২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করতে চায়

সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করতে চায়
  • এ লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে ॥ আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পেছনে কোন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল কি-না তা অনুসন্ধানে একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ছিল। এখানে একটি রাজনীতি কাজ করেছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা উদঘাটনে একটি সেল গঠনের চিন্তা করতে হবে। এ বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। রবিবার টিসিবি অডিটরিয়ামে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের ১২৫তম পর্বে অংশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, একাত্তর সালের পরাজিত শত্রুদের সঙ্গে খন্দকার মোশতাকসহ আওয়ামী লীগের কিছু লোক ছিলেন। তাদের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে বিপথগামী একটি দল বঙ্গবন্ধু হত্যার মতো জঘন্য কাজটি করেছে, যার থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। এটি অনুসন্ধানে কমিশন গঠন করে ফরমাল রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

বিবিসি সংলাপ উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন। আলোচনা প্যানেলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রওনক জাহান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ও ড. রওনক জাহান একই মত প্রকাশ করে বলেন, এ হত্যার পেছনে শুধু পরাজিত শত্রুরাই ছিল না। বিদেশী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও ছিল। তবে দ্বিমত প্রকাশ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ নোমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের একটি অংশ জড়িত ছিল, তাদের সঙ্গে বিপথগামী কিছু সেনা সদস্যও ছিলেন। এটাই ইতিহাস, এটাই সত্য ঘটনা।

প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে কমিশন গঠনের জন্য নাগরিক কমিটির দেয়া পরামর্শ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর যে যে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু রয়েছে সেখানে প্রধানমন্ত্রীরই ক্ষমতা থাকে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তার সবই বলা আছে। তারপরও নির্বাচন কমিশনের যদি কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে সেটি শুদ্ধ করে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং সমস্যা আরও ঘনীভূত হবে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, একমাত্র জনগণই সুষ্ঠু নির্বাচনের সহায়ক। সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনই পারবে। বর্তমানে দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টের দেয়া ফর্মুলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একটি সংবিধান বিদ্যমান। সংবিধানে যা যা আছে তার বাইরে কিছু বললে তা হবে অসাংবিধানিক।

বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সংবিধান সংশোধনে নাগরিকদের দেয়া প্রস্তাব সমগ্র দেশের মানুষের প্রস্তাব, সারা জাতির প্রস্তাব। দেশের মানুষ মনে করছেন, সংবিধান সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী একক ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন। তার থেকে কমিয়ে ভারসাম্য করা উচিত। রাষ্ট্রপতিকেও কিছু ক্ষমতা দেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে নোমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক দল থেকেই নিতে হবে। ৫০ জনের সমন্বয়ে সমস্যা সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না।