাহজাহান মিয়া

স্বাধীনতালাভের ৩ বছর ৮ মাস পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘটে যাওয়া শোকাবহ ঘটনাটির পর এরইমধ্যে পুরো ৪০টি বছর পেরিয়ে গেছে। আগস্টের কাল দিবসটি এদেশের সবার বুকে কান্নার ঢেউ তুলে হাজির হয় আমাদের সবার মাঝে। হৃদয়ে রক্ত ঝরায়। বুকের ভেতর উথলে ওঠা অব্যক্ত বেদনার বোবা কান্নার ঢেউ আছড়ে পড়ে অন্তরের গভীরের চার দেয়ালে। যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামক দেশটির অভ্যুদয়, স্বাধীনতার সেই মহানায়কের নাম-নিশানা এদেশের মানুষের মন থেকে চিরতরে মুছে ফেলার ঘৃণ্য চক্রান্তের অংশ হিসেবেই ডাকাতের দল বাংলার সিংহপুরুষকে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে সমাধি করে। কিন্তু বাঙালী জাতির হৃদয়মণির মহান কীর্তির প্রতি কৃতজ্ঞ এদেশের গণমানুষ ভুলে যায়নি আমাদের প্রিয় স্বাধীনতার স্থপতিকে। তাই হায়নার দল শারীরিকভাবে মহান নেতাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেও জনগণের মন থেকে তাঁর স্মৃতি-শ্রদ্ধা একটুও মুছে ফেলতে পারেনি। অবিসংবাদিত নেতার প্রতি এদেশের মানুষের রয়েছে পর্বতপ্রমাণ শ্রদ্ধা ভালবাসা। তাই আজ সেই টুঙ্গিপাড়াই রূপান্তরিত হয়েছে বাঙালীর তীর্থস্থান হিসেবে। ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আমরা প্রায় ৬০ সিনিয়র সাংবাদিক আমাদের ফোরাম নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নেতৃত্বে গত ৭ আগস্ট টুঙ্গিপাড়া যাই। আমি আরও কয়েকবার টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছি। কিন্তু এবার মনটি বেশ ভরে গেল। দুপুর ১২টার দিকে পৌঁছে ওখানে আমরা ঘণ্টাতিনেক ছিলাম। সমাধিস্থলের আশপাশের এলাকায় জাদুঘরসহ বিশাল একটি কমপ্লেক্সের মতো গড়ে উঠেছে। আগে কখনও এত লোক দেখিনি। এবার দেখলাম শিশুসহ সব বয়সের মানুষের সমাগম। তারা পরম শ্রদ্ধাভরে কমপ্লেক্স এলাকায় ঘুরছে, আর সবকিছু দেখছে। বাঙালী জাতির পিতা যে এলাকায় চিরনিদ্রায় শায়িত সে এলাকাটির আরও উন্নয়নের দাবি রাখে। তবে চারদিকে রাস্তাঘাটের অবস্থা বেশ ভাল। আমাদের সফরসঙ্গী একজন বললেন, এখানে কাছাকাছি কোন জায়গায় ভাল মানের হোটেল নির্মাণের কথা যাতে এখানে এসে অনেকে রাতে থাকতে পারেন। আমার মনে হয়েছে স্বাধীনতার মহানায়কের সমাধিস্থলের কাছাকাছি কোন জায়গায় একটি সুউচ্চ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথা এবং সেটাও হতে পারে জাতির পিতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। সবকিছুর প্রতি ছয় বছরের একটি ছোট বাচ্চার প্রগাঢ় আকর্ষণ লক্ষ্য করে আমি ওর সঙ্গে কথা বললাম। এখানে এসে তার কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করতেই সে ঝটপট বলল, ‘খুব ভাল লাগছে, আমি বঙ্গবন্ধুকে খুব ভালবাসি।’ এ সময় আমার নাতি রাইমের কথা মনে পড়ে গেল। এই ছেলেটির মতো মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই সে বঙ্গবন্ধু বলতে একেবারে পাগল। সে বলে ‘আমার বঙ্গবন্ধু’। আমি যে টুঙ্গিপাড়া গিয়েছিলাম এ কথা এখনও ওকে বলতে পারিনি। তাকে রেখে আমি বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়েছি এ কথা শুনলে, সে একদম কথা বলা বন্ধ করে দেবে। শিশুরাই আমাদের সম্পদ। এরাই ভবিষ্যত। ওদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কথা ও কাজ তথা আদর্শ তুলে ধরতে হবে যাতে মহানায়কে তারা মনেপ্রাণে ধারণ করতে পারে। তাদের বোঝাতে হবে বঙ্গবন্ধুর জন্য আমরা হতে পেরেছি একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। পেয়েছি গর্ব করার মতো একটি পরিচয়।

আমাদের মাতৃভাষার শব্দ ভা-ার নয়, সারাবিশ্বের সব ভাষাভাষীর শব্দ ভা-ার থেকে সমুদয় বিশেষণ নিয়েও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য গুণাবলীর সমাহারের সঠিক বর্ণনা দেয়া যথেষ্ট হবে না। গণমানুষের জন্য এই মহান নেতার অপরিসীম ভালবাসা, মমত্ববোধ ও দরদ; নেতৃত্ব দেয়ার অতুলনীয় ক্ষমতা, প্রখর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মেধা, দৃঢ়তা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও বলিষ্ঠতা; সাহস, হৃদয়ের বিশালতা, গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য মায়া-মমতা ও আবেগের প্রকৃত বিবরণ প্রদান কোন ভাষার শব্দসম্ভার দিয়েই সম্ভব নয়। কারণ, কালজয়ী এই মহান ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্থপতি ও স্বাধীনতার মহানায়কের যথাযথ মূল্যায়ন কোন শব্দ যোজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে একটি ব্যর্থ প্রয়াস। একজন মহাবিজয়ী মহাবীর সিপাহশালারের মতো শত প্রতিকূলতা জয় করে তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন একটি পতাকা, গৌরবোজ্জ্বল পরিচয় এবং একটি মানচিত্র, দিয়েছেন স্বপ্নের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তারপরও কিছু রক্তপিপাসু ঘাতকের নিষ্ঠুর, নির্মম ও পৈশাচিক লালসার শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই হিংস্র হায়নার দল বাঁচতে দেয়নি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে। মানুষ নামের অযোগ্য পাষ--পাপিষ্ঠরা বিদেশীচক্রের প্ররোচনায় তৎকালীন সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু ঘৃণ্য ঘাতক এদেশের দুঃখী মানুষের নয়নমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালী জাতিকে পিতা হারা করে। ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের মুক্তি আন্দোলনে অনন্য অর্জনের অধিকারী এই মহানায়ককে। কি দুর্ভাগ্য এই জাতির! যে মহান নেতার ত্যাগ-তিতিক্ষা আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও অপরিসীম নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করার বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটেছিল একটি স্বাধীন দেশের, সে মহান ব্যক্তির রক্তেই রঞ্জিত হলো দেশটির মাটি। ঘাতকদের কিছু দোসর এই সিংহপুরুষের অবদান এখনও অবজ্ঞার চোখে দেখছে। পাকিস্তানের প্রেমে বিভোর এই ঘৃণ্য লোকগুলোর এই অবজ্ঞা কোটি কোটি বঙ্গবন্ধু ভক্তের হৃদয় ব্যথায় জর্জরিত করে। মন-মানসিকতা ও চিন্তা-চেতনায় ওরা এতই নিচু যে, এই মহান ব্যক্তিকে ওরা জাতির পিতা হিসেবে স্বীকার করা তো দূরের কথা ওরা তাঁকে বঙ্গবন্ধু বলে ডাকতেও লজ্জা পায়। এই মানুষগুলো কোন মতেই বুঝতে চায় না যে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামক দেশটিরই জন্ম হতো না। ওরা বুঝতে চায় না, এই দেশটির অভ্যুদয় না ঘটলে আমরা আজ যে যেখানে যে অবস্থায় আছি তা কোনদিনই সম্ভব হতো না। বড় বড় নেতা-নেত্রী বা বিভিন্ন বড় বড় পদে আসীন হয়ে আমরা যারা আজ বড় বড় কথা বলছি তার কোনরূপ সুযোগই ঘটত না। তারপরও ওদের ক্ষোভের শেষ নেই।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মাধ্যমেই প্রকৃতপক্ষে সূচনা হয়েছিল নয় মাসের স্বাধীনতা সংগ্রাম। অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তার অধিকারী এই মহান নেতা ২৫ মার্চ রাতে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর। ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বর্বর রক্তপিপাসু পাকিস্তানীরা হিংস্র হায়নার বন্য উন্মত্ততা নিয়ে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র-নিরীহ বাঙালীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মানুষরূপী ওই পশুরা রাজধানী ঢাকাতেই ওই কালরাতে চল্লিশ সহস্রাধিক মানুষ হত্যা করে। বাঙালীরাও ঘুরে দাঁড়ায়। শুরু হয়ে যায় মাতৃভূমিকে হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করার সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধ। জীবনভর জেল-জুলুম, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে এদেশে একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রদানের নৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার অর্জন করেছিলেন। তথাকথিত কোন মেজর সাহেব নন। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ, অন্যায়-অত্যাচার ও নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে জনগণের হৃদয়ের গভীরে লালিত স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমেই তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের ইতি টানেন বঙ্গবন্ধু। উদাত্ত কণ্ঠে উচ্চারিত ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ও ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ মুক্তিপাগল জনতাকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছিল। প্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই নেতা, সাধারণ মানুষের নয়নমণি এ ভূখ-ের ভবিষ্যত পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলেন বলেই তিনি ৭ মার্চ ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছিলেন, ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা সবকিছু বন্ধ করে দেবে।’ দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, দেশের স্বাধীনতার পবিত্র ঘোষণা নিয়েও এ দেশের একশ্রেণীর রাজনীতিবিদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও নানা ছলচাতুরির ঘৃণ্য খেলায় আজ দেশের জনগণ অতিষ্ঠ। নিকৃষ্ট মানসিকতার ওই লোকগুলো বেমালুম ভুলে যায় যে, দেশের স্থপতি ও জাতির পিতাকে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে ওরা দেশের মান-মর্যাদাই ক্ষুণœ করছে। আপন মহিমায় ভাস্বর এই মহানায়কের অবদান কোনভাবে খাটো করে দেখা শুধু তাঁর প্রতিই অবমাননা ও অসম্মানই নয়, গোটা দেশের প্রতিই বেইমানির শামিল।

আমরা জানি যে, বঙ্গবন্ধুর স্নেহ ও মহানুভবতার পরশে সিক্ত হয়ে বর্তমান বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সে মানুষটি তার চিত্তের পরম সুখের জন্য ১৫ আগস্টের ওই কলঙ্কিত বঙ্গবন্ধুর হত্যার দিনটিকেই বেছে নিয়েছে ঘটা করে তার জন্মদিনের বিশাল কেক কাটার দিন হিসেবে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। মানুষের মতিভ্রম ঘটে। কিন্তু তারও একটা সীমা পরিসীমা থাকে। ধিক্, এ মানসিকতার। ধিক্, এ ঘৃণ্য মনোভাবের। অথচ বঙ্গবন্ধুর উদারতায় জীবনে স্বামীর সান্নিধ্য লাভের মতো বিরল অবদানের কথা কখনই তার ভুলে যাওয়ার কথা নয়। কৃতজ্ঞচিত্তে জীবনভর স্মরণ করারই কথা। কিন্তু ঘটল কুৎসিত ব্যত্যয়। যে দেশের মানুষ তাদের জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও জনকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সম্মান প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষ তাদের অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ ও নিচু শ্রেণীর মানুষ বলেই মনে করে। এ কথা সূর্যালোকের মতো সত্য বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামক দেশটির সৃষ্টি হতো না। স্বাধীন দেশে আজ যারা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে বড় বড় পদে আসীন হয়েছিলেন বা এখনও আছেন তারা কোনদিনই সে পদগুলোর কাছাকাছি উঠতে পারতেন না। তাই, স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।

১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু তাঁর বিরাট দলের বিপুল কর্মী বাহিনীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের একমাত্র প্রত্যাশা বাংলার মানুষ যেন উন্নত জীবনের অধিকারী হয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘কথাটি তোমাদের আমি পরিষ্কার বলে দেবার চাই, আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি। আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী এবং তারা পেটভরে খেতে পায় না, তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারব না।’ তিনি বলেছিলেন, আমরা দুর্নীতি করব না। দুর্নীতি এদেশ থেকে আমরা তাড়িয়ে দেব। এদেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে চায়। আমরা শান্তি দেব। ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, ‘গ্রামে গ্রামে কাজ কর। দুঃখের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াও। সোনার বাংলা গড়তে হলে প্রথমে তোমাদের সোনার মানুষ হতে হবে।’ কথাগুলো মহান নেতার মনের গভীর থেকে উৎসারিত হয়েছিল। কারণ, যে লোকটি এদেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এবং পাকিস্তানের শোষকদের হাত থেকে তাদের মুক্তির জন্য জীবনের আরামকে হারাম করেছিলেন তাঁর পক্ষেই শুধু জনগণের প্রতি গভীর মমত্ববোধ নিয়ে এমন কথা বলা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেন, ‘১৯৭৫ সালের আগস্টে বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়স্বজন হারিয়ে এ দেশের দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করা ছাড়া তাঁর আর চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই। এদেশের দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাটি তাঁর পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথারই প্রতিধ্বনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে দৃঢ়তা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং যাবেন এটাই সবার দৃঢ় প্রত্যাশা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট