২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবারও জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন করলেন খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবারও কেক কেটে জন্মদিন পালন করলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তবে প্রথম প্রহরে অন্যান্য বছরের মতো গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে জন্মদিন পালন না করে বাসায় পারিবারিকভাবে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন তিনি। এদিকে শনিবার রাতে একে একে বেশ ক’টি কেক কেটে নিজের ৭০তম জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। মহিলা দল, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পৃথক পৃথকভাবে ৭০ পাউন্ড ওজনের কেক নিয়ে আসেন। এ সময় তারা খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। খালেদা জিয়াও তাদের শুভেচ্ছা জানান। এদিকে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার গুলশান কার্যালয়টিকে আলোকসজ্জিত করা হয়।

আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল থেকে এবার খালেদা জিয়াকে জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন না করার আহ্বান জানানো হয়। এক পর্যায়ে বিএনপিপন্থী ক’জন বুদ্ধিজীবীও খালেদা জিয়াকে শোকের দিন না করে আগে-পরে জন্মদিন পালন করতে বলেন। এ পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টের আগেই লন্ডন চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৩ আগস্ট লন্ডনের ভিসাও হাতে পান তিনি। ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা ছিল। কিন্তু এর আগের দিন লন্ডন বিএনপি অফিসে বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মারামারির ঘটনা এবং ১৫ আগস্টের আগে বিদেশে না যেতে বিএনপির কট্টরপন্থী কিছু নেতার পরামর্শের কারণে খালেদা জিয়া তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দেশেই জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি নেন। তবে সমালোচনা এড়াতে অন্যান্য বারের মতো ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে গুলশান কার্যালয়ে জাকজমকভাবে অনুষ্ঠান না করে নিজের বাসায় পারিবারিক গ-িতে জন্মদিন পালন করেন তিনি।

শুক্রবার রাত ১০টার কিছুক্ষণ পর খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ফিরোজায় যান তার দুই ভাই সাঈদ এস্কান্দার ও শামীম এস্কান্দারের পরিবারের সদস্যরা। তারা ওই বাসায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ডিনার করেন। এর পর খালেদা জিয়া রাত ১২টা ১মিনিটে তাদের নিয়ে ছোট একটি কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন। সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন সাঈদ ও শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা আগেই একটি কেক নিয়ে আসেন।

পারিবারিক গ-িতে কেক কাটার পর লন্ডন থেকে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান দাদি খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। এর পর ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। এদিকে শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করেছে বেলজিয়াম বিএনপি। এ উপলক্ষে তারা আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে ভিড় জমাতে থাকে বিভিন্ন স্তরের বিএনপি নেতাকর্মীরা। রাত ৮টার আগেই কেক ও ফুল নিয়ে আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। রাত ৯টায় গুলশান কার্যালয়ে যান খালেদা জিয়া। এ সময় নেতাকর্মীরা সমস্বরে সেøাগান দিতে থাকে ‘শুভ শুভ শুভদিন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় কেক কাটা। প্রথমেই তিনি ছাত্রদলের ৭০ পাউন্ড ওজনের কেকটি কাটেন। এর পর একে একে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কেন্দ্রীয় বিএনপি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে নেয়া কেক কাটেন। এ সময় দলের নেতারা খালেদা জিয়ার মুখে কেক তুলে দেন। খালেদা জিয়াও ক’জন নেতার মুখে কেক তুলে দেন। এর পর একে একে সবাইকে কেক দিয়ে আপ্যায়ন করেন গুলশান কার্যালয়ের স্টাফরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, যগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ওলামা দলের সভাপতি আবদুল মালেক, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, তাঁতি দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের বনানীর বাসায় খালেদার জন্মদিন উপলক্ষে একটি কেক কাটেন মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় মহিলা দলের সভাপতি নুরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।