২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই তৃতীয়াংশ ব্যাংকের মুনাফা অর্ধবার্ষিকীতে বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্ধবার্ষিকীতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগেরই মুনাফা আগের তুলনায় বেড়েছে। চলতি অর্ধবার্ষিকে তালিকাভুক্ত ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া প্রাইম, ট্রাস্ট, ঢাকা, ইউসিবিএল, উত্তরা, ইস্টার্ন ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল ও এক্সিম ব্যাংকসহ ১০টি ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের চেয়ে কমেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনায় ব্যাংকগুলোকে সঞ্চিতি কম রাখতে হচ্ছে। এছাড়া ঋণের সুদহার কমে আসায় ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার ঋণ আদায় বেড়েছে। সবমিলে চলতি অর্ধবার্ষিকে ব্যাংক খাতের মুনাফা বেড়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকেও আয় বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্ধবার্ষিকে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ কমে আসায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা মুনাফা করে ব্যাংকটি। এতে অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির ইপিএস দাঁড়ায় ২ টাকা ১১ পয়সা; যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬১ পয়সা। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।

তবে পরিশোধিত মূলধন কম থাকায় ইপিএসে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। চলতি অর্ধবার্ষিকে প্রতিষ্ঠানটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি শেয়ারে আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৫৮ পয়সা। ব্যাংকটি অর্ধবার্ষিকে ১১১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

বিসমিল্লাহ কেলেঙ্কারি ও ইসলামী ব্যাংকিং শাখায় ব্যাপক অনিয়মের কারণে দুই বছর ধরে প্রাইম ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ সঞ্চিতি রাখতে হয়েছে। এতে ব্যাংকটির মুনাফার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। তবে এ বছর ব্যাংকটির সঞ্চিতির হার কমে আসায় স্বাভাবিক মুনাফার ধারায় ফিরে এসেছে। চলতি অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১১ পয়সা; যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯৮ পয়সা।

ট্রাস্ট ব্যাংকের মুনাফায় উলম্ফন দেখা গেছে অর্থবার্ষিকীতেও। ২০১৪ সালের অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৮২ পয়সা; যা চলতি অর্ধবার্ষিকে ২ টাকা ১৩ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। এছাড়া আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি অর্ধবার্ষিকে ইপিএস উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে সিটি ব্যাংক (১ টাকা ৭১ পয়সা), ঢাকা ব্যাংক (১ টাকা ৫৮ পয়সা), ইস্টার্ন ব্যাংক (২ টাকা ৩ পয়সা) ও এমটিবির ( ১ টাকা ৩৫ পয়সা)। এছাড়া এ সময়ে ইউসিবিএল, উত্তরা ব্যাংক, সাউথ ইস্ট, এনসিসি, ওয়ান, ব্যাংক এশিয়া ও এবি ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। আর আগের বছরের অর্ধবার্ষিকে শেয়ার প্রতি ৮১ পয়সা লোকসান হলেও এবার মুনাফায় ফিরে এসেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। চলতি অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৮ পয়সায়।

এদিকে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সত্ত্বেও ১১টি ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় কমেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের। ২০১৪ সালের অর্ধবার্ষিকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ইপিএস ছিল ৯৮ পয়সা; যা চলতি অর্ধবার্ষিকে ৩২ পয়সায় নেমে এসেছে। আর একই সময়ে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস ৮৮ পয়সা থেকে ৩৫ পয়সায় নেমে আসে। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে বড় ধরনের সঞ্চিতির কারণে অর্ধবার্ষিকে এক্সিম ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। আগের বছরের অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৪৭ পয়সা; যা চলতি অর্ধবার্ষিকে ২৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আগের বছরের চেয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী, ব্র্যাক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি, মার্কেন্টাইল, এনবিএল, পূবালী ও রূপালী ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। তবে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লোকসানের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পেরেছে। যমুনা ব্যাংক এখনো দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।