২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিএনজি ব্যবহারে সঙ্কোচন নীতি নিয়েছে সরকার

  • ‍গাড়িতে এলপিজি জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে

রশিদ মামুন ॥ সিএনজি ব্যবহারে সংকোচনশীল নীতি গ্রহণ করছে সরকার। ভবিষ্যতে আর কোন সিএনজি স্টেশনের অনুমোদন না দেয়ার বিষয়ে শীঘ্রই সরকারী ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। সিএনজির বদলে এখন থেকে গাড়ি চলানোর জন্য লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজির ব্যবহার করে যানবহন চলাচল শুরু করেছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু জানেই না।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে তারা এলপিজির বহুমুখী ব্যবহারে উৎসাহিত করতে চায় সাধারণ মানুষকে। তবে এরজন্য কিছু নীতিমালা প্রয়োজন। এছাড়া দেশে কোন বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গেলে এর দামও সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

হতাশার বিষয় হচ্ছে দেশে পরিবহনে এলপিজি ব্যবহার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু জানেই না। কিভাবে এই গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে, কারা দাম নির্ধারণ করল তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে অকটেন এবং পেট্রোলের চেয়ে সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই গাড়িতে এলপিজি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

জানতে চাইলে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ জানান, আমি সম্প্রতি তেজগাঁওয়ে আমার গাড়ির জন্য জ্বালানি নিতে গেলে এলপিজির বিষয়টি আমার নজরে আসে। তাদের দাম জিজ্ঞেস করলে প্রতি লিটার ৫৯ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানায়। কিন্তু এভাবে অনুমোদন না নিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়। তবে দেশের বাইরে যুক্তরাজ্যে এলপিজি গাড়িতে ব্যবহার হয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখানেও এটা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্ভব। তিনি মনে করেন, এই দাম লিটার প্রতি ৫০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হলে অনেক সিএনজি চালিত গাড়িই এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহী হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিজির হিটিং ভ্যালু সিএনজির চেয়ে বেশি। এছাড়া সিএনজি বিস্ফোরণে যেমন প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয় এলপিজিতে তা অনেকাংশে কম। এছাড়া এলপিজি রক্ষণাগারের জন্য কম জায়গা প্রয়োজন। এতে করে এখন যেসব পেট্রোল বা সিএনজি স্টেশন রয়েছে সেখানেই এলপিজির ট্যাঙ্ক রাখা সম্ভব।

জানা যায়, এখন রাজধানী ঢাকাতে তমা’র যেসব ট্যাক্সিক্যাব চলছে তার সবগুলোই এলপিজিতে চালানো হয়। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও খুলনা, যশোর এবং রংপুরে গাড়িতে এলপিজি ব্যবহার হচ্ছে। মূলত পেট্রোল এবং অকটেনের দামের চেয়ে এলপিজি অনেক সাশ্রয়ী হওয়ায় গ্রাহক এর দিকে ঝুঁকছে। প্রতিলিটার পেট্রোল এবং অকটেন ৯৯ টাকা দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সমপরিমাণ এলপিজি সেখানে যাওয়া যাচ্ছে ৫৯ টাকায়। এছাড়া প্রতি ইউনিট সিএনজির দাম ৩০ টাকা হলেও তা দিয়ে এক লিটার পেট্রোল-অকটেন এবং এলপিজির সমান দূরত্ব অতিক্রম করা যায় না। এলপিজিতে রূপান্তরের জন্য সিএনজিতে রূপান্তরের এক-তৃতীয়াংশ খরচ হয়। এলপিজিতে রূপান্তরিত গাড়ি পেট্রোল এবং অকটেনেও চলে।

জানা গেছে সরকার সিএনজির সংকোচনশীল নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সিএনজির দাম বৃদ্ধি ছাড়াও নতুন আর কোন সিএনজি স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হবে না। গত সরকারের শেষ দিক থেকে নতুন সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে।

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্কটের কারণে সরকার পরিবহনের জ্বালানির বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে করে সিএনজিকে নিরুৎসাহিত করার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এলপিজি। তবে এই জ্বালানি ব্যবহারের কোন নীতিমালা নেই। এলপিজির পুরোটাই আমদানি করে ব্যবহার করতে হবে। এতে দেশীয় পেট্রোল বিক্রি করে সরকার যে মুনাফা করছে তা থেকে বঞ্চিত হবে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।

এখন দেশে মোট গ্যাসের পাঁচ ভাগ ব্যবহার হচ্ছে সিএনজিখাতে। এতে দৈনিক অন্তত ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজিতে ব্যবহার হচ্ছে। যা দিয়ে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত কেন্দ্রে ৪৫০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের সংরক্ষিত গ্যাসের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে জ্বালানির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে বিপাকে পড়তে হবে।

জানতে চাইলে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির পরিচালক এমএএস ইমন জানান, গ্যাস সঙ্কটের কথা মাথায় রেখেই সিএনজির সঙ্কোচনশীন নীতি নেয়া হচ্ছে। সিএনজিতে আর নতুন কোন সংযোগ না দেয়ার বিষয়ে শিঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে সরকারের তরফ থেকে। এতে করে এখন যে সিএনজি স্টেশন রয়েছে তার বাইরে আর কেউ সিএনজি স্টেশন করতে পারবেন না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে আমরা এলপিজি ব্যবহার বৃদ্ধি করতে চাই।