১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রকৃতির বিরুদ্ধে

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিবিড়। এ সম্পর্ক নাড়ির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বললে অত্যুক্তি হবে না। কেননা প্রকৃতি যদি মা হয় তবে মানুষ তার সন্তান। প্রকৃতির রূপ, রস আস্বাদন করেই মানুষের জীবনচক্র ঘূর্ণায়মান। অনাদিকাল থেকেই প্রকৃতি তার আপন নিয়মে, নিজস্ব গতিতে চলছে। কেউ তার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে গেলে কিংবা স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার চেষ্টা করলে প্রকৃতি বিরূপ হয়ে ওঠে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিশোধও নেয়। সেই প্রতিশোধ হয় ভয়ঙ্কর, প্রাণসংহারী-সম্পদবিনাশী। তখন প্রকৃতির কল্যাণরূপ আর থাকে না। খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, মহামারী ইত্যাদি তো চোখের সামনেই ঘটছে। গ্রীন হাউস এ্যাফেক্টের ফলে বায়ুম-লের উষ্ণতা, সূর্যের অতিবেগুনী ক্ষতিকর রশ্মির বিকিরণ এর সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর এসব কিন্তু ধরিত্রীর সন্তান হয়ে মানুষই জেনে-বুঝে কখনও না বুঝেও করছে। অর্থাৎ নিজেদের ক্ষতি করছে নিজেরাই।

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম ও গতি ব্যাহত করলে যে মানুষই দুর্ভোগে পড়ে এর প্রমাণ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যেতে হয় না। অভিন্ন গতিধারার কোন নদীর ওপর বাঁধ নির্মিত হলে হয়ত একপাশে শস্য-শ্যামলা আর অন্য পাশে প্রকৃতি বিরান হওয়ার উপক্রম হয়। এমন বাস্তবতা কারও কাম্য হতে পারে না। আমাদের দেশের অভ্যন্তরেও এমন কিছু ঘটছে যা প্রকৃতিবিরুদ্ধ তো বটেই পাশাপাশি বেআইনীও। সিলেট, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, নেত্রকোনাসহ আরও কয়েকটি জেলায় চলছে প্রকৃতির স্বাভাবিকত্ব ও সৌন্দর্য বিনাশের মহোৎসব। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জেলা বলে খ্যাত সিলেটের জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে নদীর তলদেশ ও তীর বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। হারাচ্ছে নদীর সৌন্দর্য, ভূমিও হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। কোয়ারির বাইরে পাথর তোলা নিয়মবিরুদ্ধ জেনেও তা করা হচ্ছে কিছু লোভী ও অপরিণামদর্শী মানুষের সংঘবদ্ধ কারসাজিতে। টিলা কাটা নিষিদ্ধ সত্ত্বেও তা কাটতে গিয়ে গাছও কাটা পড়ছে। ভূমিরূপের বৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানুষের জীবনহানিও ঘটছে টিলা ধসে। একই রকম বাস্তবতা চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজারে। এ এলাকাগুলোয় পাহাড় কাটা যেন স্বাভাবিক নিয়মে দাঁড়িয়েছে। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় নিধনযজ্ঞ। প্রকৃতিও নিচ্ছে চরম প্রতিশোধ। বর্ষা মৌসুমসহ প্রায়ই পাহাড় ধসে ঝরে পড়ছে অমূল্য অসংখ্য প্রাণ। নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরে ম্যালামাইনের জন্য অপরিহার্য উপাদান মাটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা হলেও সেখানে ভূমির ভারসাম্য বজায় রাখতে কোন নিয়ম না মানাটা অনভিপ্রেত।

দেশজুড়ে অনেক জেলায়ই প্রকাশ্যে এমন প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে, এক রকম জোর করে হরণ করা হচ্ছে প্রকৃতির স্বাভাবিকত্ব। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে এক সময় প্রকৃতির বিরূপ বা রুদ্ররোষের শিকার হতে পারি আমরা, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ নিয়ে সরকারের যে মাথাব্যথা নেই তা নয়। আছে নানা উদ্যোগ, আইনও অছে। সে আইন কঠোরও বটে। তবে প্রায়োগিক দিকটা তত শক্তিশালী বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। আইনের যথার্থ ও বাস্তবানুগ প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক আন্দোলনও এ ক্ষেত্রে জরুরী।

এই মাত্রা পাওয়া