২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত চার খুনীর সন্ধানে নয়া কূটনৈতিক উদ্যোগ

  • রেড এ্যালার্ট জারি করা ১৮৮টির মধ্যে ১৭ দেশের তালিকা তৈরি

শংকর কুমার দে ॥ প্রায় দেড়যুগ ধরে হদিস না থাকা বঙ্গবন্ধুর হত্যার মৃত্যৃদ-াদেশপ্রাপ্ত আত্মস্বীকৃত ৪ খুনীকে ধরতে সন্ধানী জাল ফেলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ইন্টারপোলভুক্ত রেডএলার্ট নোটিস জারি করা ১৮৮ দেশের মধ্যে বাছাই করে ১৭ দেশের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই ১৭ দেশের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে আছে ৪ খুনী বলে মনে করছেন গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে ৪ খুনীর বিরুদ্ধে রেডএলার্ট নোটিস জারি করার পর কোন উত্তর পাচ্ছেন না ইন্টারপোল ডেস্ক। এ জন্য অন্যান্য খুনীর অবস্থান জানা গেলেও ৪ খুনীর সঠিক অবস্থানের খবর সরকাররের অজানা। আত্মস্বীকৃত ৪ খুনী লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, ক্যাপ্টেন (অব) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান অবস্থান অজানা।

সূত্র জানান, গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১৭ দেশকে চিহ্নিত করে বাছাই করা হচ্ছে, যেখানে ৪ খুনীর অবস্থান চিহ্নিত করা যেতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই ১৭ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তাদের দিয়েও ৪ খুনীর সন্ধানের জাল ফেলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র বিদেশের বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়েছে আত্মস্বীকৃত ৪ খুনী যেই ১৭ দেশে আত্মগোপন করে থাকতে পারে তার মধ্যে পাকিস্তান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, কেনিয়া, জার্মানি, থাইল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি, লেবানন, লিবিয়া, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, চীন ও হংকং। বঙ্গবন্ধুর হত্যার ঘটনায় পলাতক ৬ খুনীর অবস্থান নির্ণয় করার রেডএলার্ট নোটিস দেয়া হয় ১৮৮ দেশে। ইন্টারপোলভুক্ত বর্তমান সদস্য ১৮৮টি দেশের মধ্য থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৭ দেশ। বিগত দেড় যুগে এই ১৭ দেশে খুনীরা ব্যাবসা বাণিজ্য, অবস্থান, আত্মগোপন ইত্যাদির খবর পেয়েছে সরকারের বিভিন্ন মাধ্যম।

সূত্র জানান, ঢাকার ইন্টারপোল ডেস্কের রেডএলার্ট নোটিসের জবাবে আন্তর্জাতিক ইন্টারপোল ডেস্ক বিগত দিনে ৬ খুনীর মধ্যে ২ খুনীর অবস্থান জানালেও অপর ৪ খুনীর অবস্থান জানতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রে লে. কর্নেল (অব) এ এম রাশেদ চৌধুরী ও কানাডায় মেজর (অব) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী অবস্থান জানাতে পারলেও ৪ খুনীর অবস্থান সম্পর্কে ইন্টারপোল কোন তথ্য জানায়নি গত দেড় যুগেও। এ কারণেই সরকার বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া সূত্রের খবর ধরে আবার নতুন করে ১৭ দেশকে চিহ্নিত করে ৪ খুনীর অবস্থান সনাক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৪ খুনীর মধ্যে বিদেশের কে, কোন দেশে আছে তার সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা না গেলেও কূটনৈতিক সূত্র ও প্রবাসীদের উদ্ধৃতির মাধ্যমে জানা যায়, গত দেড় যুগের মধ্যে খুনীদের অন্যতম লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তান ও লিবিয়ায় অবস্থান করেছে বিভিন্ন সময়ে। আরেক খুনী লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম কেনিয়া, লিবিয়া ও পাকিস্তানে আসা-যাওয়া করেন। আবদুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান ভারতে বলে জানার পরও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য খুঁজে পাচ্ছে না ভারত সরকার। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে বছরের পর বছর ধরে কূটনৈতিক যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান জানার চেষ্টা করা হয়। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ২ খুনীর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে পারেনি। তারা ভারত ছাড়াও বর্তমানে পাকিস্তান, লিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে খবর রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের ১৮৮ সদস্য দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিষয়ে রেডএলার্ট নোটিস দেয়া আছে পলাতক খুনীদের বিরুদ্ধে। দেড় যুগেও ৪ খুনীর অবস্থান নির্ণয় করা যায়নি বলে এখন আবার ইন্টারপোলের ১৮৮ দেশের মধ্যে ১৭টি দেশকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে ৪ খুনীর অবস্থান সম্পর্কে সন্ধানী জাল ফেলা হবে। এ জন্য প্রয়োজনে আবারও রেডএলাট নোটিসের জবাব চাওয়া ছাড়াও কূটনৈতিক যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। ’৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করা হলে খুনীরা বিদেশে পালিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে ১২ খুনীর মৃত্যুদ-াদেশ হলে ৬ খুনীর ফাঁসির রায় কার্যকর, এক খুনী জিম্বাবুয়ে মৃত্যুবরণ করেন, দুই খুনী যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থান করছেন। কিন্তু রশিদ, ডালিম, মাজেদ, মোসলেমÑ এই ৪ খুনী কে, কোন দেশে লুকিয়ে আছে তা চিহ্নিত করা যায়নি দেড় যুগেও। তাই, সরকারের পক্ষ থেকে আবারও সম্ভাব্য অবস্থান নিশ্চিত হতে ১৭ দেশকে চিহ্নিত করে ৪ খুনীর অবস্থানের সন্ধানের জাল ফেলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।