১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রণব মুখার্জী উদ্বোধন করবেন শাহাবুদ্দীনের প্রদর্শনী

  • দাউদ হায়দার

শাহাবুদ্দীনের নতুন ছবির প্রদর্শনী কলকাতায়, ২৩ আগস্টে। উদ্বোধন করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী, বেলা ১২টা ২০ মিনিটে, ওবেরয় গ্রান্ড হোটেলে। প্রদর্শনীর আয়োজক স্মিতা বাজোরিয়ার গ্যাঞ্জেস আর্ট গ্যালারি। প্রদর্শনীতে ৩৬টি ছবি। সাম্প্রতিক চিত্রণ। ছবিগুলো ইতোমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গেছে। শাহাবুদ্দীন যাচ্ছেন তিন দিন আগে, যথাস্থানে ফ্রেমিং, লাইটিং, স্পেস দেখতে।

বললেন, ‘কলকাতার আবহাওয়ার মেজাজ-চরিত্রও জানা দরকার, গ্যালারির পরিবেশে। স্মিতা বাজোরিয়া জানেন প্রদর্শনীর খুঁটিনাটি, তিনি বিশেষজ্ঞ। তাঁকে বিশদ বলতে হয় না। তিন দিন আগে যাচ্ছি একটু দেখভালের অছিলায়। আরও উদ্দেশ্য, শিল্পীবন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা।’

শাহাবুদ্দীনের আরও আশা প্রদর্শনীতে আসতে পারেন মৃণাল সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, প্রণবরঞ্জন রায়, রবীণ ম-লসহ শিল্পীসতীর্থ, বন্ধুরা।

স্মিতা বাজোরিয়া গ্যাঞ্জেস আর্ট গ্যালারিতে শাহাবুদ্দীনের আরও কয়েকটি প্রদর্শনী করেছেন গত কুড়ি বছরে।

কলকাতায় নয় শুধু, মুম্বাই, দিল্লীতেও। তিনি জানেন আজকের বিশ্বচিত্রবাজারে শাহাবুদ্দীনের কদর, বাজারদর।

কলকাতায় শাহাবুদ্দীনের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে হাজির হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় কন্যা শেখ রেহানা (লন্ডন থেকে), প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন এবং যাচ্ছেন (প্যারিস থেকে) শাহাবুদ্দীনের স্ত্রী সুলেখিকা আনা ইসলাম, দুই কন্যা চিত্র ও চর্যা। চিত্র নিজেও ছবি আঁকেন (প্যারিসে বামপন্থী ছাত্রছাত্রী নেত্রী হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিত)।

প্রদর্শনীও হয়েছে। বিক্রিও অভাবনীয়। তিনজনের যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার সব ব্যয়ভার গ্যাঞ্জেস আর্ট গ্যালারির স্মিতা বাজোরিয়ার। শিল্পীকে নয় কেবল, মহার্ঘ শিল্পীর পরিবারকেও দুধকলা দিয়ে পুষতে হয়, জানেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি প্রণব কুমার মুখার্জী কেন শাহাবুদ্দীনের চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনে উৎসাহী? কারণ আছে। শাহাবুদ্দীন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা (ওঁর সব ভাই-ই)। কমান্ডারও ছিলেন এবং তিনিই ১৬ ডিসেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান রেডিও স্টেশনে বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকা উড়িয়েছিলেন।

আজকের রাষ্ট্রপতি প্রণবের এসব অজানা নয়, তখন তিনি কলকাতায়, কংগ্রেসের তুর্কি। আমাদের পল্টুদার (প্রণব মুখার্জী) বৈবাহিক শিকড় বাংলাদেশে। গত বছর সস্ত্রীক (স্ত্রী শুভ্রা) বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। শুভ্রার আত্মীয়কুলের অনেকেই এখনও বাংলাদেশে। পল্টুদাকে উলুধ্বনি দিয়ে (জামাইকে) বরণ করা হয়।

পল্টুদা কি করে ভুলবেন বাংলাদেশকে? শিল্পী শাহাবুদ্দীন বাংলাদেশের। শাহাবুদ্দীনের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধক ওঁকেই মানায়। শাহাবুদ্দীনকে সতীর্থ ভাবেন। একাত্ম হন শাহাবুদ্দীনের মানবধর্ম চিত্রকলায়, উদ্বোধন করতে কলকাতায়, রাষ্ট্রপতি, প্রণব মুখার্জী।

মন খারাপ, খুব স্বাভাবিক। দিনকয়েক আগেই চলে গেলেন শিল্পী সুনীল দাস, সমবয়স্ক, বহুদিনের সতীর্থ, বন্ধু। ‘এক সঙ্গে, একাসনে সময় কাটিয়েছি, দুঃখভারাক্রান্ত মনে কলকাতায় যাচ্ছি, সুনীল নেই।

বলবে না দোস্ত, প্যারিসে পড়ে আছ কেন, চলে আস কলকাতায়। বিশ্ব জয় করেছ, তোমার জন্যে বাংলার মুকুট ঘরে ঘরে। সুনীলের চড়াকণ্ঠের ঘোষণা, সশব্দ হাসি ভোলার নয়। ভাবতেই পারছি না সুনীল নেই। কলকাতায়, প্রদর্শনীতে সারাক্ষণই মনে পড়বে বন্ধু সুনীল দাসকে।’ বলছিলেন প্যারিস প্রবাসী শিল্পী শাহাবুদ্দীন। গত বছরই তিনি ফরাসী সরকারের বহুমান্য অর্ডার দ্য লিঁজ খেতাব সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ‘সম্মানিত করে আমরা ধন্যÑ’ বলেছেন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে একটি ঘটনায় গোটা বাংলাদেশ স্তম্ভিত। সরকারের কর্তামহলেরও অনেকে জানে না। সাধারণ লোক তথা দর্শক তো নয়ই। ঢাকার বেঙ্গল গ্যালারি ঘুণাক্ষরেও কাউকে জানাননি শাহাবুদ্দীনের প্রদর্শনীর উদ্বোধকের নাম। জানতেন কেবল শিল্পী, শাহাবুদ্দীন। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় গ্যালারি ভিড়ভাট্টায় জমজমাট। প্রদর্শনী কে উদ্বোধন করবেন, নানা কানাকানি। বহু মন্ত্রী, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক উপস্থিত। উদ্বোধনীর মুহূর্তে ঘোষিত হলো, উদ্বোধন করবেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। খুব আমেজি মেজাজে, নরম কণ্ঠে শাবানা বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় আমার শূটিং চলছে, দুদিনের জন্য স্থগিত রেখে ঢাকায় এসেছি শাহাবুদ্দীনের ছবির উদ্বোধনী সন্ধ্যায়। শাহাবুদ্দীনের ছবি আমাকে কতটা আন্দোলিত করে, কেন করে, কারণ কি, নিশ্চয় সমূহ কারণ আছে।

শাহাবুদ্দীনের চিত্রকর্ম মানবসম্পদ।

লেখক : কবি, বার্লিন থেকে