২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক উন্নয়নের বীজ বুনেছিল ’৭২-এর সরকার

  • আরিফুর সবুজ

মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে আজ বাংলাদেশ। একটা সময় পর্যন্ত এ অবাস্তব, অলীক কল্পনা মনে হলেও আজ তা সত্য, নিতান্তই বাস্তব। এ বাস্তবতা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণে। পিতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে, পিতার দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি নিরলস চেষ্টা করেছেন। তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং কর্মপ্রচেষ্টার কারণেই আজ বাংলাদেশে ‘ক্ষুধার তাড়নায় মৃত্যু’ এমন সংবাদ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। তলাবিহীন ঝুড়ি আজ পরিপূর্ণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপচেও পড়ছে। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানো আর খুব বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশের বর্তমান যে আর্থ-সামাজিক অবস্থা, আগামীর যে স্বপ্ন এর সবকিছুর বীজ বপন করেছিলেন মহাকালের মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তাঁর তেজোদীপ্ত বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কল্যাণে বাংলাদেশ কেবল বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করেই নেয়নি, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে এগিয়েও গেছে। সহস্রকোটি বাধা-বিপত্তির পাহাড় ডিঙিয়ে তিনি দেশের ভগ্নপ্রায় আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিকে জাগিয়ে তুলেই ক্ষান্ত হননি, নিয়ে যাচ্ছিলেন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে। তিনি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যহীন সমাজ। সেজন্য স্বাধীনতা পরবর্তী স্বল্পসময়ের শাসনামলে নিয়েছিলেন অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, একদল নরপিশাচের হৃদয়হীন বর্বরতায় ১৫ আগস্ট কালো রাতে কেবল ধানম-ির বত্রিশ নম্বরের বাড়িই রক্তাক্ত হয়নি, রক্তাক্ত হয়েছিল পুরো জাতি। সেই রাতে মহানায়কের মৃত্যুর ক্ষত আমাদের এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। যদি তিনি আরও কিছুদিন জীবিত থাকতে পারতেন, তবে অনেক আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারত। আর এখন আমরা ঢুকে যেতে পারতাম উন্নত দেশের কাতারে। স্বার্থান্বেষী মহল সবসময়ই বলে বেড়ায়, বঙ্গবন্ধু সফল বিপ্লবী ছিলেন, কিন্তু সফল প্রশাসক ছিলেন না। এ ডাহা মিথ্যে কথা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে তিনি যেভাবে অতল গহ্বর থেকে টেনে তুলেছিলেন, তা বিশ্লেষণ করলেই তাদের কথার অসারতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তখনকার প্রকৃত পরিস্থিতি ও বঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপগুলোই প্রমাণ করে, তিনি শুধু সফল বিপ্লবী, স্বপ্নদ্রষ্টাই ছিলেন না, ছিলেন একজন সফল প্রশাসক, স্বপ্ন বাস্তবায়নকারীও। আজকের বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক সফলতার বীজ বুনেছিলেন তিনিই।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তাছাড়া পাকিস্তানী হায়েনাদের হামলায় সরকারী গুদামে মজুদ খাদ্যশস্য, শস্যবীজ, সার, কীটনাশক ওষুধ এবং মাঠের গভীর ও অগভীর নলকূপ, গবাদিপশু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সম্পূর্ণ ভেঙে পরেছিল দেশের কৃষিব্যবস্থা। দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০ লাখ টন। এরমধ্যে প্রায় ৯০ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দী, আটককৃত ৫০-৬০ হাজার রাজাকার ও দালাল এবং প্রায় সোয়া লাখ ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর জন্য খাদ্য সরবরাহ বঙ্গবন্ধুর সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এতে তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয়াই স্বাভাবিক ছিল। অনেকে বঙ্গবন্ধুকে দোষারোপ করে, বিশেষ করে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের জন্য। ঐ দুর্ভিক্ষে প্রায় ২৭ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করেছিল। কিন্তু ঐ দুর্ভিক্ষ ঘটেছিল আমেরিকা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী ছিল, তারা এবং দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানপন্থীদের ষড়যন্ত্রে। বিদেশী সাহায্য তেমন না পেলেও বঙ্গবন্ধু প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন ঐ সঙ্কট মোকাবেলার। না হলে, মৃত্যুর সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যেত। বঙ্গবন্ধু ভেঙে পড়া কৃষিব্যবস্থাকে চাঙ্গা করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে কৃষিঋণ প্রদান, পাকিস্তান আমলের বকেয়া খাজনাসহ ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা চিরতরে মওকুফকরণ, কয়েক লাখ কৃষি ঋণের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহারসহ ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে খাসজমি বিতরণ, চাষীদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণদানের ব্যবস্থাকরণ, বীজ সংগ্রহ করা, গভীর ও অগভীর নলকূপ মেরামত বা পুনর্খনন করা, কয়েক লাখ গরু আমদানি, বিনামূল্য কীটনাশক ওষুধ ও সার সরবরাহকরণ, ভূমি উন্নয়ন, সেচ কার্যক্রম ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ধান, পাট, তামাক ও আখসহ গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের ন্যূনতম ন্যায্যমূল্য বেঁধে দেয়া হয়, যাতে কৃষিপণ্যের ন্যায় সঙ্গত মূল্য কৃষকরা পান। দরিদ্র কৃষকের বাঁচানোর স্বার্থে সুবিধাজনক নিম্নমূল্যের রেশন সুবিধা তাদের আয়ত্তে নিয়ে আসা হয়। এতে দেশের কৃষি ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। সেই এগিয়ে চলাকে ত্বরান্বিত করেন তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা। যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ।

যুদ্ধের কারণে দেশের ভৌত অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গিয়েছিল। পাকিস্তানী বাহিনী সারা বাংলাদেশে প্রায় ৪৩ লাখ বসতবাড়ি, ৩ হাজার অফিস ভবন, ১৮ হাজার প্রাইমারি স্কুল, ৬ হাজার হাই স্কুল ও মাদ্রাসা, ৯০০ কলেজ ভবন ও ১৯ হাজার গ্রাম্য হাট-বাজার পুড়িয়ে দিয়েছিল। ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ২৭৪টি ছোট-বড় সড়ক সেতু ও ৩০০টি রেলসেতু। ৪৫ মাইল রেললাইনের সম্পূর্ণ অংশ এবং ১৩০ মাইল রেললাইনের আংশিক ক্ষতি সাধিত হয়। ধ্বংস করা হয় রেলইঞ্জিন ও বগি মেরামতের কারখানাগুলো। পুড়িয়ে দেয়া হয় শত শত বাস ও ট্রাক, নৌকা, লঞ্চ। মোদ্দা কথা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এমনকি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল চট্টগ্রাম ও চালনাবন্দর। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও ভৈরব সেতুসহ ৪৬৭টি সেতু নির্মাণ ও মেরামত, ৭টি নতুন ফেরি, ১৮৫১টি রেলওয়ে ওয়াগন ও যাত্রীবাহী বগি, ৪৬টি বাস, ৬০৫টি নৌযান ও ৩টি পুরাতন বিমান চালু করে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পুনর্প্রতিষ্ঠা করেন। মাইন উদ্ধার করে অচল বন্দরসমূহ সচল করার উদ্যোগ নেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অনেকগুলো প্রকল্প চালু করেন। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন শেখ হাসিনা। ফ্লাইওভার, ব্রিজ বিশেষ করে বহুল কাক্সিক্ষত পদ্মা সেতু তৈরির কাজ শুরু করে তিনি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন।

নয় মাসের যুদ্ধে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছিল দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো। পাকিস্তানী হানাদাররা ব্যাংকে গচ্ছিত কাগজের নোট পুড়িয়ে দিয়েছিল। লুট করেছিল গচ্ছিত সোনা। শিল্প-কারখানা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কোন অর্থ ছিল না। ফলে বঙ্গবন্ধুর সরকারকে তীব্র অর্থ-সঙ্কটে পড়তে হয়েছিল। ষড়যন্ত্রের কারণে বৈদেশিক সাহায্যও ছিল অপ্রতুল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন। পাকিস্তানী কর্তৃক পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও শিল্প ইউনিট যেগুলো সম্পূর্ণ দেউলিয়া ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল, সেগুলোকে তিনি জাতীয়করণ এবং উৎপাদন উপযোগী করে তোলেন। এতে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী যারা হতাশায় নিমজ্জিত ছিল কাজ হারিয়ে, তাদের কর্মসংস্থান হয়। কার্যকর মুদ্রানীতি চালু করার মধ্য দিয়ে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত শিল্পকারখানাগুলো পুনর্গঠন ও নতুন নতুন শিল্পকারখানা গঠনের উদ্যোগ নেন তিনি। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসা শুরু করে। যার ফলে আমরা দেখি, ১৯৭২-৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধির বার্ষিক হার শতকরা ৭ ভাগ। তাঁর সরকার প্রণীত বাজেটগুলোতে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল সবাগ্রে। ১৯৭৩-৭৮ সময়কালের জন্য প্রণীত মধ্যবর্তী সময়ের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্যকে এক নম্বর জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এতে দ্রুত গতিতে জাতীয় আয় বৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি ও তার সুষম বণ্টনের নিশ্চয়তার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মাথাপিছু আয় প্রতি বছর ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা এবং বিত্তবানদের আয় বৃদ্ধির গতি ধীরে হলেও দরিদ্রদের আয় দ্রুত গতিতে বাড়ানোর ব্যবস্থা করা। ঐ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা প্রভৃতি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা শুরু করেছিলেন। আজ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই মৌলিক অধিকার ভোগ করছে। এই সাফল্য বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনারই।

বঙ্গবন্ধু আজীবন অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলে গেছেন। তার ধ্যান-ধারণার মধ্যে এ দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী, নিম্নবিত্ত মানুষ, কৃষাণ-কৃষাণী এবং শ্রমজীবীদের প্রাধান্য ছিল। তার চিন্তা ও কর্মে দীপ্তমান ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠাই ছিল তার চূড়ান্ত লক্ষ্য। তিনি বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনামুক্ত সোনার বাংলা রূপে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘমেয়াদি আমূল সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। দিয়েছিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দৃপ্তকণ্ঠে এবং পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘আঘাত করতে চাই এই ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থাকে’। দুর্নীতি উচ্ছেদ করা, কল-কারখানা ও ক্ষেতে-খামারে উৎপাদন বৃদ্ধি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্যÑ এই চারটি বিষয়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই চারটি বিষয়ে যদি বাংলাদেশ সাফল্য লাভ করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ফিরতে আর বিলম্ব হবে না। দুর্নীতি যে কোন রাষ্ট্রের জন্যই হুমকিস্বরূপ। দুর্নীতি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে, এ উপলব্ধি থেকে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি চাননি ভিক্ষুক জাতির নেতা হতে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নিয়েছিলেন নানা পদক্ষেপ। বঙ্গবন্ধু ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের ওপর জোর দিয়েছিলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়েছিলেন কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি চেয়েছিলেন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে। গঠনও করেছিলেন জাতীয় ঐক্যর ভিত্তিতে একটি দল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, গূঢ়ার্থ না বুঝে স্বার্থান্বেষী মহল এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। সেই অপপ্রচার এখনও বিদ্যমান।

বঙ্গবন্ধু যে শোষণ, বঞ্চনা ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চেয়েছিলেন, সেই সমাজ এখনও প্রতিষ্ঠা পায়নি, এটা সত্য। তবে সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এবং তা যাচ্ছে, তারই সুযোগ্য কন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধু যদি জীবিত থাকতেন তবে তাঁর দূরদর্শিতা, তেজোদীপ্ত নেতৃত্বগুণ, কার্যকর কর্মকৌশল নির্ধারণের ক্ষমতা, জনকল্যাণের সদিচ্ছার কারণে দেশ আরও অনেক আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তা হতে দেয়নি জাতির জনকের খুনীরা। ইতিহাসের ঘৃণ্য সেসব নরপিশাচের বর্বরতার কারণে দীর্ঘকাল অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলার মানুষ। এজন্য ইতিহাস কখনোই তাদের ক্ষমা করবে না। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের হৃদয়ে জাগরুক থাকবেন অনন্তকাল ধরে এদেশে, বিশ্ব ছাড়িয়ে মহাবিশ্বেও।

ধৎংঢ়ধঃঁধৎু@মসধরষ.পড়স