২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুষ্টিয়ায় গড়ে উঠতে পারে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর

  • সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ ॥ রাজস্ব পাবে সরকার

এমএ রকিব/সাইদুল আনাম, কুষ্টিয়া ও দৌলতপুর থেকে ॥ কুষ্টিয়ায় গড়ে উঠতে পারে পূর্ণাঙ্গ একটি স্থলবন্দর। দৌলতপুরসহ কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এই স্থলবন্দর। যা গড়ে উঠতে পারে সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্তে। আর এটির নামকরণ হতে পারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারেই। এপারে বাংলাদেশ ভূখ-ের প্রাগপুর সীমান্ত আর ওপারে ভারতীয় ভূখ-ের শিকারপুর সীমান্ত। দু’দেশের মূল ভূখ-ের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে একচিলতে মাথাভাঙ্গা নদী। যার এপার-ওপারের দূরত্ব শুকনা মৌসুমে ১৫/২০ গজের বেশি নয়। কেবলমাত্র সরকারী উচ্চ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হলেই এলাকাটিকে স্থলবন্দর হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব। বন্দরটি গড়ে উঠলে এখান থেকে আদায় হতে পারে কোটি কোটি টাকার সরকারী রাজস্ব। সেইসঙ্গে অনগ্রসর এই এলাকায় হাজার হাজার বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ ঘটতে পারে ব্যাপক উন্নয়ন।

জানা গেছে, ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে প্রাগপুর সীমান্ত থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব অন্যান্য স্থলবন্দরের চেয়ে অনেক কম। তা ছাড়া ভারতেরও যে সমস্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়ে থাকে সে সমস্ত অঞ্চলের দূরত্বও অনেক কম। ফলে এখানে পণ্য পরিবহনে অনেক কম সময় ও কম ব্যয়ে আনানেয়া করা যাবে। এ ছাড়া এখানে হাজার হাজার দরিদ্র বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাস্তা তৈরিতেও সরকারকে কোন জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। আবার নতুন কোন বিজিবি ক্যাম্পও স্থাপন করতে হবে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর সরকার গঠন করলে দৌলতপুরবাসী আশা করেছিল প্রাগপুর সীমান্তে স্থলবন্দর স্থাপন হবে। যার নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু’ স্থলবন্দর। কিন্তু কোন এক কারণে সেসময় বিষয়টি আর এগোয়নি। যার ফলে এলাকাবাসীর স্থলবন্দরের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। এদিকে ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঐকমত্যের সরকার ক্ষমতায় এলে স্থলবন্দরের বিষয়টি পুনরায় সামনে চলে এসেছে।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের এমপি রেজাউল হক চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, প্রাগপুর সীমান্তে স্থলবন্দর হলে দৌলতপুরসহ কুষ্টিয়ায় উন্নয়ন সাধিত হবে। এ বন্দর দিয়ে মালামাল পরিবহনের ক্ষেতে ঢাকার দূরত্ব অনেকাংশে কমে যাবে। তাই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই বন্দর। তিনি বলেন, স্থলবন্দর করার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা প্রাগপুরে রয়েছে। ওপার ও এপারের মাঝে প্রয়োজন শুধু মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ছোট একটি সেতু। এ সেতু নির্মিত হলেই ওপারে সঙ্গে এপারের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ আওতায় চলে আসবে। এমপি জানান, এখানে স্থলবন্দর হলে প্রাগপুর সড়কের সঙ্গে ডাংমড়কা, হোসেনাবাদ, আল্লারদর্গা, ভেড়ামারা ও পাকশী লালনশাহ সেতু হয়ে ঢাকা পর্যন্ত সূচনা হবে বিশ্বরোডের। তিনি জানান, দৌলতপুরে স্থলবন্দর নির্মাণের দাবি জানিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের বেশ কয়েকটি অধিবেশনে বক্তব্যও রেখেছেন এবং ডিও লেটারও দিয়েছেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল ওই ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এক পত্র মারফত প্রাগপুরে একটি শুল্ক স্টেশন স্থাপন এবং ওপারে ভারতীয় অংশে এলসি স্টেশন খোলার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সম্মতকরণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করলেও বিষয়টি আর এগোয়নি। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগার আলী বলেন, প্রাগপুর সীমান্তে স্থলবন্দর হলে এ অঞ্চলে উন্নয়নের ধারা বয়ে যাবে। এ বন্দর দিয়ে বেনাপোলের চেয়েও পণ্য আনা-নেয়ায় যেমন কম সময় লাগবে, তেমনই ব্যয়ও হবে অনেক কম। তাছাড়া রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এলাকার দূরত্বও কমে যাবে অনেক।